• 15 Jun, 2024

‘পরিষদের এক ইঞ্চি জমিও ছাড় দেবো না’ -চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদ, নড়াইল

‘পরিষদের এক ইঞ্চি জমিও ছাড় দেবো না’ -চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদ, নড়াইল

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জেলা পরিষদ কোন অস্বচ্ছল প্রতিষ্ঠান নয় যে তার জায়গাজমির উপর অন্য কেউ উন্নয়নের কাজ করবে। জুনের পর আমরাই এরকম ৫ কোটি ব্যয়ে বিউটিফিকেশন প্রকল্পের কাজ করবো।

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আরও বলেন, জেলা পরিষদের এক ইঞ্চি জমিও আমি থাকতে বেআইননিভাবে কাওকে ছাড় দেবো না। প্রয়োজনে আমি আদালতের আশ্রয় নিবো। মন্ত্রণালয়ের বিধান আছে , নিয়ম আছে, সেসব নিয়ম-কানুন মেনে মন্ত্রণালয় যদি ছাড় দেয় সে ক্ষেত্রে পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে আমার কোন আপত্তি থাকবে না।


সোমবার (০৮ মে) দুপুরে নড়াইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সাথে এক প্রেস ব্রিফিংএ এসব কথা বলেছেন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস।  

প্রেস ব্রিফিংএ তিনি সাংবাদিকদের জানান, আপনারা জানেন, ‘জমিজমা নিয়ে জেলা পরিষদ ও নড়াইল পৌরসভার মধ্যকার যে জটিলতা বিদ্যমান সে বিষয়টি ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ের তদন্তাধিন রয়েছে। এখনও পর্যন্ত মন্ত্রণালয় থেকে কোন রিপোর্ট আমরা পাই নাই। অবস্থার বেগতিক দেখে অন্যায়ভাবে জেলা পরিষদের কালীদাস ট্যাংক পুকুরের উপর নড়াইল পৌরসভা কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করেছে দেখালাম ।  

অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস বলেন, আমি একটু আগে বিগত এই জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন বিশ্বাস কিভাবে এই পরিষদের কালীদাস ট্যাংক পুকুরের উপর প্রকল্প গ্রহণের অনাপত্তি পত্র দিয়েছেন সে সম্পর্কে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সিনিয়র সচিবের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাকে পত্রটি পাঠাতে বলেছেন। পত্র পেলে অতিরিক্ত সিনিয়র সচিব ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।  

সাংবাদিকরা জেলা পরিষদের জায়গা-জমি ব্যবহারের জন্য নড়াইল পৌরসভাকে অনাপত্তি পত্র প্রদান সম্পর্কে বর্তমান জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহীর নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, এই অনাপত্তি পত্রটি দেয়া হয়েছে ২০১৭ সালে আর আমি এই জেলা পরিষদে যোগদান করেছি ২০২০ সালে। বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে বিগত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন বিশ্বাস কালীদাস ট্যাংক পুকুরের উপর প্রকল্প গ্রহণের জন্য নড়াইল পৌরসভাকে যে অনাপত্তি পত্র দিয়েছেন সেটা জেলা পরিষদের জমি-জমা সংক্রান্ত যে বিধিবিধান রয়েছে তাতে তিনি দিতে পারেন না।

জেলা পরিষদের কালীদাস ট্যাংক পুকুরের দক্ষিণ পাড়ের জমির উপর নড়াইল পৌর ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। একই দাগ ও খতিয়ানভুক্ত জমি-জমা। নির্মিত ভবন সম্পর্কে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডেভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস সাংবাদিকদের বলেন, একই দাগের জমির উপর পৌর ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। উন্নয়ন তো তুলে ফেলা যাবে না। তবে জেলা পরিষদের মালিকানা স্বীকৃতিসহ ওই জমির ন্যায্য হিস্যা দিতে হবে।

প্রেস ব্রিফিংএর সময় জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্য খোকন কুমার সাহা, পরিষদের কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ সহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।