বিজ্ঞাপন

নড়াইলে আবাসিক মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীর মৃত্যু: পরিবারের মারধরের অভিযোগ, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন শিক্ষক পুলিশ হেফাজতে

  • নড়াইল সদর উপজেলার একটি আবাসিক মাদ্রাসায় ১৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
  • পরিবারের অভিযোগ, মাদ্রাসায় মারধরের কারণে শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোরে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
  • অভিযোগের পর তিন শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
নড়াইলে আবাসিক মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীর মৃত্যু: পরিবারের মারধরের অভিযোগ, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন শিক্ষক পুলিশ হেফাজতে
ছবি: নড়াইল কণ্ঠ

নড়াইল প্রতিনিধি : নড়াইল সদর উপজেলার একটি আবাসিক মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত ১৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পরিবারের দাবি, মাদ্রাসার শিক্ষকদের মারধরের কারণে শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। ঘটনার পর মাদ্রাসার তিন শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

নিহত শিক্ষার্থী নড়াইল সদর উপজেলার বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি আবাসিক মাদ্রাসার ছাত্র ছিল।

যেভাবে ঘটনার শুরু

বিজ্ঞাপন

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ভোররাতে শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে জানিয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্বজনেরা এসে তাকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন।

হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোরে নেওয়ার পরামর্শ দেন। যশোরে নেওয়ার পথে বিকেল প্রায় ৩টার দিকে শিশুটির মৃত্যু হয়।

পরিবারের অভিযোগ কী?

নিহত শিক্ষার্থীর বাবা সৈয়দ ইকরাম আলী অভিযোগ করেন, আগের দিন বিকেলেও তিনি ছেলের সঙ্গে দেখা করেছিলেন এবং একসঙ্গে নামাজ আদায় করেছিলেন। তখন তার ছেলের কোনো শারীরিক অসুস্থতা ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।

তার ভাষ্য, রাতে মাদ্রাসায় মারধরের কারণে ছেলে গুরুতর আহত হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সন্তান গুরুতর অসুস্থ হওয়ার পরও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ দ্রুত পরিবারকে খবর দেয়নি। পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান।

তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ যা বলছে:

অভিযোগ ওঠার পর নড়াইল সদর থানা পুলিশ মাদ্রাসার তিন শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায়।

পুলিশ হেফাজতে নেওয়া শিক্ষকেরা হলেন— ইউসুফ হায়দার (৩৭), হাসিবুর রহমান (৩০), ফাহাদ শেখ (৩২)।

নড়াইল সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তিন শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয়েছে

পুলিশ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীর মরদেহ নড়াইল জেলা হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মাদ্রাসার মুহতামিম নাজমুস সাহাদাত আল মামুনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তিনি প্রথমে পরে কথা বলার কথা জানিয়ে ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তদন্তের দিকে নজর

এই ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মারধরের অভিযোগ উঠলেও এখন পর্যন্ত তদন্ত শেষ হয়নি। পুলিশ ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই মৃত্যুর কারণ এবং অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।

নড়াইলকণ্ঠ এই ঘটনার তদন্ত ও আইনি অগ্রগতির বিষয়ে পরবর্তী তথ্য প্রকাশ করবে।

বিজ্ঞাপন