বিজ্ঞাপন

কালিয়ার সাতবাড়িয়ায় আধিপত্যের দ্বন্দ্বে হামলা, পুরুষশূন্য গ্রাম

  • নড়াইলের কালিয়া উপজেলার সাতবাড়িয়া গ্রামে জমিজমা বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
  • প্রতিপক্ষের হামলায় একাধিক বাড়িঘর ও দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আহত হয়েছেন অন্তত ১২ জন।
  • নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক পুরুষ গ্রাম ছেড়ে আশপাশের এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন।
কালিয়ার সাতবাড়িয়ায় আধিপত্যের দ্বন্দ্বে হামলা, পুরুষশূন্য গ্রাম
ছবি: নড়াইল কণ্ঠ

স্টাফ রিপোর্টার : জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ও গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার সাতবাড়িয়া গ্রাম এখন আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে। দুই পক্ষের সংঘর্ষ, হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় গ্রামের পরিবেশ থমথমে হয়ে উঠেছে। হামলার শিকার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় বহু পরিবার নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের বিভিন্ন বাড়িঘরে হামলার স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। কোথাও টিনের বেড়া কুপিয়ে ছিন্নভিন্ন করা হয়েছে, কোথাও সিমেন্টের চালা ও ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ফেলে রাখা হয়েছে। কয়েকটি বাড়ির উঠানে ভাঙা চেয়ার, টেবিল, ফ্যান, টেলিভিশন ও অন্যান্য গৃহস্থালি সামগ্রী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামের বাসিন্দা সাইফুল ফরাজী ও রুহুল ফরাজীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। একই সঙ্গে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছিল। সম্প্রতি বিরোধ চরম আকার ধারণ করলে শনিবার বিকেল ও রোববার সকালে দুই দফায় সংঘর্ষ এবং হামলার ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রুহুল ফরাজীর সমর্থকরা হামলা চালিয়ে অন্তত সাতটি বাড়িঘর ও দোকানে ভাঙচুর করে। হামলায় টিনের বেড়া, চালা, ফ্রিজ, টেলিভিশন, ফ্যান, চেয়ারসহ বিভিন্ন মালামালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

হামলার শিকার পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর থেকে গ্রামে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক পুরুষ সদস্য গ্রাম ছেড়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন। ফলে বেশ কয়েকটি পরিবার কার্যত নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

এক নারী ভুক্তভোগী বলেন, “রাতে ঘুমাতে ভয় লাগে। পুরুষ মানুষ বাড়িতে নেই। কখন আবার হামলা হয় সেই আতঙ্কে আছি।”

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে রুহুল ফরাজীর পক্ষ। তাদের দাবি, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষই প্রথম হামলা চালায়। এতে তাদের পক্ষেরও পাঁচজন আহত হয়েছেন।

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. রকিবুল হাসান বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হামলার ঘটনায় ৫২ জনকে আসামি করে কালিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ইতোমধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন