• 04 Feb, 2026

নড়াইলের দুই আসনে ভোটের সমীকরণ: নড়াইল-২ এ স্বতন্ত্র এগিয়ে, নড়াইল-১ এ বিএনপি শীর্ষে

নড়াইলের দুই আসনে ভোটের সমীকরণ: নড়াইল-২ এ স্বতন্ত্র এগিয়ে, নড়াইল-১ এ বিএনপি শীর্ষে

নড়াইলকণ্ঠ ডেস্ক ॥ আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নড়াইল জেলার দুইটি সংসদীয় আসন-নড়াইল-১ (৯৩) ও নড়াইল-২ (৯৪)-এ ভোটের মাঠে তৈরি হয়েছে ভিন্নধর্মী প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র।

বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ভোটারদের মতামত ও অতীত নির্বাচনী ফলাফলের আলোকে পরিচালিত মাঠ জরীপে দেখা গেছে, নড়াইল-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কলস প্রতীকে এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা, অন্যদিকে নড়াইল-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শীর্ষ অবস্থানে থাকতে পারেন। উভয় আসনেই দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে আসায় ভোটের লড়াই আরও জমে উঠেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নড়াইল জেলার দুটি সংসদীয় আসন (৯৪ নড়াইল-২ এবং ৯৩ নড়াইল-১)-এর কাস্টিং ভোট সম্পর্কে পূর্বাভাসমূলক বিশ্লেষণ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো। সংশ্লিষ্ট আসনের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামতের উপর ভিত্তি করে প্রণীত (নড়াইল-২ আসনে ৩০ জন এবং নড়াইল-১ আসনে ২৫ জন ব্যক্তির মতামত সংগ্রহ করা হয়)।

নড়াইল-২ আসন: ভোট প্রেডিকশন বিশ্লেষণ:
মোট ভোটার: ৩,৯০,৯৮৮ জন।
সম্ভাব্য কাস্টিং ভোট: ২,১৫,০৪৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে যার শতকরা হার দাঁড়ায় ৫৫%।
প্রার্থীর কাস্টিং ভোটের শতকরা হার (অনুমান নির্ভর):
ধানের শীষ প্রতীক- ২৯% ভোট (প্রায় ৬০ হাজার ভোট)।
দাঁড়িপাল্লা প্রতীক- ২৯% ভোট (প্রায় ৬২ হাজার ভোট)।
হাতপাখা প্রতীক- ৪% ভোট (প্রায় ১১ হাজার ভোট)।
কলস প্রতীক- ৩৬% ভোট (প্রায় ৭৯ হাজার ভোট)।
জাতীয় পার্টি সহ অন্যান্য ৪ জন প্রার্থী (মোট)-২% ভোট (প্রায় ৪ হাজার ভোট)।
উপরের অনুমান থেকে দেখা যায় যে নড়াইল-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী (কলস প্রতীক) মো: মনিরুল ইসলাম সর্বাধিক ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে (৩৬% কাস্টিং ভোট), তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন বিএনপি প্রার্থী (৩০% ভোট)। অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে জামায়াত প্রার্থী ৫% ভোট পেতে পারেন, আর বাকিরা মিলে-১০% এর কম ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নড়াইল-১ আসন: ভোট প্রেডিকশন বিশ্লেষণ:
মোট ভোটার: ২,৯৪,১৫৫ জন।
সম্ভাব্য কাস্টিং ভোট: ১,৬১,৭৮৫ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে যার শতকরা হার দাঁড়ায় ৫৫%।
প্রার্থী কাস্টিং ভোটের শতকরা হার (অনুমান নির্ভর):
ধানের শীষ- ৪৫% (প্রায় ৭৩ হাজার ভোট)।
দাঁড়িপাল্লা- ২৫% (প্রায় ৪০ হাজার ভোট)।
হাতপাখা- ১১% (প্রায় ১৮ হাজার ভোট)।
স্বতন্ত্র (কলস) ১৭% (প্রায় ২৭ হাজার ভোট)।
জাতীয় পার্টিসহ ৪জন (প্রায় ২% ৩ হাজার ভোট)।

এই পূর্বাভাস অনুযায়ী নড়াইল-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী সর্বাধিক ভোট পেতে পারেন (৪৫% কাস্টিং ভোট), দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন জামায়াত প্রার্থী (২৫% ভোট)। স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রায় ১৭% ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা তাকে তৃতীয় অবস্থানে রাখবে। হাতপাখা প্রার্থী (১১% ভোট) এবং জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য প্রার্থীরা তুলনামূলকভাবে খুব কম ভোট পেতে পারেন (২% ভোট)।

সার্বিক পর্যবেক্ষণ
উল্লিখিত দু’টি আসনের প্রেডিকশন বিশ্লেষণ থেকে কয়েকটি সাধারণ প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়:
ভোটার উপস্থিতি: নড়াইল-২ আসনে ভোটার উপস্থিতির হার কিছুটা বেশি হওয়ার পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে নড়াইল-১ আসনে তা কিছুটা কম হতে পারে। এটি নড়াইল-২ আসনে ভোটারদের আগ্রহ ও জোরাল প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের তৎপরতা তুলনামূলক বেশি থাকার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।

প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী: নড়াইল-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ মনিরুল ইসলাম শীর্ষ অবস্থানে থাকতে পারেন, আর নড়াইল-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম শীর্ষে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ, একটি আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও অন্য আসনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী একটি দলীয় প্রার্থী।
দ্বিতীয় স্থানের শক্তি: জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ উভয় আসনেই জোরাল প্রতিদ্বন্দ্বী মাঠ জরীপে উঠে এসছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভূমিকা: নড়াইল-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোট শেয়ার রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অত্যন্ত উচ্চ, যা দলীয় প্রার্থীদের ছাড়িয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে নড়াইল-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী তৃতীয় অবস্থানে থাকলেও ১৭% ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা ছিলো রিপোর্ট লেখার ৩দিন আগ পর্যন্ত। অন্যান্য দলের অবস্থা: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা দুটি আসনেই তুলনামূলকভাবে কম ভোট পাওয়ার ইঙ্গিত করেছে মাঠ জরীপে। বিশেষ করে নড়াইল-১ আসনে জাতীয় পার্টিসহ ৪জন প্রার্থী মিলিয়ে মোট ভোটের মাত্র ২% পাচ্ছেন বলে পূর্বাভাস রয়েছে।

সার্বিকভাবে, এই বিশ্লেষণ থেকে প্রতীয়মান হয় যে নড়াইল-২ এবং নড়াইল-১ আসনে ভোটের লড়াইয়ের চিত্র ভিন্ন। একদিকে নড়াইল-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শক্ত অবস্থানে থেকে বহুদলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন, অন্যদিকে নড়াইল-১ আসনে একটি প্রতিষ্ঠিত দলের (বিএনপি) প্রার্থী এগিয়ে থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। দু’টি আসনেই জামায়াতের প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভোট ধরে রাখতে পারেন। এসব পূর্বাভাস প্রাথমিক ধারণা হিসেবে দেওয়া হয়েছে- আসন্ন নির্বাচনে চূড়ান্ত ফলাফলে পরিবর্তন ঘটতে পারে, তবে এই বিশ্লেষণ ভোটারদের সম্ভাব্য আচরণ ও প্রতিদ্বন্দ্বীতার একটা চিত্র তুলে ধরছে মাত্র। ৭ম থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ও ৯৩ নড়াইল-১ এবং ৯৪ নড়াইল-২ এ দুইটি আসনের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ভোটারদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে উপর উল্লেখিত ভোট প্রেডিকশন করা হয়।