• 24 Feb, 2024

নড়াইলে ৩৯টি ল্যাপটপসহ অর্ধকোটি টাকার মালামাল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৬

নড়াইলে ৩৯টি ল্যাপটপসহ অর্ধকোটি টাকার মালামাল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৬

‘সরস্বতী পূজা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সুযোগ নিয়ে চুরি করতেন তারা’-এসপি,নড়াইল

অভিনব   কৌশল   অবলম্বন   করে   বেশকিছু   দিন   ধরে   চুরি   করে   আসছিলেন   এই   চোরচক্রটি।   শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান   বন্ধের   দিন      সরস্বতি   পূজা   ছিলো   তাদের   চুরি   করার   অন্যতম   টার্গেট।   এমন   টার্গেটকে   সামনে   রেখে   তারা   নড়াইল      তার   পাশ্ববর্তী   জেলা   মাগুরা ফরিদপুর রাজবাড়ী      গোপালগঞ্জের   বিভিন্ন   শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান   থেকে   ল্যাপটপ প্রিন্টার স্ক্যানার সিলিং   ফ্যান প্রজেক্টরসহ   বিভিন্ন   উপকরণ   চুরি   করতেন   তারা।   চুরাইকৃত   এসব   মালামাল   বিভিন্ন   জায়গায়   কম   দামে   বিক্রি   করতেন   ওই   চোরচক্র।   পুলিশ   সদস্যরা   প্রায়   ৪৮   ঘণ্টা   অভিযান   চালিয়ে   আন্ত : জেলা   এই   চোরচক্রের      জনকে   গ্রেপ্তার   এবং   ৫০   লক্ষাধিক   টাকার   মালামাল   উদ্ধার   করা   হয়েছে।    তবে   গ্রেপ্তার   হওয়া   কেউই   নড়াইলের   বাসিন্দা   না।   তবে   এই   চোর   চক্রে   সঙ্গে   আরও   কেউ   জড়িত   আছে   কিনা   তা   খতিয়ে   দেখছে   পুলিশ।  

গত   বৃহস্পতিবার ( ২৩   মার্চ দুপুর   ১২টায়   নড়াইলের   পুলিশ   সুপারের   সম্মেলন   কক্ষে   এক   সাংবাদ   সম্মেলনে   সাংবাদিকদের   উপরোক্ত   তথ্য   জানান   হয়। 

এই   চোরচক্রে   যারা   গ্রেফতার   হয়েছেন   তারা   হলেন মাগুরার   সদর   উপজেলার   বাটাজোড়   গ্রামের   মৃত   শিবপদ   দাসের   ছেলে   নেপাল   দাসকে ( ৩০    গোপালগঞ্জের   মুকসুদপুর   থানার   বাটিকাবাড়ি   গ্রামের   তৈয়ব   আলী   শেখের   ছেলে   শহিদুল   ইসলাম ( ৩০ ),  টেংরাখোলা   গ্রামের   সোহাগ   সরদারের   ছেলে   রিজু   সরদার ( ১৮ ) কে   নড়াইল   সদরের   ভওয়াখালী   গ্রাম   থেকে গোপালগঞ্জ   সদরের   মজিবর   রহমান   মোল্যার   ছেলে   মতিউর   রহমান   রাসেলকে ( ৩৫ ফরিদপুর   থেকে   এবং   একই   জেলার   ধোপাকান্দা   গ্রামের   মৃত   মতি   মোল্যার   ছেলে   সোবহান   মোল্যা ( ৩৮    উজানিয়া   গ্রামের   কুদ্দুস   মোল্যার   ছেলে   আরমান   মোল্যাকে ( ২০ ওই   জেলার   মুকসুদপুর   থেকে   গ্রেপ্তার   করা   হয়। 

সংবাদ   সম্মেলনে   সূত্রে   জানা   যায় নড়াইল মাগুরা গোপালগঞ্জ      ফরিদপুরের   বিভিন্ন   স্থানে   অভিযান   চালিয়ে   বিভিন্ন   ব্রান্ডের   ৩৯টি   ল্যাপটপ ৭২টি   সিলিং   ফ্যান ৪টি   প্রজেক্টর ৩টি   প্রিন্টার ১টি   স্ক্যানার ১৪টি   ল্যাপটপের   চার্জার ১৬টি   মিনি   সাউন্ড   বক্স ২টি   কম্পিউটার   বক্স ৩টি   কী - বোর্ড ১টি   মোটরসাইকেল ১টি   সেলাই   রেঞ্জ ২টি   প্লাস ৩টি   স্ক্রু   ড্রাইভার   ২টি   মাউস      ১০টি   মোবাইল      নগদ   ৮১   হাজার   টাকা   জব্দ   করে   পুলিশ।   উদ্ধার      জব্দকৃত   মালামালের   বাজার   মূল্য   আনুমানিক   প্রায়   অর্ধকোটি   টাকা। 

