বিজ্ঞাপন

জুনে নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে হাম: ৪৫১ শিশুমৃত্যুতে উদ্বেগ

  • দেশব্যাপী হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার নিয়েছে।
  • প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া জটিলতায় মৃত্যু বেশি।
  • স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মার্চের মাঝামাঝি শুরু হওয়া সংক্রমণ জুনের শুরু থেকে নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।
জুনে নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে হাম: ৪৫১ শিশুমৃত্যুতে উদ্বেগ
ছবি: নড়াইল কণ্ঠ

দেশব্যাপী হামের সংক্রমণ এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীসহ সারা দেশে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চার জনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামে এবং আট জনের মৃত্যু হামের উপসর্গ নিয়ে হয়েছে।

একই সময়ে সন্দেহভাজন ১১৯২ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং ১১১ জনের দেহে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম নিশ্চিত করা হয়েছে।

মোট আক্রান্ত ও মৃত্যুর চিত্র

১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৫ হাজার ৬১১ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগী ৭ হাজার ৪১৬ জন। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪০ হাজার ১৭৬ জন শিশু, যাদের মধ্যে ৩৬ হাজার ৫৫ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছে।

বিজ্ঞাপন

এ পর্যন্ত ৪৫১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৭৪ জন এবং বাকি ৩৭৭ জন উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বক্তব্য

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র সরকার জানিয়েছেন, ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি চালু করা হয় এবং ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে। টিকা দেওয়ার তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে শিশুদের শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। সেই হিসেবে জুনের প্রথম দিক থেকে সংক্রমণ কমতে শুরু করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রথম পর্যায়ে ১৮ জেলা ও ৩০ উপজেলায় সংক্রমণ বেশি ছিল। এসব এলাকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়া হয় এবং বর্তমানে সেখানে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ শিশুই হাসপাতালে আসছে সংকটাপন্ন অবস্থায়। নিউমোনিয়া জটিলতা বেশি হওয়ায় আইসিইউ সাপোর্টের প্রয়োজন হয়। সরকারি হাসপাতালের সীমিত সক্ষমতার কারণে বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ ব্যবহারের দাবি উঠেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন—

এছাড়া সামনে ডেঙ্গু মৌসুম শুরু হলে পরিস্থিতি আরও চাপের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিউমোনিয়া: বড় ঝুঁকির কারণ

শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে প্রতিবছর প্রায় ২৪ হাজার শিশু নিউমোনিয়ায় মারা যায়। মোট শিশু মৃত্যুর প্রতি চার জনে একজন নিউমোনিয়ার কারণে মারা যায়। হামে আক্রান্ত শিশুদের অনেকেই পরবর্তীতে নিউমোনিয়ায় জটিলতায় ভোগে, যা মৃত্যুর প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

করণীয় কী

✔ জ্বর হলে দ্রুত উপজেলা বা জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া
✔ টিকা বাকি থাকলে দ্রুত সম্পন্ন করা
✔ অপুষ্ট শিশুদের বিশেষ নজরদারিতে রাখা
✔ ভিটামিন-এ ও পুষ্টি নিশ্চিত করা
✔ স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা জোরদার করা

বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা ও সময়মতো চিকিৎসাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার প্রধান উপায়।

বিজ্ঞাপন