• 25 Jun, 2024

সাবেক নড়াইল পৌর কর্মকর্তা লালু সরদারের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

সাবেক নড়াইল পৌর কর্মকর্তা লালু সরদারের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

নড়াইল পৌরসভার সাবেক পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লালু সরদারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তার বিরুদ্ধে ৩৫ লাখ ২২ হাজার টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন এবং জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৩২ লাখ ৫৭ হাজার ৫৩৪ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ মে) দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় মামলাটি করেছেন দুদক সমন্বিত কার্যালয় যশোরের উপসহকারী পরিচালক সাদিয়া সুলতানা।

লালু সরদার নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চরকরফা গ্রামের নওশের সরদারের ছেলে। তিনি বর্তমানে পাইকাগাছা পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অভিযুক্ত মো. লালু সরদার ২০১২ সালের ২ জানুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন নড়াইল পৌরসভা কার্যালয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে যোগ দেন। পরে ২০২১ সালে তিনি পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন।

মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, ২০২১ সালের ২ ডিসেম্বর দুদক প্রধান কার্যালয় পরিচালিত অভিযানে নড়াইল পৌরসভার মেয়র, প্রশাসনিক কর্মকর্তা লালু সরদার ও অন্যান্যদের মাধ্যমে পৌরসভার ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। এ সময় এনফোর্সমেন্ট টিম এ বিষয়ে প্রকাশ্য অনুসন্ধানের জন্যে সুপারিশ করে। লালু সরদারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জন করে নিজের ও স্ত্রীর দখলে রাখার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে দুদক তার নিকট সম্পদ বিবরণী চায়। লালু সরদার তার সম্পদ বিবরণী ফরম পূরণ করে ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ দুদকে দাখিল করেন।

লালু সরদার দুদকে মোট ১১ লাখ ৮২ হাজার ৯০ টাকার সম্পদ থাকার ঘোষণা দেন। কিন্তু যাচাইয়ের সময় লালু সরদারের নামে ৩৮ লাখ চার হাজার টাকায় পাঁচ শতক জমি কেনার তথ্য পাওয়া যায়। সে অনুযায়ী লালু সরদারের নামে ৩৮ লাখ চার হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকে মোট ৯ লাখ ৯০ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্যও পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে তার নামে ৪৭ লাখ ৪ হাজার ৯০ টাকার সম্পদ থাকলেও দুদকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তিনি ৩৫ লাখ ২২ হাজার টাকার সম্পদ থাকার তথ্য গোপন করেছেন।

দুদক বলছে, ২০১২ সালের ২ জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ পর্যন্ত লালু চাকরি থেকে আয় করেছেন ২৮ লাখ ৯৩ হাজার ১১৩ টাকা। এ সময়ে তিনি পারিবারিক ব্যয় করেছেন ১৪ লাখ ৪৬ হাজার ৫৫৭ টাকা। ফলে তার নিট আয় ১৪ লাখ ৪৬ হাজার ৫৫৬ টাকা। এর বিপরীতে তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৪৭ লাখ ৪ হাজার ৯০ টাকা। বৈধ আয় বাদ দিলে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ ৩২ লাখ ৫৭ হাজার ৫৩৪ টাকা।

দুদক যশোর সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আল-আমিন বলেন, এসব অভিযোগে লালু সরদারের বিরুদ্ধে দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত, নড়াইলের অধীন দুদক যশোর কার্যালয়ে মামলা করা হয়েছে। মামলা তদন্তের জন্য এরই মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম শুরুও হয়েছে।