• 17 Jun, 2024

পাটের বাজার ধস, নড়াইলে অনিশ্চয়তায় পাট চাষীরা

পাটের বাজার ধস, নড়াইলে অনিশ্চয়তায় পাট চাষীরা

মাসুম জব্বারী, নড়াইলকণ্ঠ প্রতিনিধি : এ বছর জেলায় সর্ব মোট ২৩ হাজার ৬৪৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। যা ২ লক্ষ ৭০ হাজার ১৪০ বেল পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করে ছিলো জেলার কৃষি বিভাগ।

বিগত ২-৩ বছরের তুলনায় এ বছরে নড়াইলে পাটের মূল্য খুবই কম থাকায় পাট বিক্রি করে চাষীদের খরচের টাকাও উঠছে না। যার ফলে জেলার পাট চাষীদের গুনতে হচ্ছে লোকসান।

এ বিষয়ে সরজমিনে জেলার মিঠাপুরের পাটের হাটে গেলে কয়েক জন পাট চাষী ক্ষিপ্ত এবং হতাশ হয়ে বলেন, আমাদের খরচের টাকাও উঠাতে পারছিনা। আমরা পাট বিক্রি করব না। এই পাট আমরা পুঁড়িয়ে ফেলবো। আমরা আর পাট চাষ করবো না।

গৌর চঁন্দ্র রায় নামের এক পাট চাষীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এ বছরে বীজ, সার, কীটনাশক সহ মুজুরির ব্যায় বেড়েছে দ্বীগুন। প্রতি বিঘা জমিতে এ বছর পাটের উৎপাদন খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার টাকায় এবং বিঘা প্রতি ৬ থেকে ৭ মণ পাট উৎপাদন হয়েছে। যা বর্তমানে বাজারে বিক্রি হচ্ছে মণ প্রতি ১৫০০শ থেকে ১৭০০শ টাকায়। প্রতি বিঘাতে আমাদের (পাট চাষীদের) লোকসান যাচ্ছে ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা।

মোঃ মশিয়ার রহমান নামে মিঠাপুর বাজারের এক স্থানীয় পাট ব্যবসায়ী বলেন, আমি দীর্ঘ ২০-২২বছর ধরে পাটের ব্যবসা করছি। কিন্তু এ বছরের মত পাটের বাজারের এমন ধস বিগত বছর গুলিতে আমি দেখিনি। তিনি বলেন, গত বছরেও প্রকার ভেদে প্রতি মণ পাট ২৭০০শ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। পাটের বাজারে কেনো এমন ধস? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আসলে আমি যত দূর জানি যে এ বছর শিফাররা এবং মিলাররা পাট ক্রয় করে বিক্রি করতে পারছেনা। কারন আন্তর্জাতিক বাজারে পাটের মন্দা ভাব চলছে। বিদেশে সুঁতার দাম কম থাকায় তারা পাট কিনছেনা। তিনি বলেন, আমাদের নড়াইল এবং মাগুরা এই দুই জেলার ৮০% ভাগ পাট এ বছর রাজ্জাক জুঁট মিল কিনছে। রাজ্জাক জুঁট মিল যদি আমাদের পাট না কিনত, তবে আমাদের পাটের মূল্য আরো কমে যেতো। এক কথায় বলা যায় পাট বিক্রিই হতো না।

উল্লেখ্য, গত ৭ সেপ্টেম্বর কৃষক সমিতি নড়াইল জেলা শাখার আযোজনে পাটের সর্বনিন্ম মূল্য ৪ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে নড়াইল কোর্ট চত্তর সড়কে এক মানববন্ধন এবং জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করাও হয়ে ছিলো।