বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজে অনুষ্ঠিত হলো স্পোর্টস কার্নিভাল-২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা : ঢাকা সেনানিবাসস্থ বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ, নির্ঝর আয়োজিত স্পোর্টস কার্নিভাল-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গণভোটে প্রশ্ন কী: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ভোটারদের একটি পৃথক ব্যালটে চারটি মূল সংস্কার বিষয়ের উপর ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিতে বলা হবে। এই প্রশ্নের মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ (সাংবিধানিক সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং এতে অন্তর্ভুক্ত ৮৪ দফা সংস্কার প্রস্তাবের জনগণ সমর্থন আছে কি না তা নির্ধারিত হবে।
হ্যাঁ-না ভোটের উদ্দেশ্য: নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে এই হ্যাঁ-না গণভোটটি আয়োজনের পেছনে উদ্দেশ্য হলো রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও নির্বাচনী ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কারের ব্যাপারে জনগণের সরাসরি মতামত গ্রহণ করা। অন্তর্বর্তী সরকার একটি গণমতের ভিত্তিতে পরবর্তীকালে সংস্কার বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করতে চাইছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা: জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্তর্বর্তী সরকার গণভোট ও নির্বাচনের যুগপৎ আয়োজনকে “নতুন বাংলাদেশের দ্বার উন্মোচনের মহোৎসব” হিসেবে বর্ণনা করেছে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে ভাষণে জনগণকে সংস্কারমুখী ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে আহ্বান জানিয়েছেন এবং বলেছেন “হ্যাঁ নির্বাচন করলেই একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার দ্বার খুলবে”। তবে সরকারপক্ষের এই প্রচারণা নির্বাচন কমিশন ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, কেননা অন্তর্বর্তী প্রশাসনের নিরপেক্ষ থাকা উচিত বলে মতামত রয়েছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়া: বিরোধী দল বিএনপি ও তাদের মিত্ররা এই সংস্কার গণভোটকে সমর্থন জানিয়ে জনগণকে হ্যাঁ ভোটের আহ্বান করেছে, অন্যদিকে সদ্য নিষিদ্ধ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ পুরো নির্বাচন ও গণভোট প্রক্রিয়াকে অবৈধ ও প্রহসন বলে নিন্দা জানিয়েছে। নতুন উদীয়মান নাগরিক দল ও জামায়াতে ইসলামীও সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি ও সমর্থকদের অনিশ্চয়তা ভোটের প্রতিযোগিতা ও স্থিতিশীলতা সম্পর্কে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
সাংবিধানিক ও আইনি প্রেক্ষাপট:
বাংলাদেশের সংবিধানে গণভোটের সুস্পষ্ট বিধান নেই এবং ১৯৯১ সালের পর এই প্রথম জাতীয় পর্যায়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার প্রেসিডেন্টের মাধ্যমে ১৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে জুলাই জাতীয় সনদ (সাংবিধানিক সংশোধনী) বাস্তবায়ন আদেশ জারি করে গণভোটের আইনি ভিত্তি তৈরি করেছে। অতীতে ১৯৭৭ ও ১৯৯১ সালে গণভোটের উদাহরণ রয়েছে, তবে সেগুলো ভিন্ন প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
সম্ভাব্য প্রভাব: ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে নতুন সংসদ ৮৪ দফা সংস্কার বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে এবং নির্বাহী ক্ষমতার ভারসাম্য, স্বচ্ছ নির্বাচন এবং ন্যায়বিচার ব্যবস্থায় পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত হবে। প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা সীমিত করা, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনা, দুই কক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রবর্তন, নারীদের আসন বৃদ্ধি, ও স্বাধীন বিচার বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলো তখন বাস্তবায়িত হবে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে। অন্যদিকে ‘না’ ভোট জয়ী হলে এসব সংস্কার বাধ্যতামূলক হবে না এবং ভবিষ্যতে ক্ষমতাসীন দল স্বেচ্ছায় করলে তবেই পরিবর্তন আসবে। ফলে গণতান্ত্রিক সংস্কার প্রক্রিয়া জারি রাখা ও জনগণের আস্থা অর্জনে এই গণভোটের ফলাফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হচ্ছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও গণভোটের প্রশ্ন
বাংলাদেশে সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একযোগে গণভোট আয়োজন এই প্রথম। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবং একই দিনে একটি সাংবিধানিক সংস্কার বিষয়ক গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। ভোটাররা সংসদীয় ভোটের পাশাপাশি পৃথক রঙিন পেপারে চারটি মূল বিষয়ের ব্যাপারে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ মতামত দেবেন। গণভোটের প্রশ্নটি সরকারিভাবে নিম্নরূপ: “আপনি কি ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সাংবিধানিক সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ এবং উক্ত সনদে বর্ণিত নিম্নোক্ত সংস্কার প্রস্তাবসমূহের সাথে একমত?”- এরপর (ক) থেকে (ঘ) পর্যন্ত চারটি উপবিষয় তালিকাভুক্ত থাকবে।
