• 01 Mar, 2024

নড়াইলে লাঞ্ছিত অধ্যক্ষ কলেজে ফিরছেন বুধবার

নড়াইলে লাঞ্ছিত অধ্যক্ষ কলেজে ফিরছেন বুধবার

নড়াইলে লাঞ্ছিত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাস আজ বুধবার (৩ আগস্ট) কলেজে ফিরবেন। তাকে বরণে কলেজ কর্তৃপক্ষ যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছেনড়াইল- আসনের সংসদ সদস্য বিএম কবিরুল হক মুক্তিজিবির সভাপতি অ্যাডভোকেট অচিন কুমার চক্রবর্তীজাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিশেষ প্রতিনিধিদলসহ নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা স্বপন কুমার বিশ্বাসকে সঙ্গে করে মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজে নিয়ে যাবেন।

কলেজে ফিরতে পারছেন এমন অনুভূতিতে অধ্যক্ষ(ভারপ্রাপ্তস্বপন কুমার বিশ্বাস বলেনদেরিতে হলেও কলেজে যেতে পারছিতার জন্য আমি আনন্দিত।তিনি বলেনবিভিন্ন ধরনের হুমকির কারণে পরিবার পরিজন ছেড়ে পালিয়ে আত্মগোপনে অনেক কষ্টে দিনাতিপাত করতে হয়েছে।  সময় চোখের জলই ছিল একমাত্র সঙ্গী। ভাবতেও পারিনি আমার সঙ্গে এমনটি করা হবে।আমার সঙ্গে যা করা হয়েছে তা যেন কোনো শিক্ষক বা সম্মানিত ব্যক্তির সঙ্গে না হয়।এভাবে যেন দুষ্টুচক্র আর কাউকে অপদস্থ করতে না পারে।আমাকে শুধু জুতার মালা দেওয়া হয়নি,মারধর করাও হয়েছে।এসব কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেলেন অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাস।

অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে জুতার মালা পরানোর পর বন্ধ কলেজ গত ২৪ জুলাই খোলা হয়েছে।দীর্ঘ ১মাস ৫দিন পর কলেজ খোলা হয়।অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোজোবায়ের হোসেন চৌধুরী উপস্থিত থেকে কলেজ খোলার ব্যবস্থা করেন।তবে শিক্ষক-কর্মচারীরা ওই দিন কলেজ খোলার ব্যাপারে আগে থেকে কিছুই জানতেন না।অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোজোবায়ের হোসেন চৌধুরী উপস্থিত হয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের সংবাদ দিয়ে কলেজে হাজির করেন। এরপর শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়মিত কলেজে আসতে অনুরোধ জানান।কিছুদিন দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ কার্যক্রম চালানোর পর প্রথম বর্ষের ক্লাস চালু করা হয়।তবে অধিকাংশ শিক্ষকের চোখেমুখে আতংকের ছাপ রয়ে গেছে।মোটরসাইকেল নিয়ে আসতেও ভয় পাচ্ছেন শিক্ষকরা।

মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের সভাপতি অ্যাডভোকেট অচিন কুমার চক্রবর্তী জানানগত ১৩ জুলাই বিকালেকলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভা হয়েছে। সভায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন না।তারপরও ২০ জুলাই কলেজ খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। পরে সে সিদ্ধান্ত বাতিল হয়।পরবর্তীতে ২৪ জুলাই কলেজ খোলা হয়।

মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজ প্রথম বর্ষের ছাত্র রাহুল দেব রায় গত ১৭ জুন ফেসবুকে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপিবহিষ্কৃত মুখপাত্র নূপুর শর্মার একটি ছবি দিয়ে তার সমর্থনে লেখে প্রণাম নিও বস নুপুর শর্মাজয় শ্রী রাম পরদিন ১৮ জুন রাহুল দেব রায় কলেজে গেলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাকে দেখে উত্তেজিত হয়ে ওঠে।তাৎক্ষণিক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাস তাকে পুলিশে দেন।পুলিশ তাকে নিয়ে যেতে গেলে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা বাধা দেয়।এরই মধ্যে কে বা কারা গুজব ছড়িয়ে দেয় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ওই ছাত্রকে সমর্থন দিয়েছেন,তার কোনো বিচার করতে চাননি। গুজবে এলাকার সাধারণ মানুষ কলেজে এসে বিক্ষোভ করে।এমনকি কলেজে প্রশাসনের সামনেই শিক্ষক স্বপন কুমার বিশ্বাসকে জুতার মালা পরিয়ে অপদস্থ করে।এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। দেশজুড়ে তৈরি হয় তীব্র ক্ষোভ।