স্টাফ রিপোর্টার : ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদনের অভিযোগে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লক্ষ্মীপাশা বাজারে একটি বেকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদনের প্রমাণ পাওয়ায় মেসার্স জাগ্রত ফুড প্রোডাক্ট বেকারিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে পরিচালিত এ অভিযানের নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নড়াইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শামীম হাসান।
অভিযান চলাকালে দেখা যায়, খাদ্য উৎপাদনের স্থানটি অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে পরিচালিত হচ্ছিল। খাদ্য তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ, রং, রাসায়নিক দ্রব্য এবং উৎপাদন সরঞ্জাম অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় রাখা হয়েছিল। এমন পরিবেশে উৎপাদিত খাদ্যসামগ্রী মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
ভোক্তা আইনের ৪২ ও ৪৩ ধারায় কী বলা হয়েছে?
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৪২ ধারায় বলা হয়েছে, মানুষের জীবন বা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কোনো দ্রব্য খাদ্যপণ্যের সঙ্গে মেশানো কিংবা আইনে নিষিদ্ধ কোনো উপাদান ব্যবহার করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এ অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, অথবা অনধিক দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
অন্যদিকে, ৪৩ ধারায় বলা হয়েছে, মানুষের জীবন বা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এমন কোনো প্রক্রিয়ায় পণ্য উৎপাদন বা প্রক্রিয়াকরণ করাও অপরাধ। এ অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, অথবা অনধিক এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ড দেওয়ার বিধান রয়েছে।
প্রশ্ন হলো, খাদ্য উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরা কি ভোক্তা আইনের এসব ধারা সম্পর্কে অবগত নন? যদি অবগত থাকেন, তাহলে মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের ক্ষতির আশঙ্কা জেনেও কেন নিষিদ্ধ বা অস্বাস্থ্যকর পদ্ধতিতে খাদ্য উৎপাদন করছেন? সচেতনতার অভাব নাকি লাভের আশায় স্বাস্থ্যঝুঁকিকে উপেক্ষা করা হচ্ছে—এ প্রশ্ন এখন ভোক্তাদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে।
অভিযান শেষে সহকারী পরিচালক শামীম হাসান বলেন, ক্রেতা-ভোক্তার অধিকার সংরক্ষণ, বাজারে দ্রব্যমূল্যের তদারকি এবং পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
এ সময় অভিযানে উপস্থিত ছিলেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি উৎপাদক ও ব্যবসায়ীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত বাজার তদারকিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।