এই চারটি বিষয়ে সংকেতপূর্ণ ভাষায় সংক্ষিপ্ত সংস্কারগুলোর সারমর্ম তুলে ধরা হয়েছে ব্যালট পেপারে। উপবিষয়গুলো হলো- (ক) নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গঠন July Charter অনুযায়ী করা; (খ) পরবর্তী সংসদ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট করা (জাতীয় নির্বাচনে পাওয়া ভোটের আনুপাতিক হারে ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠন এবং ভবিষ্যতে যে কোনো সাংবিধানিক সংশোধনীতে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্মতির বাধ্যবাধকতা); (গ) July Charter -এ রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য হওয়া ৩০টি প্রস্তাব পরবর্তী সরকারগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক করা (যার মধ্যে আছে নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, উপপ্রধানমন্ত্রী ও কমিটি প্রধান পদে বিরোধী দলের সদস্যদের নিয়োগ, প্রধানমন্ত্রীর পদে দুই মেয়াদের সীমা, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকারের সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ); এবং (ঘ) Charter- এ উল্লিখিত বাকি সংস্কারগুলোও বিজয়ী দলসমূহের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা।
গণভোটে মূলত জনগণকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে তারা এই সর্বসম্মত সাংবিধানিক সংস্কার প্যাকেজটি সমর্থন করেন কি না। প্রশ্নটি একক হলেও এর আওতায় ৮৪টি পৃথক পৃথক সংস্কার প্রস্তাব নিহিত আছে। এর মধ্যে ৪৭টি প্রস্তাব সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং বাকি ৩৭টি আইন বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে কার্যকর করা যাবে বলে সরকার জানিয়েছে। অতএব গণভোটে ‘হ্যাঁ’ রায় মানে জনগণ পুরো সংস্কার কর্মসূচিকে সমর্থন করেছে, আর ‘না’ রায় মানে এই কর্মসূচি কার্যকর না করার পক্ষে জনগণের মতামত।”
ঐতিহাসিকভাবে, বাংলাদেশে জাতীয় স্তরে গণভোটের নজির খুব কম। স্বাধীনতার পরমাত্র দু’টি উল্লেখযোগ্য গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে- ১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনে তাঁর প্রতি জনগণের আস্থা যাচাইয়ের নামে একটি গণভোট, এবং সর্বশেষ ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি বনাম সংসদীয় শাসন পদ্ধতি নির্ধারণে একটি সাংবিধানিক গণভোট। ১৯৯১-এর গণভোটের ফলাফলের ভিত্তিতেই বাংলাদেশ রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় গণতন্ত্রে ফিরে যায়। এরপর দীর্ঘ ৩৫ বছর কোনো গণভোট হয়নি। উপরন্তু, ২০১১ সালের ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান থেকে গণভোটের বাধ্যতামূলক ধারা বাতিল করা হয়, ফলে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোট এখন আর আইনগতভাবে অপরিহার্য নয়। এ অবস্থায় ২০২৬ সালের এই গণভোটটি একটি অনন্য দৃষ্টান্ত, যা আইনগতভাবে কার্যকর করতে বিশেষ ব্যবস্থার দরকার পড়েছিল।
গণভোট আয়োজনের পেছনের কারণ ও প্রস্তুতি
২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনী সঙ্কট এবং গণআন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে দেশে একটি ব্যাপক সংস্কারের চাহিদা সৃষ্টি হয়। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে ব্যাপক গণঅসন্তোষ ও সহিংস আন্দোলনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার পদত্যাগে বাধ্য হয় এবং “মনসুন বিপ্লব” নামে পরিচিত ওই গণঅভ্যুত্থানের পর ৮ আগস্ট ২০২৪ তারিখে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। এই সরকারের প্রধান লক্ষ্য ছিল ভঙ্গুর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন ও দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা ফেরানো।
নতুন অন্তর্বর্তী প্রশাসন ক্ষমতা নিয়েই রাষ্ট্রীয় যন্ত্রে সংস্কার আনার কথা বলতে শুরু করে। ২০২৪ সালের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে তারা ছয়টি পৃথক সংস্কার কমিশন গঠন করে- সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, দুর্নীতিদমন, পুলিশ ও সরকারব্যবস্থা সংস্কারের জন্য। জানুয়ারি ২০২৫-এ এই কমিশনগুলোর প্রাথমিক সুপারিশ আসে, যেখানে ১৬৬টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব চিহ্নিত হয়। এসব সুপারিশের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য তৈরির লক্ষ্যে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন (NCC) নামের একটি প্ল্যাটফর্ম যাত্রা শুরু করে। ঐকমত্য কমিশন ধারাবাহিক বৈঠকে প্রায় ৩০টি রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা করে এবং দীর্ঘ পর্যালোচনার পর ১৭ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে “জুলাই জাতীয় সনদ” নামে একটি ঐকমত্যের দলিল উপস্থাপন করে।
