• 01 Mar, 2024

নড়াইলে জব্দকৃত টিসিবি পণ্যের রহস্য উদঘাটনের তদন্ত শুরু!

নড়াইলে জব্দকৃত টিসিবি পণ্যের রহস্য উদঘাটনের তদন্ত শুরু!

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নড়াইলে টিসিবির ডাল ও চিনি জব্দ করেছে স্থানীয় জনতা। মুর্হুতের মধ্যে এ ঘটনা জানাজানি হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং জব্দকৃত টিসিবির ওইসব পণ্য স্থানীয় প্রশাসনের পরামর্শে আউড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের হেফাজতে রাখা হয়।

গত শনিবার (২০ আগস্টসন্ধ্যার দিকে নড়াইল সদরের আউড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ  নাকসী-মাদ্রাসা বাজার সংলগ্ন সড়কের উপর  ঘঠনাটি ঘটে।

এদিকে রবিবার(২১ আগস্টসকাল ১০টায়  ঘটনাটির সত্যতা তদন্তের জন্য নড়াইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারি কমিশনার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিবু দাস আইড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদে আসেন।ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানপ্রত্যক্ষদর্শিদের নিকট থেকে তিনি ঘটনার বিবরণ শোনেন এবং তা লিপিবদ্ধ করেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিবু দাস  ঘটনা সম্পর্কে আউড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান এস এম পলাশের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানানশনিবার আমি সারাদিন উপস্থিত থেকে টিসিবির পণ্য কার্ডধারীদের মধ্যে সুলভমুল্যে বিক্রি করেছি।বিকালে শোক দিবসের কর্মসূচিতে চলে গিয়েছিলাম। পরে জানতে পারি কিছু চিনি  ডাল আটক করেছে জনগণ।

তিনি আরও জানানটিসিবির ডিলার মালামাল দেয়ার পর কিছু পণ্য থেকে যায়।এসময় ট্যাগ অফিসার নড়াইল সদরের প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সহকারি শিক্ষা অফিসার গোলাম রাব্বানীর নেতৃত্বে অবশিষ্ট ট্রাকে থাকা ৫০ কেজি চিনি  ৭৭.৭৫০ কেজি ডাল  হাজার টাকা দিয়ে কিনে রাখেন পরিষদের আব্বাস আলী (৫নং ওয়ার্ড মিজানুর রহমান (৬নং ওয়ার্ডমেম্বর।পরে  মালামাল ইউনিয়ন পরিষদে রাখতে গেলে কর্তব্যরত চৌকিদার এপণ্য রাখতে অস্বীকার করলে মেম্বররা ওই মালামাল একটি ভ্যানযোগে নাকশী বাজারের জহিরের দোকানে দিকে নেয়ার পথে স্থানীয় জনতা সন্দেহ করে আকটে দেয়পরে স্থানীয় প্রশাসনকে খবর দেয় এবং পরে ওই মালমাল জব্দ করা হয়।

চেয়ারম্যান পলাশ আরও জানানআমি / মাস আগে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি।আমার পরিষদের যেই অন্যায় করুক আমি তার উপযুক্ত বিচার চাই।প্রশাসনের পক্ষ থেকে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সহকারি কমিশনার শিবু দাস তদন্তে এসেছিলেন।তদন্তে কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে অবশ্যই প্রশাসন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

এঘটনা সম্পর্কে ট্যাগ অফিসার নড়াইল সদরের প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সহকারি শিক্ষা অফিসার গোলাম রাব্বানী জানানগত ২০ আগষ্ট সারাদিন আউড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে সুলভমুল্যে টিসিবির পণ্য কার্ডধারীদের মাঝে বিক্রয়ের সময় আমি উপস্থিত ছিলাম। মালামাল বিক্রয় শেষে হয় ৬টার দিকে।এ সময় ডিলারের ট্রাকের ভেতর কোন অবশিষ্ট মালামাল আছে কি দেখতে চাইলে তখন ট্রাকের ভেতর কার্টুনের ফাঁকে লুকিয়ে লুজ ৫০ কেজি চিনি  ৭৭.৭৫০ কেজি ডাল।এসময় ডিলার খান মোস্তফা আমাকে বলেন মালামাল আমি এখান থেকে ফেরৎ নিয়ে যাওয়ার কোন বিধান নেই।এরপর আমি তাকে বললাম এপণ্য কি টাকা দিয়ে কিনে রাখার বিধান আছে কিতিনি জানান তা দেয়া যেতে পারে।পরে আমার পরামর্শে এলাকার মেম্বর  মালামাল রেখে দেয়যা পরবর্তীতে কার্ডধারী বা গরীব মানুষের মাঝে বিতরণ করা হবে। পরে আমি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চলে আসি।

