• 20 Apr, 2026

নড়াইল জেলা হাসপাতালে শিশু ও সাধারণ ওয়ার্ডে চরম ভিড়, চিকিৎসক সংকটে ব্যাহত স্বাস্থ্যসেবা

নড়াইল জেলা হাসপাতালে শিশু ও সাধারণ ওয়ার্ডে চরম ভিড়, চিকিৎসক সংকটে ব্যাহত স্বাস্থ্যসেবা

নড়াইল ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট, বেড স্বল্পতা ও অব্যবস্থাপনায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও স্বজনরা। শিশু ওয়ার্ডে ১৮টি বেডের বিপরীতে ভর্তি ১৪৮ শিশু, সঙ্গে স্বজনদের চাপ—সব মিলিয়ে হাসপাতালের পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

নড়াইল ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের বর্তমান চিত্র যেন স্বাস্থ্যসেবার এক করুণ বাস্তবতা। অনুমোদিত চিকিৎসকের সংখ্যা ৪০ জন হলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ২৩ জন। ফলে সীমিত জনবল নিয়েই চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে বেড সংখ্যা মাত্র ১৮টি। অথচ আজকের রিপোর্ট অনুযায়ী সেখানে ভর্তি রয়েছে ১৪৮ জন শিশু। প্রতিটি শিশুর সঙ্গে অন্তত ২ থেকে ৩ জন স্বজন অবস্থান করায় পুরো ওয়ার্ডে চরম ভিড় ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। কেউ বারান্দায়, কেউ হাসপাতালের মেঝেতে সন্তানকে নিয়ে চিকিৎসার অপেক্ষায় রয়েছেন।

হাসপাতালের এই দৃশ্য দেখে এক সচেতন নাগরিক মন্তব্য করেন, “নিজ চোখে না দেখলে বোঝা যেত না কী বেহাল অবস্থার মধ্য দিয়ে শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”

কর্তব্যরত শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আলিমুজ্জামান সেতু সাংবাদিকদের জানান, “এই বেহাল পরিস্থিতির মধ্যেও আমরা চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছি। প্রয়োজনীয় সিট সংখ্যা না থাকায় কিছুটা কষ্ট হচ্ছে। তারপরও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। সংশ্লিষ্ট মহলের সহযোগিতায় ভবিষ্যতে হাসপাতালের সক্ষমতা উন্নয়নের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”

শুধু শিশু ওয়ার্ড নয়, হাসপাতালের সাধারণ পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডেও একই চিত্র দেখা গেছে। রোগীরা পর্যাপ্ত বেড, বাতাস ও স্বাভাবিক পরিবেশের অভাবে কষ্ট পাচ্ছেন। বিদ্যুৎ চলে গেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দুর্ভোগে পড়তে হয় রোগীদের। রোগ-শোকে কাতর মানুষদের জন্য এই অবস্থা আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠছে।

অথচ দীর্ঘদিন আগে ১০০ শয্যার এই হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ভবন নির্মাণও সম্পন্ন হয়েছে প্রায় অর্ধযুগ আগে। কিন্তু এখনো কার্যক্রম চলছে পুরোনো ৫০-১০০ শয্যার সীমিত ব্যবস্থাতেই। নতুন ভবন চালু না হওয়ায় রোগীদের ভোগান্তি কমছে না। বরং ভবনটির পুনরায় সংস্কারের সময়ও ঘনিয়ে এসেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

নড়াইল জেলার সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবা পরিস্থিতি নিয়ে সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ সাংবাদিকদের জানান, জেলায় ৭টি আরডি, ২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ১টি জেলা হাসপাতাল এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে।

তিনি বলেন, “এসব প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মোট ১১৩ জন চিকিৎসকের পদ রয়েছে। সেখানে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৭৩ জন। অর্থাৎ ঘাটতি রয়েছে ৪০ জন চিকিৎসকের। বিষয়টি ইতোমধ্যে অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। আমরা আশাবাদী দ্রুত এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।”

এদিকে হাসপাতালের বেহাল অবস্থা নিরসনে নড়াইল-১ ও নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্যরা হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। তারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি অবহিত করার আশ্বাস দিয়েছেন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

সাধারণ নাগরিকদের প্রত্যাশা—দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ, বেড সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ২৫০ শয্যার হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু করে নড়াইলের স্বাস্থ্যসেবার এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের সমাধান করা হোক।