জুলাই সনদে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যার মধ্যে ৪৮টি সরাসরি সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত এবং বাকিগুলো আইন কিংবা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়নযোগ্য। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এই সনদটিতে ২৪টি রাজনৈতিক দল সই করলেও নানা বিষয়ে বহু দলের “মতভেদ নোট” বা দ্বিমত রয়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ, দ্বিকক্ষ বশিষ্ট সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনের পদ্ধতি নিয়ে বিএনপি আপত্তি জানায় (তারা ভোটের শতাংশের বদলে নিম্নকক্ষে আসন অনুপাতে উচ্চকক্ষ চেয়েছিল)। আবার মৌলিক নীতি ও রাষ্ট্রের পরিচয় সংক্রান্ত প্রস্তাব (যেমন জাতীয়তাবাদের সংজ্ঞায় “বাংলাদেশি” শব্দটি যুক্ত করা এবং সকল ভাষাকে স্বীকৃতি দেয়া) নিয়ে কিছু দলের আপত্তি ছিল। এমনও অভিযোগ ওঠে যে সনদে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি এবং সইকারীদের সনদকে চ্যালেঞ্জ না করার অঙ্গীকার চাওয়া হয়েছিল- এসব কারণে কয়েকটি দল সনদে স্বাক্ষর করেনি।
এই মতপার্থক্যেও প্রেক্ষিতে সর্বপ্রথম ভাবনা ছিল, যে ইস্যুতে কোনো দল দ্বিমত পোষণ করেছে, ভবিষ্যতে সে দল ক্ষমতায় এলে সে ক্ষেত্রে সংস্কার বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে না। কিন্তু এমন শর্তে ঐকমত্য না আসায়, শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয় যে জনগণের রায়ের মাধ্যমে বিষয়টি নির্ধারিত হবে। অর্থাৎ, গণভোটের উদ্যোগ নেয়া হয় যাতে সরাসরি জনপ্রত্যক্ষ সমর্থন পেলে পরবর্তী যে সরকারই আসুক, তারা সব প্রস্তাব মানতে আইনীভাবে বাধ্য থাকে। অন্তর্বর্তী মন্ত্রিসভার উপদেষ্টারা ১৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে এই গণভোট একই দিনে করার প্রস্তাব অনুমোদন করেন এবং রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে July National Charter (Constitutional Reform) Implementation Order, ২০২৫ জারি করা হয়। এই আদেশের মাধ্যমেই নির্বাচন কমিশন গণভোট আয়োজনের ক্ষমতা ও প্রয়োজনীয় আইনকাঠামো পেয়েছে। পরবর্তীতে সংসদ নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নির্ধারণ করা হলে একই দিনে গণভোট হবে বলে ঘোষণা আসে।
নির্বাচন কমিশন Referendum Ordinance , ২০২৫ প্রণয়ন করে ভোটগ্রহণের বিধি-পদ্ধতি স্থির করেছে। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, সাধারণ নির্বাচনের নির্বাচনী আচরণবিধির অনুরূপ নিয়ম গণভোট প্রচারণায়ও প্রযোজ্য হবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষে বা বিপক্ষে প্রচারণা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, শুধুমাত্র জনসচেতনতা তৈরির তথ্যমূলক কাজের অনুমতি আছে। কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সুস্পষ্ট করেছেন যে গণভোটে সরকার আলাদা কোনো তহবিল ব্যয় করেনি এবং আইন অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞাগুলোই কার্যকর করা হচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা ও অবস্থান
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার, যার নেতৃত্বে রয়েছেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, এই গণভোট ও সংস্কার এজেন্ডার প্রধান উদ্যোক্তা। বৃহত্তর জনসমর্থন অর্জনে সরকার শুরু থেকেই সংস্কারমুখী বক্তৃতা ও প্রচারণা চালিয়ে আসছে। প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস জাতির উদ্দেশে ভাষণে এই নির্বাচন ও গণভোটকে “জনগণের ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশের মহোৎসব” এবং “আগামী শত বছরের পথ নির্ধারণী” হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সরাসরি বলেছেন যে জনগণের ‘হ্যাঁ’ ভোট দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের চাবিকাঠি এবং “বর্বরতা থেকে সভ্যতায় উত্তরণ” এই সংস্কারপ্যাকেজের লক্ষ্য।
তবে সরকারের এভাবে প্রকাশ্যে ‘হ্যাঁ’ পক্ষ অবলম্বন করাকে কেন্দ্র করে বিতর্কও সৃষ্টি হয়েছে। ঐতিহ্যগতভাবে অন্তর্বর্তী/তত্ত্বাবধায়ক সরকার নির্বাচনের সময় নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে থাকে। কিন্তু এবার সংস্কারের প্রশ্নে পুরো অন্তর্বর্থী মন্ত্রিসভাকেই একপ্রকার পক্ষ নিতে দেখা গেছে। প্রধান উপদেষ্টার সাথে বিশেষ সহকারী হিসেবে কাজ করা বিশ্লেষকরা দেশব্যাপী জন সচেতনতা কর্মসূচি চালাচ্ছেন। বিশেষ দূত বা সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তারা বিভিন্ন সভা-সেমিনারে সংস্কারের পক্ষে বক্তব্য রেখেছেন। উদাহরণত, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রিয়াজ নিজেই গণসচেতনতা কার্যক্রমের সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করছেন এবং সংস্কারের পক্ষে তাগিদ দিচ্ছেন।
