বিজ্ঞাপন

আগামী ২৪–৪৮ ঘণ্টায় ১২ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা, ভারী বৃষ্টি চলবে আরও ৫ দিন

  • বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (FFWC) এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাসে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দেশের ১২টি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করা হয়েছে।
  • একই সঙ্গে আগামী পাঁচ দিন ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
  • বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (FFWC) এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাসে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দেশের ১২টি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ দিন ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আগামী ২৪–৪৮ ঘণ্টায় ১২ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা, ভারী বৃষ্টি চলবে আরও ৫ দিন
ছবি: নড়াইল কণ্ঠ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (FFWC) এবং বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশের অন্তত ১২টি জেলায় চলমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। একই সঙ্গে নতুন করে আরও কয়েকটি জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দেশের উজান এবং অভ্যন্তরীণ এলাকায় টানা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে ভারতের মেঘালয়, আসাম ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির প্রভাব বাংলাদেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব এবং উত্তরাঞ্চলের নদীগুলোতে পড়েছে।

উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সুরমা, কুশিয়ারা, তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি বিভিন্ন স্থানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা আরও বিস্তৃত হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞদের মতে, উজানের ঢল এবং স্থানীয় ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে এসব জেলার নিম্নাঞ্চলে পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাবে, যা জনজীবন, কৃষি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আংশিক উন্নতি, নতুন এলাকায় ঝুঁকি
অন্যদিকে, কক্সবাজার, বান্দরবান ও চট্টগ্রামের সাঙ্গু এবং মাতামুহুরী নদীর পানি কমতে শুরু করায় ওই অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে।

তবে নতুন করে ফেনী, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম জেলার মুহুরি, ফেনী এবং হালদা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এসব এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি জনগণকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আগামী পাঁচ দিন ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ঢাকাসহ দেশের ছয়টি বিভাগে আগামী পাঁচ দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি অতিবৃষ্টির কারণে শহরাঞ্চলে জলাবদ্ধতা এবং নিম্নাঞ্চলে নতুন করে প্লাবনের সম্ভাবনা রয়েছে।

নদীবন্দরগুলোকে সতর্ক সংকেত
বৈরী আবহাওয়ার কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। নদীপথে চলাচলকারী ছোট নৌযানগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

যেসব জেলায় বেশি সতর্ক থাকার পরামর্শ
বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী যেসব জেলায় বন্যা পরিস্থিতি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে সেগুলো হলো—
• সিলেট
• সুনামগঞ্জ
• নেত্রকোনা
• শেরপুর
• ময়মনসিংহ
• নীলফামারী
• লালমনিরহাট
• রংপুর
• কুড়িগ্রাম
• গাইবান্ধা
• ফেনী
• খাগড়াছড়ি
• চট্টগ্রামের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল

সাধারণ মানুষের জন্য সতর্কবার্তা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্টরা নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের পরিস্থিতির ওপর নিয়মিত নজর রাখতে, প্রয়োজনীয় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি ওষুধ প্রস্তুত রাখতে এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া অপ্রয়োজনীয় নৌযাত্রা এড়িয়ে চলা এবং শিশু ও বয়স্কদের নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এবং বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর নিয়মিত হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করছে। তাই সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা

বিজ্ঞাপন