নিজস্ব প্রতিবেদক:
ভুয়া রপ্তানির মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ ও অর্থপাচারের অভিযোগে করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ১১ কাস্টমস কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (১২ জুলাই) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন। আদালতে শুনানি শেষে অভিযুক্তদের স্থায়ী জামিনের আবেদন খারিজ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, এর আগে অভিযুক্তরা হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন লাভের পর গত ১৬ এপ্রিল বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। ওই সময় আদালত তাদের জামিনের মেয়াদ পরবর্তী শুনানির দিন পর্যন্ত বহাল রাখেন। সর্বশেষ শুনানিতে তারা স্থায়ী জামিনের আবেদন করলে রাষ্ট্রপক্ষ তার বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
কারাগারে পাঠানো ১১ কর্মকর্তা হলেন—জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর কাস্টমস বিভাগের সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গীর কবির ও মবিন উল ইসলাম, সাবেক সহকারী কমিশনার মো. জয়নাল আবেদীন, রাজস্ব কর্মকর্তা জমির হোসেন, এ এইচ এম নজরুল ইসলাম, আমির হোসেন সরকার, গৌরাঙ্গ চন্দ্র চৌধুরী, ফরিদ উদ্দিন সরকার ও মো. মঞ্জুরুল হক এবং সাবেক রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আব্দুস সাত্তার ও বাসুদেব পাল।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও সিঙ্গাপুরে পণ্য রপ্তানির ভুয়া তথ্য দেখিয়ে অর্থপাচার এবং সরকারি রপ্তানি প্রণোদনার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গত বছরের ২৩ নভেম্বর ১১ কাস্টমস কর্মকর্তাসহ মোট ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক।
তদন্তে উঠে আসে, অভিযুক্তরা পরস্পরের যোগসাজশে ‘দো এম্পেক্স লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে কোনো পণ্য বিদেশে রপ্তানি না করেই ৩৪টি রপ্তানি চালানের বিপরীতে প্রায় ১৮ কোটি ৬১ লাখ টাকার রপ্তানি মূল্য দেশে আনার তথ্য দেখান। একই সঙ্গে ওই চালানগুলোর বিপরীতে প্রায় ৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা সরকারি নগদ রপ্তানি প্রণোদনা গ্রহণ ও আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
দুদকের তদন্তে আরও জানা যায়, ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি মোট ৪১টি বিল অব এক্সপোর্ট দাখিল করে। এর মধ্যে মাত্র সাতটি চালানের ক্ষেত্রে প্রকৃত রপ্তানির তথ্য মিললেও বাকি ৩৪টি চালানের বিপরীতে বিদেশে পণ্য পাঠানোর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তদন্ত সংস্থার দাবি, ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে বৈদেশিক মুদ্রা দেশে প্রত্যাবাসনের তথ্য উপস্থাপন করা হয় এবং এর মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও অর্থপাচারের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম বর্তমানে সংশ্লিষ্ট আদালতে চলমান রয়েছে।
ভুয়া রপ্তানির মামলায় ১১ কাস্টমস কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ
- ভুয়া রপ্তানির তথ্য দেখিয়ে অর্থপাচার এবং সরকারি রপ্তানি প্রণোদনার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ১১ কাস্টমস কর্মকর্তার স্থায়ী জামিন আবেদন নাকচ করেছেন আদালত।
- শুনানি শেষে তাদের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- মামলাটিতে মোট ২৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।