সংবাদ   সম্মেলনে   পুলিশ   সুপার   মোস সাদিরা   খাতুন   আরও   জানান গত   ২৬   থেকে   ২৮   জানুয়ারি   সরস্বতী   পূজা      সাপ্তাহিক   ছুটিসহ   তিন   দিন   স্কুল   বন্ধ   থাকায়   লোহাগড়া   উপজেলার   বিএসএস   মাধ্যমিক   বিদ্যালয়ের   শেখ   রাসেল   ডিজিটাল   ল্যাবের   জানালার   গ্রিল   কেটে   ১৭টি   ল্যাপটপ      ১৫টি   ল্যাপটপ   চার্জার   চুরির   ঘটনা   ঘটে।   ওই   ঘটনায়   স্কুল   কর্তৃপক্ষের   মামলার   ভিত্তিতে   চুরি   মামলার   কার্যক্রম   তদন্তাধিন   থাকা   অবস্থায়   নড়াইল   সদর   উপজেলার   তুলারামপুর   ইউনিয়নের   মালিডাঙ্গা   সরকারি   প্রাথমিক   বিদ্যালয়ে   চলতি   মাসের   ১৬   মার্চ   একই   ধরনের   অপর   একটি   চুরির   ঘটনা   ঘটায়   নড়াইল   সদর   থানায়   মামলা   হয়। 

তিনি   বলেন উভয়   মামলার   চুরির   ধরন      প্রকৃতি   একই   রকম   হওয়ায়   পুলিশের   একাধিক   ইউনিটকে   নিবিড়ভাবে   মামলা   দুটি   ছায়া   তদন্তের   নির্দেশ   দেওয়া   হয়।   মামলা   দুটি   তদন্তকালে   ১৭   মার্চ   নড়াইল   সদর   উপজেলার   চাকই   পশ্চিমপাড়া   সরকারি   প্রাথমিক   বিদ্যালয়ে      হবখালী   সরকারি   প্রাথমিক   বিদ্যালয়ে   একই   ধরনের   ইলেকট্রনিক্স   ডিভাইস   চুরির   আরও   দুটি   ঘটনা   ঘটে। 

নড়াইল   জেলার   বিভিন্ন   স্কুলে   এসব   চুরির   ঘটনার   সূত্র   ধরে   মাঠে   নামে   জেলা   পুলিশের   একাধিক   টিম।   সাইবার   ক্রাইম   ইনভেস্টিগেশন   সেল ( সিসিআইসি একটানা   কাজ   করে   তথ্য   প্রযুক্তির   সহায়তায়   তথ্য   উপাত্ত   পর্যালোচনা   করে   সন্দেহভাজনদের   অবস্থান   শনাক্তের   পাশাপাশি   তাদের   সকল   ব্যক্তিগত   তথ্য   অপারেশন   টিমের   কাছে   হস্তান্তর   করে। 

অতিরিক্ত   পুলিশ   সুপার ( সদর   সার্কেল দোলন   মিয়া   জেলা   গোয়েন্দা   শাখা ( ডিবি    জেলা   পুলিশের   একাধিক   টিম   নড়াইল মাগুরা গোপালগঞ্জ      ফরিদপুর   জেলায়   অভিযান   পরিচালনা   করে   আন্তঃজেলা   চোর   চক্রের   সদস্যদের   গ্রেপ্তারের   পাশাপাশি   মালামাল   উদ্ধার   করতে   সক্ষম   হন। 

পুলিশ   সুপার   আরও   বলেন গ্রেপ্তার   হওয়া   কেউই   নড়াইলের   বাসিন্দা   নয়।   এদের   মধ্যে   শহিদুল      রিজু   বিভিন্ন   এলাকায়   ঘর   ভাড়া   নিয়ে   রেকি   করে   টার্গেট   স্থির   করতেন।   সুযোগ   বুঝে   চুরির   পর   অল্প   মালামাল   হলে   নেপাল   দাস   মোটরসাইকেলে   বহন   করতেন।   বেশি   হলে   বিকল্প   ব্যবস্থায়   পরিবহন   করে   জেলার   বাইরে   নিয়ে   যেতেন।   এদের   মধ্যে   কেউ   ইলেকট্রনিকসের   ব্যবসার   আড়ালে   চুরি   মালামাল   লুকানোর   কাজে   নিয়োজিত   ছিলেন। 

উদ্ধারকৃত   মালামালের   মধ্যে   নড়াইলের   চার   শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান   ছাড়াও   অন্যান্য   জেলার   চুরি   হওয়া   মালামালও   রয়েছে।   এই   চোর   চক্রে   সঙ্গে   আরও   কেউ   জড়িত   আছে   কিনা   তা   খতিয়ে   দেখছি। 

সংবাদ   সম্মেলনে   এসপি   সাদিরা   খাতুন   বলেন ঘর   ভাড়া   দেওয়ার   সময়   নাম   পরিচয় কর্ম   যাচাই   করে   বিস্তারিত   তথ্য   নিকটস্থ   থানায়   জমা   দেওয়ার   জন্য   অনুরোধ   করেন। 

এসময়   অন্যান্যের   মধ্যে   উপস্থিত   ছিলেন   অতিরিক্ত   পুলিশ   সুপার   দোলন   মিয়া ( সদর   সার্কেল),  সদর   থানার   ভারপ্রাপ্ত   কর্মকর্তা ( ওসি মো ওবাইদুর   রহমান জেলা   গোয়েন্দা   শাখার ( ডিবি ওসি   সাজেদুল   ইসলাম   পুলিশের   অন্যান্য   কর্মকর্তাসহ   বিভিন্ন   গণমাধ্যমের   সংবাদিকবৃন্দ।