বিজ্ঞাপন

৩৮.১১ কোটি টাকার নড়াইল জেলা পরিষদ বাজেট: উন্নয়ন ব্যয়ের চেয়ে প্রশাসনিক ব্যয় বেশি, নিজস্ব আয়ের ওপর জোর

  • স্টাফ রিপোর্টার : ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য নড়াইল জেলা পরিষদের ৩৮ কোটি ১১ লাখ ৫৫ হাজার ৭৫ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে।
  • বাজেটে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণমূলক খাতে বরাদ্দ থাকলেও বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রশাসনিক ও পরিচালন ব্যয়ের অংশ উল্লেখযোগ্য।
  • একই সঙ্গে নিজস্ব রাজস্ব আয় বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
৩৮.১১ কোটি টাকার নড়াইল জেলা পরিষদ বাজেট: উন্নয়ন ব্যয়ের চেয়ে প্রশাসনিক ব্যয় বেশি, নিজস্ব আয়ের ওপর জোর
ছবি: নড়াইল কণ্ঠ

নড়াইল জেলা পরিষদের ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ৩৮ কোটি ১১ লাখ ৫৫ হাজার ৭৫ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে জেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত উন্মুক্ত বাজেট অধিবেশনে জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোস্তাফিজুর রহমান আলেকের সভাপতিত্বে বাজেট ঘোষণা করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

ঘোষিত বাজেটে মোট আয় ও ব্যয়ের পরিমাণ সমান রাখা হয়েছে। জেলা পরিষদের নিজস্ব আয়, সরকারি অনুদান, উন্নয়ন প্রকল্প এবং অন্যান্য উৎস থেকে প্রাপ্ত অর্থের ভিত্তিতে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, জেলা পরিষদের আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে নিজস্ব রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাজার ইজারা, হাট-বাজার, জলমহাল, সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য খাত থেকে আয় বাড়ানোর পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে।

বাজেটে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে—

এসব খাতে পৃথক বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যাতে স্থানীয় জনগণের প্রত্যক্ষ উপকার নিশ্চিত করা যায়।

বাজেটের একটি বড় অংশ জেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, অফিস পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রশাসনিক ব্যয়ে বরাদ্দ রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সচল রাখতে প্রশাসনিক ব্যয় প্রয়োজনীয় হলেও উন্নয়ন ব্যয়ের তুলনায় এ ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষা করাই বড় চ্যালেঞ্জ।

বাজেটে বিভিন্ন চলমান উন্নয়ন প্রকল্প সম্পন্ন করার পাশাপাশি নতুন প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। জেলা পরিষদের নিজস্ব অর্থায়নের পাশাপাশি সরকারি অনুদান ও বিশেষ বরাদ্দের ওপরও নির্ভরতা বজায় থাকবে।

বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ অবকাঠামো এবং জনসেবামূলক স্থাপনা উন্নয়নে বরাদ্দকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

উন্মুক্ত বাজেট অধিবেশনে অংশগ্রহণকারীরা বাজেট বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বক্তারা বলেন, বাজেটের সফলতা কেবল বরাদ্দের ওপর নয়; বরং যথাসময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন, সুষ্ঠু তদারকি এবং জনগণের অংশগ্রহণের ওপরও নির্ভর করবে।

স্থানীয় উন্নয়ন বিশেষজ্ঞদের মতে, নড়াইল জেলা পরিষদের এ বাজেট বাস্তবায়ন যথাযথভাবে হলে জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে উন্নয়ন ব্যয়ের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত মনিটরিং ও স্বচ্ছ আর্থিক ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য।

বিজ্ঞাপন