সরকারি মেশিনারির একাংশও এই প্রচারণায় যুক্ত হয়ে পড়লে নির্বাচন কমিশন হস্তক্ষেপ করে নির্দেশ দেয় যে কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী সরাসরি প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না। ২৯ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন প্রজ্ঞাপন জারি করে সতর্ক করে দেয় যে গণভোটে নির্দিষ্ট পক্ষে প্রচার চালালে আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এরপর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সকল মন্ত্রণালয়-দপ্তরে নির্দেশনা পাঠানো হয় এই নিষেধাজ্ঞা পালন নিশ্চিত করতে।
সরকারের পক্ষে যুক্তি দেয়া হচ্ছে, তারা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে নয়, বরং রাষ্ট্রের স্থায়ীত্ব ও গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ইউনূস সরকার দাবি করছে, এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে আর কোনো শাসক একক আধিপত্য কায়েম করতে পারবে না এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত হবে। তাই তারা জনগণকে উৎসাহিত করছে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিতে। প্রধান উপদেষ্টার অফিস থেকে প্রচারিত একটি ভিডিও বার্তায় ইউনূস বলেছেন, “একটি ‘হ্যাঁ’ ভোট দেশের বৈষম্য, শোষণ ও নির্যাতন থেকে মুক্তি দেবে এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ার দ্বার খুলে দেবে”- যা সমালোচকদের মতে অতিরঞ্জিত ও বাস্তবায়ন-পূর্ব শর্ত হিসেবে ভুল প্রত্যাশা তৈরি করছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও অন্তর্বর্তী সরকারের এই ভূমিকা নজর কেড়েছে। পশ্চিমা কূটনীতিক ও পর্যবেক্ষকরা প্রশংসার পাশাপাশি সতর্কতাও দিয়েছেন যে বিরোধীদের পর্যাপ্ত অংশগ্রহণ ছাড়া সংস্কারের সাফল্য অনিশ্চিত। ইউনূস প্রশাসন অবশ্য আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিকে খুব বড় সমস্যা বলে মানতে রাজি নয়। বরং তাঁরা এটিকে গণ-আন্দোলনের অবশ্যম্ভাবী পরিণতি হিসেবে দেখাতে চায় যেখানে “দুর্নীতিগ্রস্ত পুরনো শাসকগোষ্ঠী” বিদায় নিয়েছে এবং জনগণ নিজেরাই রাষ্ট্রের রূপ পুনর্নিমাণ করবে।
প্রধান রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর প্রতিক্রিয়া
১৩তম সংসদ নির্বাচন এবং যুগপৎ গণভোটের প্রেক্ষিতে দেশের রাজনৈতিক প্রান্তিক বিন্যাস অনেকটাই বদলে গেছে। বহু দশক ধরে দেশ শাসন করে আসা আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না- সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছে এবং নেত্রী শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত। দিল্লিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা ও তাঁর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় বাংলাদেশের এই নির্বাচনকে “প্রহসন” আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। আওয়ামী লীগ দাবি করছে যে অন্তর্বর্তী সরকার সংবিধানবহির্ভূতভাবে ক্ষমতা দখল করেছে এবং এখন নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে এই গণভোটের আশ্রয় নিয়েছে। তারা সমর্থকদের নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানাচ্ছে এবং অনেক স্থানে আওয়ামী ঘনিষ্ঠরা সম্ভাব্য অস্থিরতা তৈরিরও হুমকি দিচ্ছে বলে অন্তর্বর্তী প্রশাসনের অভিযোগ।
অপরদিকে, হঠাৎ করে রাজনৈতিক ময়দানে অনেকখানি জায়গা পেয়ে গেছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বিএনপি এ নির্বাচনে ২৯৮টির মধ্যে ২৮৮ আসনে প্রার্থী দিয়েছে এবং একক বৃহত্তম প্রতিদ্বন্দ্বী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। দলটির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান দীর্ঘ নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে দলকে চাঙ্গা করছেন এবং নির্বাচনী প্রচারে পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছেন। বিএনপি ইতোমধ্যে জামায়াতে ইসলামী সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের জোট ভেঙে দিয়ে স্বাধীনতার চেতনা ও ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয়তাবাদের কথা জোরেশোরে বলছে-যাতে করে আওয়ামী লীগের ধর্মনিরপেক্ষ সমর্থকদের নিজেদের দিকে টানা যায়। তারেক রহমান ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রকাশ্যে ভাষণে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের কাছে আবেদন করেছেন যে “আপনাদের নেতা দেশ ছেড়েছেন, আমরা কঠিন সময়ে আপনাদের পাশে আছি”। একটি জরিপ অনুযায়ী উল্লেখযোগ্য অংশ আওয়ামী ভোটার এখন সিদ্ধান্তহীন বা বিএনপির দিকে ঝুঁকছে।
