• 01 Dec, 2025

নড়াইলে যাত্রা শুরু করলো ‘আল-আজহার ইন্টারন্যাশনাল হিফজুল কুরআন একাডেমি’ - ইসলাম ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে আদর্শ মানুষ গড়ার অঙ্গীকার

নড়াইলে যাত্রা শুরু করলো ‘আল-আজহার ইন্টারন্যাশনাল হিফজুল কুরআন একাডেমি’ - ইসলাম ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে আদর্শ মানুষ গড়ার অঙ্গীকার

নড়াইলকণ্ঠ ॥ “কল্যাণময় জীবনের সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ি, ইসলাম ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে আমরা তৈরি করি আদর্শ মানুষ”-এ শ্লোগানকে ধারণ করে নড়াইল সদরের মালিবাগে উদ্বোধন হলো আল-আজহার ইন্টারন্যাশনাল হিফজুল কুরআন একাডেমির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম।

নড়াইল সদর উপজেলার মালিবাগ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় “কল্যাণময় জীবনের সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ি, ইসলাম ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে আমরা তৈরি করি আদর্শ মানুষ”—এই শ্লোগানে যাত্রা শুরু করলো ‘আল-আজহার ইন্টারন্যাশনাল হিফজুল কুরআন একাডেমি’।

রোববার (৩০ নভেম্বর) সকাল ১০টায় পবিত্র কুরআন শিক্ষা ও আধুনিক জ্ঞানার্জনের অভিন্ন লক্ষ্য সামনে রেখে প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, তরুণ উদ্যোক্তা হাফেজ শেখ নুর উদ্দিন আহমদ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর বাঘারপাড়া থেকে আগত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হাফেজ বাকী বিল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন-আলহাজ্ব মাওলানা সানাউল্লাহ, মহাদ্দিস, শা.মা. কা. মাদ্রসা, মাওলানা আমিনুর রহমান, নবগঙ্গা ডিগ্রী কলেজ, লোহাগড়া, কে. এম. আফসার উদ্দিন, সুপার, কাগজীপাড়া, নড়াইল সদর, মাওলানা আব্দুল কাদের, ইমাম, রূপগঞ্জ জামে মসজিদ প্রমুখ ধর্মীয় শিক্ষক, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও এলাকাবাসী।

শিশুদের চরিত্র গঠনে কুরআন শিক্ষার গুরুত্ব দিয়ে প্রধান অতিথি বলেন, ১ম থেকে ৮ম শ্রেণিই একটি শিশুর চরিত্র ও নৈতিকতার বীজ রোপণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই বয়সে কুরআন শিক্ষাকে জীবনমুখী করে গড়ে তুললে শিশুরা সৎ, সত্যবাদী ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে বেড়ে ওঠে।

তিনি বলেন, “কুরআন শিক্ষা শুধু তিলাওয়াত নয়; এটি সঠিক তাজবিদ, নৈতিকতা, শিষ্টাচার, মানবতা, দায়িত্ববোধ ও আল্লাহভীতি শেখায়।”

তিনি অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “স্কুল–মাদরাসার পাশাপাশি ঘরেও সন্তানকে কুরআন শেখার পরিবেশ দিতে হবে। কারণ সন্তানের জন্য সবচেয়ে বড় উপহার হলো সঠিক নৈতিক শিক্ষা।”

প্রিয় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন- “তোমরা কুরআনকে হৃদয়ে ধারণ করবে, নিয়মিত পড়বে, বুঝে পড়বে এবং জীবনে প্রয়োগ করবে। সেটাই আমাদের সাফল্য।”

সমাজ–অভিভাবক–শিক্ষার্থীর সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজনের উপর গুরুত্ব দিয়ে বিশেষ অতিথিরা বলেন, ছোটবেলা থেকেই শিশুদের কুরআনের সাথে পরিচয় করানো গেলে- 
✔ তারা সদয় ও সহনশীল হয়
✔ দায়িত্ববান ও নৈতিক নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে
✔ হালাল–হারামের পার্থক্য জেনে চলে
✔ আত্মবিশ্বাসী ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম হয়

তারা বলেন, “শুধু শিক্ষক নয়, পরিবার ও সমাজ মিলে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে প্রতিটি শিশু কুরআন শেখাকে সহজ ও স্বাভাবিক মনে করবে। এর ফলে প্রতিটি ঘর আলোকিত হবে কুরআনের নূরে।”

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বিশেষ অতিথিদের উপদেশ—
“কুরআন শেখা কখনো বন্ধ করবে না। প্রতিদিন কয়েক লাইন হলেও পড়বে। কুরআন তোমাদের জীবনের দিকনির্দেশনা।”

কুরআন শিক্ষা -ভবিষ্যতের বিনিয়োগ এর উপর গুরুত্ব দিয়ে অন্যান্য অতিথিরা জানান, শিশুর চরিত্র গঠনের ভিত্তি তৈরি হয় ১ম থেকে ৮ম শ্রেণিতে। এই সময় কুরআন শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিলে তারা সঠিক পথে পরিচালিত হয় এবং ভবিষ্যতে সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

তারা বলেন,“কুরআন শিক্ষা একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। আজ শেখালে আগামী ২০–৩০ বছর এর সুফল পরিবার ও সমাজ পাবে।”

অভিভাবকদের উদ্দেশে অনুরোধ ছিল-
👉 শুধু ডিগ্রি নয়,
👉 ভালো মানুষ গড়ার দিকেও নজর দিতে হবে।

শিক্ষার্থীদের প্রতি তাদের আহ্বান- “নিয়মিত কুরআন পড়বে, মুখস্থ করবে, এবং শেখা অনুযায়ী জীবন গড়বে। আজকের এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তোমরা সে প্রতিজ্ঞা করবে-এই প্রত্যাশাই আমাদের।”