চলুন, এর পেছনের ইতিহাসটা একটু ভালোভাবে বুঝে নেওয়া যাক।
'প্রচারক' মানেই সংসারবিরাগী সন্ন্যাসী!
আরএসএসে ‘প্রচারক’ পদটা মোটেই সাধারণ নয়। এরা হলেন মূল সংগঠনের মেরুদণ্ড। এদের কাছেই সংঘের আদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্ব। কিন্তু এই দায়িত্বের মূল্য দিতে হয় একটা বড় ত্যাগের মাধ্যমে—বিয়ে বা সংসার জীবন একেবারেই নিষিদ্ধ।
এই নিয়ম চালু হয় দ্বিতীয় সর-সঙ্ঘচালক মাধব গোলওয়ালকরের সময় থেকে। তিনি ছিলেন রামকৃষ্ণ মিশনের ভক্ত, আর সেই প্রভাবেই সংঘে নিয়ে এসেছিলেন ‘ব্রহ্মচর্য’ ও ‘সম্পূর্ণ আত্মনিয়োগ’-এর আদর্শ।
ড. জিষ্ণু বসু, আরএসএসের এক জ্যেষ্ঠ নেতা, বলছেন, "একজন প্রচারকের কাজই এমন যে তাঁকে সংগঠনের জন্য জীবন উৎসর্গ করতে হয়। সংসার টানলে সেটা সম্ভব হয় না।"
🟠 তাহলে দিলীপ ঘোষ কীভাবে বিয়ে করলেন?
দিলীপ ঘোষ ১৯৮৪ সালে সংঘের প্রচারক হন। কিন্তু ২০১৫ সালে যখন তাঁকে বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি করা হয়, তখন থেকেই তিনি আর ‘প্রচারক’ নন। কারণ, রাজনীতি ও আরএসএসের প্রচারক পদ একসাথে চলতে পারে না। আরএসএস এমনকি মাসিক ভাতাও দেয় প্রচারকদের—যা রাজনীতিতে গেলে বন্ধ হয়ে যায়। অতএব, দিলীপ ঘোষ এখন "সাধারণ মানুষ", আর তাঁর বিয়েতে সংঘের নিয়ম অনুযায়ী কোনও বাধা নেই।
🟠 ‘মায়ের ইচ্ছাতেই বিয়ে’
বিজেপির ঘনিষ্ঠ নেতাদের মতে, দিলীপ ঘোষের মা অনেক দিন ধরেই চাইছিলেন ছেলের ঘর বাঁধুক। শেষমেশ সেই মায়ের ইচ্ছাতেই এই সিদ্ধান্ত। ঘরোয়া অনুষ্ঠানে, নিউ টাউনে আইনি ও বৈদিক মতে বিয়ে সারেন দিলীপ ও রিঙ্কু। বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার সহ অনেক সিনিয়র নেতাই হাজির ছিলেন তাঁদের শুভেচ্ছা জানাতে।
🟠 বিজ্ঞাপনহীন প্রেম, ব্রহ্মচর্যে বাঁধা!
বহু নামজাদা বিজেপি নেতা যেমন অটল বিহারী বাজপেয়ী, নরেন্দ্র মোদী, তাঁরাও সংঘের প্রচারক ছিলেন—এবং বিয়ে করেননি। তবে লালকৃষ্ণ আদবাণী সংসারী হন, কারণ তিনি প্রচারক জীবন থেকে আগেই সরে এসেছিলেন।
প্রচারক থেকে সংসার জীবনে যাওয়া একেবারেই নতুন নয়। পশ্চিমবঙ্গেও এমন কিছু মুখ আছেন—কৈলাশ বিজয়বর্গীয় ও অরবিন্দ মেনন—যারা প্রচারক থেকে সংসারী হন।
🟠 নারীরা? সংঘে তাদের স্থান নেই!
আরএসএস পুরোপুরি পুরুষদের সংগঠন। তাই প্রচারক সংক্রান্ত নিয়ম-কানুনও কেবল পুরুষদের জন্য। মহিলাদের জন্য আছে আলাদা সংগঠন—রাষ্ট্র সেবিকা সমিতি।
🔖 উপসংহার
দিলীপ ঘোষের বিয়ে নিয়ে যতই আলোচনা হোক, বিষয়টা মূলত সংঘের কাঠামোগত এক ব্যতিক্রমের গল্প। যেখানে সন্ন্যাস-জীবনের পথ ছেড়ে কেউ সংসারের দিকে পা বাড়ান। এটি এক অর্থে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, আবার রাজনৈতিক জীবন ও সংঘের নিয়মের মাঝখানে এক নিরপেক্ষ রূপান্তরও।