বিএনপি স্পষ্টভাবে এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ সমর্থন করছে। তারা জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় শুরু থেকেই সক্রিয় ছিল এবং চূড়ান্ত সনদে স্বাক্ষরও করেছে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এক নির্বাচনী জনসভায় বলেছেন, “আমরা যে জুলাই সনদে সই করেছি, সেটিকে সম্মান করতে হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্রে যেমন ধানের শীষে (বিএনপির প্রতীক) সিল মারবেন, আলাদা ব্যালটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েও সংস্কারের পক্ষে জাতীয় সম্মতি প্রদর্শন করবেন”। তিনি আরো বলেছেন, “গণঅভ্যুত্থানের ১৪০০ শহীদের রক্তে পবিত্র রংপুরসহ সারা দেশের জনসাধারণের এই বদল এসেছে; এটি কেবল একটি দলের বদলে নয়, সবার মিলিত প্রচেষ্টায়। তাই পরিবর্তনের ধারা বজায় রাখতে বিএনপিকে জয়ী করে দেশের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে, এবং একইসঙ্গে জুলাই সনদের প্রতি সম্মান জানিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে”। বিএনপি নেতৃত্ব বিশ্বাস করছে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা সীমিত করার মতো বিষয়গুলো তাদের দীর্ঘদিনের দাবি, যা এই সনদে রয়েছ- তাই এটি পাশ হলে ভবিষ্যতে গণতন্ত্র সুরক্ষিত হবে এবং তাদের শাসনে বাধাহীন ক্ষমতা চর্চার সুযোগ কমবে।
জামায়াতে ইসলামী, যারা ২০১৩ সাল থেকে নিবন্ধন বাতিলের ফলে বিচ্ছিন্ন ছিল, এবার পুনরায় সংগঠিত হয়ে ২২৪টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে এবং বিএনপি থেকে আলাদা নিজস্ব জোটেও রয়েছে। জামায়াত অতীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপির সঙ্গী ছিল এবং এই সংস্কার প্যাকেজেও তারা বেশ কিছু লাভের সম্ভাবনা দেখছে- যেমন আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে ছোট দল হিসেবেও উচ্চকক্ষে আসন পাওয়ার সুযোগ। জামায়াতের আমীর শফিকুর রহমান নির্বাচনী প্রচারে বলেছেন যে তাদের দল নারী ক্ষমতায়ন, নতুন প্রশাসনিক বিভাগ (কুমিল্লা বিভাগ) ও বিমানবন্দর নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে - যা ঔঁষু ঈযধৎঃবৎ -এর অংশ বিশেষও বটে। তাঁরা জনগণকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে হ্যাঁ ভোট দিতে আহ্বান করছেন। অবশ্য বিএনপির সঙ্গে কৌশলগত দূরত্ব রাখতে গিয়ে তারেক রহমান প্রকাশ্যে জামায়াতের অতীত ভূমিকার সমালোচনাও করছেন এবং তাদেরকে কট্টরপন্থা নিয়ে সতর্ক করে ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন।
নতুন যে দলটির উত্থান উলে খযোগ্য, তা হলো জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)- যা মূলত মনসুন বিপ্লবের ছাত্রনেতাদের দ্বারা গঠিত একটি দল। এই এনসিপি মাত্র ৩২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তাদের প্রভাব আলোচনা-সমালোচনায় প্রবল। এনসিপি নিজেদের “দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র” প্রতিষ্ঠার শ্লোগান দিয়েছে এবং একটি সম্পূর্ণ নতুন সংবিধানের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। তারা ঔঁষু ঈযধৎঃবৎ- এর অনেক প্রস্তাবকেই স্বাগত জানালেও কিছু ক্ষেত্রে আরো দূরে যেতে চায়। উদাহরণত, তারা চায় পূর্ণ মানবাধিকারের সুরক্ষা, সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার ইত্যাদি বিষয় শক্তভাবে সংবিধানে প্রতিষ্ঠিত হোক। এনসিপি এবং জামায়াত মিলে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও আনুপাতিক নির্বাচনব্যবস্থা বাস্তবায়নে জোর দিচ্ছে, যাতে বড় দুই দলের আধিপত্য ভেঙে নতুন শক্তির উত্থান ঘটে। এ বিষয়ে তারা অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গেও অংশীদারিত্বমূলক আলোচনার মধ্যে ছিল।
নাগরিক সমাজ ও বিশে ষকরাও এই গণভোট নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করছেন। দেশের বৃহত্তম এনজিও ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ তাঁর এক মন্তব্যে বলেন, “একটি মাত্র ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে অসংখ্য বড় বড় সাংবিধানিক পরিবর্তন অনুমোদন করানো এক ধরণের চাতুরী” বলে তিনি মনে করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভোটাররা ব্যালট পেপারে মাত্র চারটি লাইন দেখবেন, অথচ সেগুলোর আড়ালে ৮৪টি সংস্কার আছে- যেমন কুমিল্লা ও ফরিদপুরকে নতুন বিভাগ করা, উপরি সংসদ গঠন, ইত্যাদি বিষয়ে বেশিরভাগ ভোটার বিস্তারিত জানেন না। সালেহ প্রশ্ন তোলেন, কেউ হয়তো নির্দিষ্ট কিছু সংস্কার চায় কিন্তু অন্য কিছু চায় না- একসাথে প্যাকেজ আকারে ভোট নিতে গেলে ভোটারদের প্রকৃত মত প্রকাশের সুযোগ সংকুচিত হয়। তিনি আরো মনে করেন “শুধু হ্যাঁ ভোট দিলেই দেশে আমূল পরিবর্তন আসবে”- এমন প্রচারণা বিভ্রান্তিকর, কারণ পরিবর্তন বাস্তবায়ন নির্ভর করবে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক আচরণ ও জবাবদিহিতার উপর।
প্রবীণ অর্থনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবী প্রফেসর রেহমান সোবহান এ উদ্যোগকে কিছুটা কটাক্ষ করে বলেছেন, “এভাবে জটিল সব সংস্কার সাধারণ মানুষের বোধগম্যের বাইরে থেকে যাচ্ছে, পুরো প্রক্রিয়াটা সিরিয়াসনেসের অভাব আছে”। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সেমিনারে তিনি বলেছেন, নির্বাচনী প্রচারে কোনো বড় জোটই এসব সংস্কার নিয়ে জনগণকে স্পষ্ট করে বলছে না, বরং ব্যাংকের কর্মচারী আর কিছু এনজিও কর্মীকে দিয়ে গ্রামে-গঞ্জে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে বুঝানো হচ্ছে। সোবহানের মতে অন্তর্বর্তী সরকার ঔঁষু বিপ্লবের নেতাদের সন্তুষ্ট করতে একটি “দেখনদারি ব্যবস্থা” করেছে, কিন্তু আসল পরিবর্তন তো পরের পাঁচ বছরের সরকারকেই করতে হবে - তাদের সদিচ্ছা ও যোগ্যতা না থাকলে শুধু ভোট দিয়ে কিছু হবে না। তিনি সতর্ক করেছেন, “গণতন্ত্র সুসংহত করতে হলে মূল খেলোয়াড় সবাইকে নিয়েই সমঝোতায় আসতে হবে। দুঃখজনকভাবে, এই মুহূর্তে একটি প্রধান পক্ষ (আওয়ামী লীগ) পুরোপুরি বাইরে ছিটকে গেছে”। সোবহানের এই মত বপযড়বং কিছু পশ্চিমা বিশে ষকের, যারা বলছেন আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় না আনতে পারলে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা কঠিন হবে।
