ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা লাখো মানুষের জীবিকা নিশ্চিত করেন—তাই আপনাদের রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ব্যবসা ও শিল্পকে শিশুর মতো আগলে রাখা হবে।
গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশসহ নানা দেশের শতাধিক ব্যবসায়ী, কূটনৈতিকরা অংশ নেন।
অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করা অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনলে রাষ্ট্র তাদের আরও সম্মান দেবে জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা সরকার গঠন করলে অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করা অর্থ ফেরত দিতে আহ্বান জানানো হবে সম্মানের সঙ্গে তা ফেরত দিলে রাষ্ট্র সেই ব্যক্তিকে আরও সম্মান দেবে। এর উদ্দেশ্য কাউকে অপমান করা নয়, বরং জাতির কল্যাণ।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দিয়ে আমরা পাশে বসে সেই যাত্রা উপভোগ করতে চাই।
জামায়াত আমির বলেন, সাধারণ মানুষ ব্যাংকে টাকা জমা রাখে ঠিকই, কিন্তু তারা নিজেরা ব্যবসা পরিচালনার অভিজ্ঞতা বা উদ্যোক্তা মানসিকতা রাখে না। তাই তাদের আমানতের অর্থ তুলে দেওয়া হয় সেইসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাতে, যাদের ব্যবসা পরিচালনার যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে। এই অর্থ কখনো বাণিজ্যিক খাতে, আবার কখনো শিল্প খাতে বিনিয়োগ হয়।
উন্নয়নের জন্য তিনটি সমান্তরাল খাত
দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য তিনটি খাতকে সমান্তরালভাবে উন্নত করা জরুরি বলে মনে করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো হিউম্যান ইন্ডাস্ট্রি বা মানবসম্পদ উন্নয়ন। মানবসম্পদ যথাযথভাবে উন্নয়ন না হলে কোনো শিল্পই কার্যকরভাবে পরিচালিত হতে পারে না। মানুষের মেধা, যোগ্যতা, বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা ও পরিশ্রম—এই চারটির সমন্বয় ঘটলে কোনো ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হন না।
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে ব্যবসায়িক সফলতার জন্য চারটি বিষয়কে অপরিহার্য বলে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ব্যবসার জন্য সহি নিয়ত থাকতে হবে। উদ্দেশ্য হতে হবে সৎ ও ন্যায়সঙ্গত, কোনো অসৎ অভিপ্রায় রাখা যাবে না। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্যবসা সম্পর্কে ন্যূনতম জ্ঞান ও কারিগরি ধারণা থাকতে হবে এবং সংকটে মাথা তুলে দাঁড়ানোর এবং ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা ও সাহস থাকতে হবে। পাশাপাশি শুধু মালিক হয়ে অফিসে বসে থাকলে চলবে না; নিজেকে কাজে যুক্ত করতে হবে।
তিনি জানান, বাংলাদেশের ২৭ জন শীর্ষ ব্যবসায়ীর ওপর করা এক জরিপে দেখা গেছে, এর মধ্যে ২১ জনেরই বাপ-দাদার কোনো পুঁজি ছিল না। তারা ক্ষুদ্র পুঁজি, সৎ নিয়ত ও সাহস নিয়ে এগিয়ে এসেছেন এবং নিজেদের কর্মীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছেন।
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, তার প্রতিষ্ঠানে কোনো কর্মকর্তা ভুল করলে তিনি কখনো সবার সামনে অপমান করেননি; বরং আলাদাভাবে ডেকে সংশোধনের সুযোগ দিয়েছেন। নারীদের ক্ষেত্রে আরেকজন নারীকে উপস্থিত রেখে কথা বলতেন। তিনি কখনো গালি দেননি বা বেতন কাটেননি বরং আন্তরিক আচরণের মাধ্যমেই কাজ আদায় করেছেন।