• 17 Jun, 2024

‘লাখ টাকায় ভাড়াটে শুটার এনে চেয়ারম্যানকে হত্যা করা হয়’

‘লাখ টাকায় ভাড়াটে শুটার এনে চেয়ারম্যানকে হত্যা করা হয়’

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মল্লিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা কামালকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জড়িত শুটারসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। নেপথ্যের ঘটনা সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে এসেছে চঞ্চল্যকর তথ্য।

 মূলত সাবেক ইউপি সদস্যের সঙ্গে বিরোধ এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হত্যার ঘটনা ঘটে। প্রতিপক্ষ ভাড়াটে শুটার এনে গুলি করে চেয়ারম্যান মোস্তফা কামালকে হত্যা করে। তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্যকে এখনও গ্রেপ্তার হয়নি। গ্রেপ্তার চারজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। গত ১০ মে হত্যার সাত দিন পর বেরিয়ে এলো খুনের রহস্য।গ্রেপ্তার চারজন হলেন, শুটার সাজেদুল মল্লিক (২৫), পাভেল শেখ (২৮), মামুন মোল্যা (২৬) ও রহমত উল্লাহ শেখ (১৯)। এর মধ্যে দুজন ছাত্র, একজন চালক, আরেকজন শ্রমিক। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের বায়েজিদ ও নড়াইল থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

 

শুক্রবার (১৭ মে) সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার আরাফাত ইসলাম।

 

র‌্যাবের মুখপাত্র বলেন, ‘ঘটনার দিন মোস্তফা কামালকে দুর্বৃত্তরা অতর্কিত হামলা ও এলোপাতাড়ি গুলি করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার সময় পদ্মা সেতু পার হওয়ার আগেই তিনি মারা যান। এই হত্যার ঘটনায় তার বড়ভাই বাদী হয়ে লোহাগড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।’

 
 
 

 

র‌্যাবের মুখপাত্র বলেন, ‘দীর্ঘবিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে। মল্লিকপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল ও একই ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার আকবর হোসেন লিপনের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পূর্ব থেকে শত্রুতা ছিল। ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে পূর্ববিরোধের জের ধরে মোস্তফা কামাল এবং আকবর হোসেন লিপনের অনুসারীদের মধ্যে একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সংঘর্ষে লিপন গুরুতর আহত হন এবং তার একটি হাত কাটা পড়ে। পরে লিপন ও তার অনুসারীরা মোস্তফা কামালের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ খুঁজতে থাকে।’

 

 

‘লাখ টাকায় ভাড়াটে শুটার এনে চেয়ারম্যানকে হত্যা করা হয়’

 

 

কমান্ডার আরাফাত ইসলাম বলেন, ‘লিপনের নির্দেশনায় ঘটনার দিন সকালে তার ছোট ভাইয়ের বাড়িতে গ্রেপ্তার সাজেদুলসহ অন্যরা কামালকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সাজেদুলসহ অন্যরা সুইচ গিয়ার চাকু, রাম দাসহ বিদেশি অস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে অপেক্ষা করতে থাকে। মোস্তফা কামাল ঘটনাস্থলে পৌঁছা মাত্রই সুযোগ বুঝে সাজেদুল হাতে থাকা বিদেশি পিস্তল দিয়ে কামালকে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি করেন। যার মধ্যে দুই রাউন্ড গুলি কামালের বুকে ও পিঠে লাগে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। সাজেদুলসহ অন্য সহযোগীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেপ্তার এড়াতে ঢাকা, পতেঙ্গা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পালিয়ে যান এবং আত্মগোপন করেন। এই অবস্থায় চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকা থেকে সাজেদুল, পাভেল ও মামুন র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন। সাজেদুলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রহমত উল্লাহকে নড়াইল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

 

কমান্ডার আরাফাত ইসলাম আরও বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাজিদ মল্লিক জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডে তিনি সরাসরি অংশগ্রহণ করেছেন। ওই সময় তার হাতে চার রাউন্ড গুলি ছিল। সেখান থেকে তিন রাউন্ড গুলি করেন তিনি। এতে চেয়ারম্যানের হাতে, বুকে ও পাজরে লাগে। পরবর্তী সময়ে এই অস্ত্রটি তিনি নড়াইলের মধুমতি নদীতে ফেলে দেন। এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। অন্যদের হাতেও অস্ত্র ছিল। তাদের এক লাখ টাকায় ভাড়া করে আনা হয়ছিল।’

 
 
 

 

জড়িত সাবেক ইউপি সদস্য কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী কিনা বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক পরিচয়টা এখানে মুখ্য নয়, অপরাধটা মুখ্য। আমাদের দেশের প্রত্যেকে কারও না কারও রাজনৈতিক অনুসারী। রাজনৈতিক অনুসরণের সঙ্গে অপরাধের কোনো সম্পর্ক নেই। আমাদের কাছে অপরাধটাই মুখ্য এবং অপরাধী যেই হোক না কেন তাকে আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসব।’