সাংবিধানিক ও আইনি দিক: গণভোটের বৈধতা
বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধানে গণভোট আয়োজনের প্রত্যক্ষ কোনো ধারা নেই যা একটি সরকারকে এভাবে জনগণের ভোটে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা দেবে। ১৯৯১ সালের ১২তম সংশোধনীর সময় একটি বিধান ছিল যে কিছু মৌলিক সাংবিধানিক পরিবর্তনের আগে গণভোট করতে হবে, কিন্তু ২০১১ সালে সে বিধান বাতিল হয়। ফলে আইনগতভাবে এই ২০২৬ গণভোটটি বিশেষ ব্যবস্থায় আনতে হয়েছে। রাষ্ট্রপতি তাঁর সাংবিধানিক ক্ষমতা বলে সংসদ ভঙ্গ অবস্থায় অর্ডিন্যান্স জারি করেছেন - ঔঁষু ঘধঃরড়হধষ ঈযধৎঃবৎ ওসঢ়ষবসবহঃধঃরড়হ ঙৎফবৎ, ২০২৫ – যার আওতায় এই গণভোটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে নির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে নির্বাচন কমিশন এই গণভোট আয়োজন ও ফল গণনার ব্যবস্থা করবে এবং ‘হ্যাঁ’ ফলাফল এলে পরবর্তী পার্লামেন্টকে সংশোধনী আনতে আইনী বাধ্যবাধকতা থাকবে।
নির্বাচন কমিশনও পরবর্তীতে একটি গণভোট বিধিমালা ২০২৫ প্রকাশ করেছে, যাতে ভোটের পদ্ধতি, প্রচার-নিয়ম, অপরাধ ও শাস্তি সবই নির্বাচনী আইন অনুযায়ী সংজ্ঞায়িত হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞরা অবশ্য কিছু প্রশ্ন তুলেছেন- যেমন, বাংলাদেশের সংবিধানে গণভোটের ব্যবস্থা বাদ দেওয়া হলেও এই ধরনের জাতীয় ঢ়ষবনরংপরঃব- এর ফল আইনি ভাবে কতটা জোরালো হবে? অনেকে বলছেন, যেহেতু এটি সরাসরি সংবিধান সংশোধন নয়, তাই গণভোটের রেজাল্ট কার্যকর করতে হলেও পার্লামেন্টকেই সংশোধনী পাস করতে হবে। আর যেহেতু আগেই আদেশে বলা আছে যে পরবর্তী সংসদ “সংবিধান সংস্কার পরিষদ” হিসেবে কাজ করবে এবং ১৮০ কর্মদিবসের মধ্যে সংশোধনী সম্পন্ন করবে, তাই গণভোট মূলত রাজনৈতিক ও নৈতিক কর্তৃত্ব প্রদান করবে।
তবে আদেশ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে সংস্কার সম্পন্ন না হলে কী হবে, সে বিষয়ে প্রথমে স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল না। পরবর্তীতে সরকার পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দেয়া হয় যে ৯ মাস বা ২৭০ দিনের মধ্যে সংশোধনী না হলে অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক প্রস্তুত একটি সংশোধনী বিল স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাস হয়েছে বলে গণ্য হবে। এ ধরনের ধারা অবশ্য বিতর্ক উস্কে দিয়েছে- কারো মতে এটি পরোক্ষভাবে অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতা বৃদ্ধি ও মেয়াদ বাড়ানোর ফন্দি, যদিও সরকার জোর দিয়ে বলছে গণভোটের ফলে তাদের মেয়াদ বাড়বে না এবং নতুন নির্বাচিত সরকারই ক্ষমতা নেবে।
বাংলাদেশের সর্বশেষ অভিজ্ঞতা ১৯৯১ সালের গণভোটের ক্ষেত্রে ছিল- তখন সংসদে ১২তম সংশোধনী বিল পাসের পর কিন্তু রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে গণভোটের মাধ্যমে জনমত যাচাই করা হয়। এবারের পরিস্থিতি আলাদা; এখন সরাসরি নির্বাচনের দিনই গণভোট হচ্ছে। আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত ছিল নিরপেক্ষ থেকে শুধু প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা, কিন্তু তারা যেহেতু একটি নির্দিষ্ট ফলাফলের পক্ষে প্রচারণায় নেমেছে, তাই নৈতিকভাবে এটি প্রশ্ন তুলেছে। তবু অনেকে মনে করেন, ব্যাপক জনমতের ভিত্তিতে সংস্কারগুলো অনুমোদন করাতে পারলে ভবিষ্যতে কেউ সহজে এগুলো বাতিল করতে পারবে না- কাজেই দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এটি একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
ভবিষ্যৎ গণতন্ত্র, নির্বাচন ও ভোটার আস্থা
বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় নির্বাচন ও এই যুগান্তকারী গণভোট দেশটির গণতান্ত্রিক যাত্রাপথে এক সন্ধিক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশ-বিদেশের বিশ্লেষকরা বলছেন এটি “গত ১৭ বছরে প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবাধ নির্বাচন” হওয়ার সম্ভাবনা। এক দশকের বেশি সময় পর ভোটাররা সত্যিকার অর্থে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, এই ভোটের মাধ্যমেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্যাকেজ জনগণের আদালতে উঠেছে- যা পাশ হলে রাষ্ট্রকাঠামোতে প্রজন্মান্তরের পরিবর্তন সূচিত হবে।
