বিজ্ঞাপন

নড়াইলে মাদরাসায় ৬ শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগ, শিক্ষক গ্রেফতার

  • নড়াইল শহরের ডুমুরতলা এলাকার তাফসির উদ্দিন হাফেজিয়া মাদরাসায় এক শিক্ষক কর্তৃক শিশু শিক্ষার্থীদের বলাৎকারের অভিযোগে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
  • অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ গাজীপুরের গাছা এলাকা থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক মাহবুবুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে।
  • প্রাথমিক তদন্তে একই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আরও পাঁচ শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
নড়াইলে মাদরাসায় ৬ শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগ, শিক্ষক গ্রেফতার
ছবি: নড়াইল কণ্ঠ

নড়াইল সদর উপজেলার ডুমুরতলা এলাকার তাফসির উদ্দিন হাফেজিয়া মাদরাসায় শিশু শিক্ষার্থীদের ওপর যৌন নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগে মাহবুবুর রহমান (২৫) নামে এক শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে নড়াইল সদর থানা পুলিশ। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে এক শিশুর পাশাপাশি একই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মাদরাসার আরও অন্তত পাঁচ শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।

গ্রেফতারকৃত মাহবুবুর রহমান নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের আলমগীর সরদারের ছেলে

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ আগস্ট রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে মাদরাসাটিতে এক শিশু শিক্ষার্থী যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। পরদিন, ২৮ আগস্ট, ভুক্তভোগী শিশুটির মা সন্তানের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষক মাদরাসা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান।

বিজ্ঞাপন

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে মাদরাসার আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে একই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আরও পাঁচ শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগের তথ্য পায় তদন্তকারী কর্মকর্তারা।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এক শিশুর মা বাদী হয়ে নড়াইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন

মামলা রুজুর পর নড়াইল সদর থানার ওসি (তদন্ত) অজয় কুমার কুন্ডুর নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল গাজীপুর মেট্রোপলিটনের গাছা থানা এলাকায় অভিযান চালায়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলা দায়েরের মাত্র ১০ ঘণ্টার মধ্যেই আত্মগোপনে থাকা অভিযুক্ত মাহবুবুর রহমানকে সেখান থেকে গ্রেফতার করা হয়।

নড়াইল সদর থানার ওসি (তদন্ত) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, গ্রেফতারের পর আসামিকে আদালতে সোপর্দ করার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত চলছে এবং তদন্ত শেষে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘটনার পর সরেজমিনে মাদরাসায় গিয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই নড়াইল শহরতলীর আরেকটি মাদরাসায় এক শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যুর অভিযোগ নিয়ে আলোচনা চলছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার জেলা শহরের ডুমুরতলার তাফসির উদ্দিন হাফেজিয়া মাদরাসায় শিক্ষক কর্তৃক একাধিক শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ সামনে আসায় নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং অভিযোগের সঙ্গে জড়িত অন্য কোনো ব্যক্তি বা তথ্য পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন