• 14 Apr, 2026

নড়াইলে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন | তিন দিনব্যাপী আয়োজন

নড়াইলে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন | তিন দিনব্যাপী আয়োজন

নড়াইলকণ্ঠ, মঙ্গলবার:
বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে নড়াইল জেলায় উৎসবের আমেজে উদযাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা, বর্ণাঢ্য আয়োজন এবং সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দিনটি পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়। জেলা প্রশাসন ও বর্ষবরণ পরিষদের যৌথ উদ্যোগে চৈত্র সংক্রান্তি ১৪৩২ এবং বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনের সূচনা হয় মঙ্গলবার সকালে।

সকালের প্রথম প্রহর থেকেই নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের সুলতান মঞ্চ প্রাঙ্গণ এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বর উৎসবমুখর পরিবেশে ভরে ওঠে। প্রভাতী সংগীতের সুর আর মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে দিনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতীকী প্রকাশ হিসেবে আয়োজিত এ পর্বে অংশ নেন জেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সাংস্কৃতিক কর্মী, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এরপর ব্যানার, ফেস্টুন, রঙিন প্ল্যাকার্ড, ঢাক-ঢোল, কাঁসরের বাদ্যযন্ত্র এবং লোকজ সাজসজ্জায় একটি বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উৎসবের বার্তা ছড়িয়ে দেয় সর্বত্র। শোভাযাত্রায় নারী, পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো ছিল। বর্ণিল পোশাক, মুখোশ ও বৈশাখী প্রতীকে সজ্জিত অংশগ্রহণকারীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে পুরো শহর যেন নববর্ষের রঙে রঙিন হয়ে ওঠে।

শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে নড়াইল জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম। ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. মুস্তাফিজুর রহমান আলেক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (উপ-সচিব) মো. আছাদুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আহসান মাহমুদ রাসেল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নূর-ই-আলম সিদ্দিকীসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। মো. মুস্তাফিজুর রহমান আলেক মো. আছাদুজ্জামান মো. আহসান মাহমুদ রাসেল মো. নূর-ই-আলম সিদ্দিকী

তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে কবিতা আবৃত্তি, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, লোকজ মেলা, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণী এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আয়োজকদের মতে, নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।

উপসংহার: পহেলা বৈশাখের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

পহেলা বৈশাখ বাংলা সনের প্রথম দিন, যা মূলত মুঘল সম্রাট আকবর-এর আমলে কৃষি কর আদায়ের সুবিধার্থে বাংলা সনের প্রবর্তনের মাধ্যমে শুরু হয়। ইতিহাসবিদদের মতে, ১৫৫৬ সালে ফসলি সনের ভিত্তিতে এই বর্ষপঞ্জি চালু করা হয়। সময়ের পরিক্রমায় এটি কেবল প্রশাসনিক ক্যালেন্ডার না থেকে বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতীক হয়ে ওঠে। বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখ আজ অসাম্প্রদায়িক চেতনা, ঐক্য এবং বাঙালিত্বের সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক উৎসব হিসেবে পালিত হয়।