‘হ্যাঁ’ ভোটের জয় সম্ভাব্যভাবে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে কিছু মূলগত পরিবর্তন আনবে। প্রথমত, নির্বাহী ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর দুই মেয়াদ বা ১০ বছরের সীমা ও প্রধানমন্ত্রী এবং দলীয় প্রধান পদ পৃথকীকরণের প্রস্তাব কার্যকর হলে একব্যক্তির দীর্ঘকাল ক্ষমতায় থাকার প্রবণতা রোধ হবে। এটা ভবিষ্যতে আর কোনও “একদলীয় শাসন” বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক কর্তৃত্ববাদী শাসন গড়ে ওঠার ঝুঁকি কমাতে পারে। দ্বিতীয়ত, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার (যা ২০১১ সালে বাতিল হয়েছিল) পুনঃস্থাপিত হবে- এতে করে আগামী নির্বাচনগুলো সকল দলের অংশগ্রহণে অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনরায় ফিরিয়ে আনার বিষয়টি দেশের বিরাট জনগোষ্ঠী ও বড় রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘদিনের দাবিও ছিল, যা বাস্তবায়িত হলে নির্বাচন নিয়ে সংঘাত কমে আসার আশা করা হচ্ছে।
তৃতীয়ত, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা প্রচলন হলে আইন প্রণয়নে অতিরিক্ত পর্যালোচনা এবং ক্ষুদ্র দলগুলোর প্রতিনিধিত্বের সুযোগ তৈরি হবে। প্রস্তাবিত ১০০ আসনের উচ্চকক্ষ আনুপাতিক ভোটের ভিত্তিতে গঠিত হলে যে সমস্ত দল নিম্নকক্ষ (৩০০ আসনের সাধারণ সংসদ) থেকে বাদ পড়বে বা কম আসন পাবে, তারাও ভোটের মোট শতাংশের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষে কণ্ঠ পাওয়ার সুযোগ পাবে। বিশেষ করে জামায়াতের মতো নিষিদ্ধ দল আবার বৈধভাবে রাজনীতিতে ফিরে আসছে, কিংবা নতুন এনসিপি- এসব ছোট-মাঝারি শক্তি এভাবে রাষ্ট্রপরিচালনায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে। উচ্চকক্ষের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হবে- ভবিষ্যতে সংবিধান সংশোধন করতে গেলে শুধু নিম্নকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ নয়, উচ্চকক্ষের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থনও লাগবে। এতে করে কোনো একদলীয ় সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার ইচ্ছেমতো সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে না, তাই সংবিধানের স্থায়িত্ব ও মৌলিক কাঠামোর সুরক্ষা বাড়বে।
চতুর্থত, এই সংস্কার প্যাকেজে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও প্রশাসনিক সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতিগুলো আছে (যেমন সর্বোচ্চ আদালতের নিজস্ব সচিবালয় স্থাপন, উচ্চ আদালত বেঞ্চ বিকেন্দ্রীকরণ, স্বাধীন বিচারক নিয়োগ কমিশন গঠন, প্রশাসনে স্থায়ী সংস্কার কমিশন ইত্যাদি), সেগুলো বাস্তবায়িত হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফল দিতে পারে। দুর্নীতিদমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ইত্যাদি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ক্ষমতাসীন দলের একক নিয়ন্ত্রণ কমে যাবে; শীর্ষ পদগুলোতে নিয়োগে সরকার ও বিরোধী দলের যৌথ কমিটির সুপারিশ বা রাষ্ট্রপতির স্বাধীন বিবেচনার ভূমিকা বাড়বে। এগুলো প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
‘না’ ভোটের জয় হলে ছবিটা ভিন্ন হবে। সে ক্ষেত্রে পরবর্তী সরকার আইনত এসব সংস্কার মানতে বাধ্য থাকবে না। এক্ষেত্রে সংস্কারের ভবিষ্যৎ পুরোপুরি রাজনৈতিক সরকারের সদিচ্ছা ও সংসদীয় সমর্থনের উপর নির্ভর করবে। যদি বিএনপি বা সংস্কারপন্থী জোট ক্ষমতায় আসে, তারা চাইলে নিজেরাই অনেক প্রস্তাব আইনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে পারে-যেমন অবিলম্বে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন, বা প্রধানমন্ত্রী পদে মেয়াদ সীমা ইত্যাদি। কিন্তু আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকায় ক্ষমতাসীনরা তাদের সুবিধা বিবেচনায় কিছু পরিবর্তন এড়িয়েও যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, বিএনপি জুলাই সনদের সব প্রস্তাবে পুরোপুরি একমত ছিল না- যেমন প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান পদ বিচ্ছিন্ন করার ব্যাপারে তারা দ্বিমত পোষণ করেছে। যদি গণভোটে না জেতে এবং বিএনপি ক্ষমতায় যায়, তারা চাইলে এ প্রস্তাব বাস্তবায়ন নাও করতে পারে। একইভাবে আওয়ামী লীগ যদি ভবিষ্যতে ফিরে আসে, এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়নে তাদের আগ্রহ নাও থাকতে পারে। সুতরাং ‘না’ ভোট মানে বর্তমান সংস্কার এজেন্ডা ঝুলে যাওয়া এবং পুরনো কাঠামো কোন পরিবর্তন ছাড়াই বহাল থাকা।
ভোটারদের আস্থা ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতার জন্য এই নির্বাচন ও গণভোট দুটোই পরীক্ষাস্বরূপ। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের নির্বাচনগুলোতে সহিংসতা, কারচুপি ও পক্ষপাতের অভিযোগে ভোটারদের আস্থা নষ্ট হচ্ছিল। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর অনেকেই ভোটকেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়েছিলেন। এবারের অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন আপাতত নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। নির্বাচন কমিশন প্রায় ৫০০ বিদেশী পর্যবেক্ষক আমন্ত্রণ করেছে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের জন্য। প্রধান উপদেষ্টা নিজেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন “এটাই হবে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ ভোট”।
