স্টাফ রিপোর্টার : নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার শালনগর ইউনিয়নের রামকান্তপুর গ্রামে মধুমতী নদীর ভাঙ্গনে এবছর বিলীন হয়েছে প্রায় শতাধিক বসতবাড়ী, আবাদী জমি, গাছপালা। ভাঙনের মুখে পড়ে অনেকেই বাড়িঘর সরিয়ে নিয়েছেন অন্যত্র । দির্ঘবছর ধরে মধুমতি নদী ভাঙ্গনের শিকার এই জনপদের মানুষ।
বসভিটা নদীর গর্ভে বসবাস সরকারি রাস্তার উপর, জায়গা-জমি কেনার নেই কোন সামর্থ, রামকান্তপুর গ্রামের গৃহবধু সোনিয়ার শেষ আর্তনাদ নদী না বাঁধলে আমরা কোথায় যাবো! তিনি জানান, এই নদীতে ঘরবাড়ি সব চলে গেছে। এখন রাস্তার উপর থাকি। আমাদের এমন কোন সামর্থ নেই যে অন্য কোন জায়গায় জমি কিনে বাড়িঘরদোয়ার করবো! সরকার যদি নদীটা বাঁইধে দিতো তাহলি যেটুকু জমি-জমা আছে তার উপর বাস করতি পারতাম।
একই গ্রামের আঙ্গুরা বেগম মধুমতি নদীতে বাড়িঘর সর্বস্ব হারিয়ে বসবাস করছেন পরের বাড়িতে। তিনি জানান, আমার কোন সন্তানাদি নেই পরের বাড়িতে থাকতিছি, সরকার যদি আমারে থাকার একটা ব্যবস্থা করে দিতো তাহলি আমি বসবাস করবি পারতাম। সরকারের লোকজন আইসে চলে যায় আমাদের সাথে কোন আলাপ-টালাপ করে না অভিযোগ করে একই গ্রামের সাদ্দাম, মোস্তফারসহ অনেকেই দাবী করেন দ্রুত নদীবাঁন্দার!
এদিকে শালনগর ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি মেম্বর নাজমা বেগম বলেন, আমরা ভিক্ষে-টিক্কে চাই না, সরকার দ্রুত নদী ভাঙ্গন ঠেকানোর ব্যবস্থা নিক তাতেই আমরা খুশি।
নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল সেন বলেন, ইতিমধ্যে জরুরিভিত্তিতে মধুমতি নদীর তীর রক্ষার জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হইছে।
তিনি জানান, মধুমতি নদীর তীরের রামকান্তপুর, মাকড়াইল, রামচন্দ্রপুর, আমডাঙ্গা, আস্তাইল, ধানাইড়, করগাতি ড্রীগিরচর ও চরসুচাইল গ্রাম সমূহে মোট ৩ কি. ৬৫০ মি: নদীর তীররক্ষার জন্য ২৩ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। এ বরাদ্দ পেলে দ্রুতই কাজ শুরু করা হবে।
তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যে শিয়বর বাজার, মল্লিকপুর, করফা ও ঘাঘা এলাকায় মধুমতি নদীর স্থায়ী তীর প্রতিরক্ষা কাজ সম্পূন্ন করা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল সেন আরও জানান, এই নদীর তীরের স্থায়ী রক্ষার ব্যবস্থার জন্য ‘গড়াই নদীর ড্রেজিং ও নদীর তীর প্রতিরক্ষায় গড়াই-মধুমতি নদী সিস্টেম’ বিপিপি’র করার উদ্যোগ নিতে হবে। ‘নদীর একূল ভাঙ্গে ওকূল গড়ে এই তো নদীর খেলা’ এই তো বিধির খেলা’। নদী শাসনের নামে নদী গতিপথ রোধ ও অপরিকল্পিত ব্রীজ নির্মাণ করে নদীর অস্থিত্ব বিলিন হতে চলেছে। নদী সুরক্ষায় নদী কমিশনের জোরালো ভুমিকা দাবী নদী ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের।
মো. আবুল কাশেম মেহেদী (টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি): টাঙ্গাইল মধুপুর শালবনে বসবাসকারী প্রথাগত বনবাসীদের ৮৮টি বন মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত ৩৮৭ জনকে মামলা থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে ২৩১জন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর এবং ১৫৬ জন বাঙালি।