সংস্কৃতি, শিল্প-সাহিত্য এবং মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাসে সমৃদ্ধ জেলা নড়াইল। অথচ এই ঐতিহ্যবাহী জনপদ আজও একটি সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বঞ্চিত—এমন আক্ষেপ ও জোরালো দাবিতে মুখর হয়ে উঠল নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ সভা।
শনিবার (১৯ এপ্রিল) বিকাল ৫টার দিকে নড়াইল সদর উপজেলার বিছালীতে নজরুল সংস্কৃতি চর্চাকেন্দ্র ‘অগ্নিবীণা’ আয়োজিত “কৃষক মেলা ও সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রস্তাবনা” শীর্ষক সভায় বক্তারা নড়াইলে একটি পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, নড়াইল শুধু একটি জেলা নয়—এটি বাংলার সংস্কৃতির এক উর্বরভূমি। চিত্রা, মধুমতি ও নবগঙ্গা নদীবিধৌত এই জনপদ বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতান, সাহিত্যিক নিহাররঞ্জন গুপ্ত, সেতার বাদক রবি শংকর, নৃত্যশিল্পী উদয় শংকর, সঙ্গীত পরিচালক ও শিল্পী কমল দাশ গুপ্ত, কবিয়াল বিজয় সরকার, জারী সম্রাট মোসলেম উদ্দিনসহ অসংখ্য জ্ঞানী-গুণীর জন্মভূমি।
এছাড়াও দেশের ৭ জন বীরশ্রেষ্ঠর একজন বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের বাড়ি এই নড়াইলেই। ক্রিকেটাঙ্গনে ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ Mashrafe Bin Mortaza-এর মতো গর্বিত নাম বিশ্বমঞ্চে জেলার পরিচিতি ছড়িয়ে দিয়েছে।
সভায় বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশের অন্যান্য অঞ্চলে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও নড়াইল এখনো অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। শিক্ষা ও সংস্কৃতির এমন ঐতিহ্য বহনকারী একটি জেলায় এখনো কোনো সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয় না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যশোর সিটি কলেজের অধ্যাপক ড. সবুজ শামীম আহসান, কৃষ্টিবন্ধন যশোরের সাধারণ সম্পাদক এম এ কাশেম অমিয়, যশোর ভবদহ কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল মতলব সরদার, নড়াইল জেলা অগ্নিবীণা সভাপতি কল্যাণ মুখার্জি, জেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ইমাম হোসেন সেলিম, নড়াইল কালেক্টরেট স্কুলের প্রধান শিক্ষক উজির আলী, শিক্ষক ও কবি আব্দুল হান্নানসহ অনেকে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন অগ্নিবীণা চেয়ারম্যান এইচ এম সিরাজ।
বক্তারা সরকারের প্রতি বিশেষ বিবেচনায় নড়াইলে একটি সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হবে না—এটি হবে নড়াইলের সাংস্কৃতিক পরিচয়, ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বপ্নের ঠিকানা।
আলোচনা সভা শেষে কৃষকদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পরে রাতে আয়োজন করা হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে স্থানীয় শিল্পীরা বাংলা সংস্কৃতির নানা পরিবেশনা তুলে ধরেন।