তবু কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ - দেশের একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল এবং তার বিশাল সমর্থকগোষ্ঠী এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের বাইরে রয়ে গেছে। আওয়ামী লীগপন্থী বহু ভোটার দ্বিধায় ভুগছেন- ভোটে অংশ নেবেন কি না, কাকে ভোট দেবেন, কিংবা ভোট দিতে গেলে তাঁদের চিহ্নিত হয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি হবে কি না। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, একদলীয় বলয়ের এই পরিস্থিতি পরবর্তীকালে নতুন সরকারের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে এবং পুনরায় সংঘাতের বীজ বপন হতে পারে। শেখ হাসিনা নিজে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন যে “যে সরকার বাদ দিয়ে ক্ষমতায় আসবে, সে দেশকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারবে না, দীর্ঘমেয়াদে অস্থিরতা বাড়বে”।
অন্যদিকে, বিএনপি-জামায়াত জোট ও নতুন দলগুলো এই সুযোগকে “ক্লিনস্লেট” হিসেবে দেখছে। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিকে ধরে নিয়ে তারা পুরো ভোটব্যাংক দখলের চেষ্টা করছে এবং “পরিবর্তন”কে মূল শ্লোগান বানিয়েছে। যদি সত্যিই ভোট অবাধ ও সুষ্ঠু হয়, তাহলে হয়তো জনগণের আস্থা কিছুটা ফিরবে এবং গণতান্ত্রিক ক্ষমতার পালাবদল ঘটতে দেখা যাবে- যা গত দেড় দশকে দেখা যায়নি। বিশেষ করে যুবসমাজ যারা মনসুন বিপ্লবের মাধ্যমে পরিবর্তন চেয়েছিল, তারা এই নির্বাচন-গণভোটকে তাৎপর্যপূর্ণ দৃষ্টিতে দেখছে। অনেকে মনে করছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারমূলক পদক্ষেপগুলো আংশিক সফল হলেও ভবিষ্যতের রাজনীতিকদের জন্য একটি বার্তা যাবে- স্বেচ্ছাচারিতা ও জবাবদিহিহীন শাসনের দিন শেষ। ভোটাররাও বুঝতে পারবেন যে তাঁদের সম্মিলিত মত প্রকাশ বড় পরিবর্তন আনতে সক্ষম।
সার্বিকভাবে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোট বাংলাদেশে একটি দ্বৈত গণরায় প্রদান করবে- একদিকে কে হবে আগামী শাসক দল, অন্যদিকে রাষ্ট্রের শাসন কাঠামো কোন পথে যাবে। ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ যে ফলই আসুক, এটি দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে। যদি জনগণ সংস্কারের পক্ষে রায় দেয়, তবে নতুন সরকার সেটা বাস্তবায়নের গুরুদায়িত্ব নিয়ে ক্ষমতায় আসবে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে চাপের মুখে থাকবে। আর যদি জনগণ এই প্যাকেজ প্রত্যাখ্যান করে, তবে আগামী সরকারকে নিজ উদ্যোগেই সংস্কারের পথে আসতে হবে, নতুবা পুরনো সমস্যাগুলো অব্যাহত থেকে জনঅসন্তোষ পুনরায় জাগার ঝুঁকি থাকবে। তাই এই গণভোটকে অনেকেই “গণতন্ত্রের রিসেট বাটন” হিসেবে দেখছেন - যা সঠিকভাবে চাপতে পারলে বাংলাদেশ হয়তো একটি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যবস্থার দিকে এগোতে পারে। আর ব্যর্থ হলে দেশ আবারও বিভাজন ও অনিশ্চয়তার চক্রে আটকে পড়তে পারে। জনগণের মতের ভিত্তিতে নতুন সামাজিক চুক্তি রচনার এই প্রচেষ্টা সফল হলে তা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতেও একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে বিশ্লেষকরা আশাবাদী।
সরকার ও নির্বাচন কমিশন এ মুহূর্তে নিরবচ্ছিন্ন, শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রস্তুুতিমূলক কাজ শেষ পর্যায়ে এনেছে। ১২৭ মিলিয়ন (১২.৭ কোটি) ভোটারের জন্য ব্যালট পেপার ছাপানো, কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন- সবই চলছে। ভোটের দিন ফলাফলের দিকে শুধু বাংলাদেশ নয়, আন্তর্জাতিক মহলও নজর রাখবে। একটি অংশগ্রহণমূলক, সহিংসতামুক্ত ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন-গণভোট হলে বাংলাদেশ তার গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথে বড় পদক্ষেপ নেবে। আর সেই সঙ্গে গণভোটে প্রদত্ত জনগণের রায় দেশকে কোন পথে চালনা করবে- তা স্থির করবে আগামী দিনের রাজনৈতিক নিয়তি। জনগণ সত্যিই যদি বদল চেয়ে থাকে, তবে ব্যালটেই তার উত্তর মিলবে- হ্যাঁ, না কিংবা সংশয়- আগামীদিনে বাংলাদেশ কোন পথে হাঁটবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা : ঢাকা সেনানিবাসস্থ বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ, নির্ঝর আয়োজিত স্পোর্টস কার্নিভাল-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করতে নির্বাচন ভবনে পৌঁছেছে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল।
সাভারের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড রিসার্চ (নিটার)-এ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে বহুল প্রতীক্ষিত স্বেচ্ছাসেবী রক্তদান সংগঠন নিটার ব্লাড ডোনেশন সোসাইটি (এনবিডিএস)।