টিসিবির ডিলার মেসার্স খান ট্রেডার্স এর মালিক খান গোলাম মোস্তফা জানানআউড়িয়া ইউনিয়নে ১০৯০ জন কার্ডধারী ব্যক্তির অনুকুলে ৫টন ৪৫০ কেজি মালামাল টিসিবির ডিলার হিসেবে বরাদ্দ পাইআর প্রতি কার্ডধারী  কেজি তেল কেজি ডাল   কেজি চিনি পাবেন।সন্ধ্যার দিকে যখন মালামাল দেয়া শেষ হয়ে যায় তখনআমার ট্রাকে অবশিষ্ট কিছু খুচরা মালামাল থেকে যায়।এ বিষয় ট্রাগ অফিসারের পরামর্শে ৫০ কেজি চিনি  ৭৭.৭৫০ কেজি ডাল টিসিবির নির্ধারিত মূল্য নিয়ে গরীব মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য মেম্বরদের নিকট মালামাল রেখে যাই।

ঘটনার সাথে জড়িত আউড়িয়া ইউপির ৫নং  ৬নং ওয়ার্ড সদস্য আব্বাস আলী এবং মিজানুর রহমান জানানটিসিবির মালামাল দেয়ার সময় সারা দিন উপস্থিত ছিলাম। সন্ধ্যার দিকে কিছু খুচরা মালামাল ডিলারের ট্রাকে থেকে যায়।ওই মালামাল ট্রাগ অফিসারের পরামর্শে(৫০ কেজি চিনি  ৭৭.৭৫০ কেজি ডালটিসিবির নির্ধারিত মূল্য নিয়ে গরীব মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য আমরা কিনে রাখি।

ভ্যান চালক তুহিন জানানগত শনিবার(২০ আগস্টসন্ধ্যায় নাকসী বাজারের মুদি দোকানদার জহির আমাকে ডেকে ইউনিয়ন পরিষদের বারান্দা থেকে কিছু ব্যাগ নিয়ে আসতে বলে।আমি যখন এসব মালামাল নিয়ে রওনা হয়ে রাস্তায় উঠলে স্থানীয় লোকজন আমাকে আটকে দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী নাকসী গ্রামের মশিয়ার সিকদার বলেনসন্ধ্যার দিকে আউড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ হতে একটি ভ্যানযোগেচিনি  ডাল নিয়ে যাচ্ছিল। বস্তার গায়ে টিসিবি লেখা দেখে সন্দেহ হয়।তখন ভ্যান চালক তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায় যেনাকসী বাজারের মুদি দোকানদার জহির এসব মাল ভ্যানে করে নাকসী বাসষ্টান্ডের দিকে নিয়ে যেতে বলেছে। তাই ভ্যানে করে নিয়ে যাচ্ছি।

মুদি দোকানদার জহির শেখ বলেনআউড়িয়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বর আব্বাস আলী  ৬নং ওয়ার্ডেও মেম্বর মিজানুর রহমান চিনি  ডাল নাকসী বাসস্টান্ডের দিকে নেয়ার জন্য ভ্যান ডেকে দিতে বলে।সে কারনে ভ্যান পাঠিয়ে এসব পণ্য আনা হয়। তবে এসব টিসিবির পণ্য আমার জানা ছিল না।

প্রত্যক্ষদর্শী বিপ্লব মোল্যা জানানআটককৃত টিসিবির পণ্যের মধ্যে ছিল এক বস্তায় ৫০ কেজি চিনি এবং কয়েকটি প্যাকেটে ৭৭.৭৫০ কেজি ডাল।ডাল কেজি হিসেবে প্যাকেট করা থাকলেও কেউ যাতে টিসিবির পণ্য টের না পায় সে জন্য বেশ কিছু প্যাকেট কেটেবস্তায় ভরে রাখা হয়েছিল।অভিযুক্ত দুই মেম্বর সরাসরি না এসে বাজারের মুদি দোকানদার জহির শেখকে দিয়ে এসব পণ্য সরিয়ে নিচ্ছিল।

এব্যাপারে সদর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান বলেনখবর শোনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।আটককৃত পণ্য জব্দ তালিকা করে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে ইউপি চেয়ারম্যানের জিম্মায় রাখা হয়।

এব্যাপারে তদেন্ত আসা সহকারি কমিশনার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিবু দাস এর নিকট সাংবাদিকরা বক্তব্য চাইলে তিনি বক্তব্য দিতে রাজি হননি।