• 18 May, 2024

মাশরাফীর ফাউন্ডেশন ডোনেশন ছাড়াই অর্ধযুগ পার করলো!

মাশরাফীর ফাউন্ডেশন ডোনেশন ছাড়াই অর্ধযুগ পার করলো!

মাশরাফীর ফাউন্ডেশন ডোনেশন ছাড়াই অর্ধযুগ পার করলো! অর্ধযুগ পার করেও কখনো বলা হয়নি 'নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশন' নড়াইলবাসীর সেবায় কি করতে পেরেছে, আর কি পারেনি। কোন রকম ডোনেশন ছাড়া একটা অরাজনৈতিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ছয় বছর আগে 'রান ফর নড়াইল' দিয়ে মানবতার সেবার মহান ব্রত নিয়ে যাত্রা শুরু করে। এসব কথা মাশরাফী তার ফেসবুকে বলেছেন।

আপনাদের এই অলাভজনক প্রতিষ্ঠানটি মানবতার সেবায় স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী এমন কিছু মানবিক কাজের দৃষ্টান্ত রেখেছেন তা হয়তো যাত্রা শুরুর দিনটিতে কেউ কল্পনাও করতে পারেননি। সেবামূলক কাজের মধ্যেও এমন বিশেষ কিছু কাজ থাকে যেগুলোর সাথে নিজের সম্পৃক্ততা মনে অন্যরকম এক প্রশান্তি এনে দেয়।

জীবন ধারনের জন্য 'স্বাস্থ্য সেবা' মানুষের মৌলিক অধিকার গুলোর মধ্যে অত্যন্ত জরুরী একটা খাত। নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশন মানুষের প্রয়োজন বিবেচনায় সবচেয়ে বেশি সময় ও পরিশ্রমের স্বাক্ষর রেখেছেন এই চিকিৎসা খাতে, 

যেমন :

১. ২৪ ঘন্টা রোগীদের সেবায় অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস।

২. রোগ নির্ণয়ের জন্য থাইরোকেয়ার সেন্টার প্রতিস্থাপন করা এবং ৬০% ডিসকাউন্টে রোগীদের অর্থনৈতিক সুবিধা দেওয়া।

৩. শহীদ আব্দুল হাকিম ডায়াবেটিক হাসপাতালের সাথে নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশন যুক্ত হয়ে ডায়াবেটিক রোগী সহ অন্যান্য রোগীদের নামমাত্র ৫০ টাকা টিকিটে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা চিকিৎসা সেবা প্রদান করা।

৪. বহুল প্রতীক্ষিত বড় একটি প্রজেক্ট হলো কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা, যেটা নড়াইলে ইতোপূর্বে সরকারি বেসরকারি কোন প্রতিষ্ঠানে ছিলোনা। জে এম আই গ্রুপের সহযোগিতায় এখন তিনটা উন্নত মানের মেশিন দ্বারা স্বল্প খরচে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা দেওয়া হচ্ছে।

৫. চোখের অপারেশন সহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির রোগীদেরকে চক্ষু বিশেষজ্ঞ  চিকিৎসক দ্বারা কমপক্ষে ২০০০ রোগীর সেবা দেওয়া হয়েছে। 

৬. মহামারী করোনাকালীন সময়ে খাবার, অক্সিজেন সেবা সহ ভ্রাম্যমান চিকিৎসা সেবার মাধ্যমে প্রায় ১৩০০ রোগীর সেবা দেওয়া হয়েছিলো।

শিক্ষা সেবাঃ দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করার জন্য অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে চুক্তি মোতাবেক এখন পর্যন্ত ৬৫ জন শিক্ষার্থীকে ফ্রি স্কলারশিপ দেওয়া হয়েছে।

খেলাধুলাঃ স্পোর্টস একাডেমি যেখানে ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবল ও অ্যাথলেটিক্সে ৩০ জন করে খেলোয়াড় নড়াইল ও লোহাগড়ায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। অনেকেই এই ফাউন্ডেশনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে খেলোয়াড় কোটায় সরকারি বাহিনী গুলোতে সুনামের সাথে প্রতিনিধিত্ব করছেন, বয়স ভিত্তিক খেলোয়াড় তৈরির পাশাপাশি যেটা বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে প্রতিষ্ঠানটির জন্য।

নগরায়নঃ নড়াইল শহরে বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য ডাস্টবিন ও শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকার সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে, যা প্রশাসন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।

এছাড়াও, সুস্থ দেহ সুন্দর মন এই মূলনীতিকে ধারণ করে  আপনাদের সব বয়সী মানুষের শরীর চর্চা ও নড়াইলের খেলোয়াড়দের সুবিধার কথা মাথায় রেখে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত জিমনেসিয়াম  প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনের দীর্ঘ  ৬ বছরের পথ চলায় বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ যারা ওতোপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন বা আছেন, আপনাদের নিঃস্বার্থভাবে অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে ফাউন্ডেশনটি মানবতার সেবায় সফলভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। আপনাদের সকলের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। সামনের দিনগুলোতে আপনাদের সকলের সহযোগিতায় এই অলাভজনক প্রতিষ্ঠানটি মানুষের সেবায় আরও বড় পরিসরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে সেই প্রত্যাশা করি।