নড়াইলকণ্ঠ : গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন হিসেবে সংজ্ঞায়িত করলেই হয় না; দলমত, ধর্ম, বর্ণ ও পেশাভেদে সবাইকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে—এমনটিই মত দিয়েছেন নির্বাচনী বিশেষজ্ঞ ও অংশগ্রহণকারীরা। বক্তারা বলেন, অংশগ্রহণ ছাড়া গণতন্ত্র টেকসই হয় না এবং ভোটে নির্বাচিত হয়েও অনেক সময় জনপ্রতিনিধিরা স্বৈরচারী হয়ে ওঠেন, যা জনমতের প্রতি অবহেলাকে বাড়িয়ে তোলে।
তারা বলেন, রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে নাগরিকের দ্বিমত থাকা স্বাভাবিক, আর সেটি প্রকাশ করার স্বাধীনতাই গণতন্ত্রের শক্তি। তাই ভোটাররা পছন্দসই প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নিজের অধিকার প্রয়োগ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। সমাজের কোনো অংশকে বাদ দিয়ে যেমন উন্নয়ন সম্পূর্ণ হয় না, তেমনি কোনো গোষ্ঠীকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে দূরে রেখে গণতন্ত্রও শক্তিশালী হয় না।
এই প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে উপকূলীয় মৎস্যজীবী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু, তরুণ ও নতুন ভোটারসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ভোটদানের পদ্ধতি, ভোটের গুরুত্ব এবং ভোটার হিসেবে করণীয় বিষয়ে সচেতন করতে স্টেকহোল্ডারদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সোমবার (২৪ নভেম্বর ২০২৫) কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা পরিষদ হল রুম ‘সুগন্ধা’-তে আইএসডিই বাংলাদেশ আয়োজিত এবং আইএফইএস-এর সহযোগিতায় “ইনক্লুসিভ ভোটার এডুকেশন অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস” প্রকল্পের পরিচিতি সভায় এসব মন্তব্য করেন বক্তারা।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আইএসডিই নির্বাহী পরিচালক এস.এম. নাজের হোসাইন। প্রধান অতিথি ছিলেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চকরিয়া-পেকুয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিজিৎ দাশ, আইএফইএস ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর রোমেনা আমিন আর্চি প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন আইএসডিই মনিটরিং অফিসার সুপম বড়ুয়া।
বক্তারা বলেন, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণও সমান জরুরি। জনগণ সচেতন হলে কোনো অপশক্তি নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ বা বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তারা।
সভায় বক্তারা সকল দলমত-ধর্ম-বর্ণের মানুষকে ভোটাধিকার প্রয়োগে উৎসাহিত করতে কমিউনিটি-ভিত্তিক সচেতনতা কার্যক্রম বাড়ানোর আহ্বান জানান। এতে নাগরিকের আত্মবিশ্বাস ও গণতান্ত্রিক মর্যাদা আরও সুদৃঢ় হবে বলে মত দেন তারা।
উল্লেখ্য, আইএসডিই বাংলাদেশ আইএফইএস-এর সহযোগিতায় ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রান্তিক ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চকরিয়া, পেকুয়া ও মহেশখালী উপজেলায় “ইনক্লুসিভ ভোটার এডুকেশন অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস” প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের আওতায় মগ ভোটিং সেশন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, উঠান বৈঠক, মাইকিং, প্রচারপত্র বিতরণ, ধর্মীয় নেতাদের সাথে মতবিনিময়সহ সার্বিক সচেতনতা কর্মসূচি পরিচালিত হবে।