• 24 Feb, 2024

জমি নিয়ে বিরোধ, নড়াইলে ৩ বাড়ি গুড়িয়ে দিল প্রতিপক্ষ

জমি নিয়ে বিরোধ, নড়াইলে ৩ বাড়ি গুড়িয়ে দিল প্রতিপক্ষ

জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে নড়াইল সদরের তারাপুরে একটি পরিবারের ৩ বাড়ি ভাঙচুর করে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে। সেই সাথে চালিয়েছে লুটপাট। লুট করা হয়েছে আসবাবপত্রসহ গরু, সোনা গহনা। গত বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ও শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এই দুইদিন তাণ্ডব চালিয়ে ঘর ভাঙলেও সাহায্যে এগিয়ে আসেনি কেউ।

জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে নড়াইল সদরের তারাপুরে একটি পরিবারের ৩ বাড়ি ভাঙচুর করে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে। সেই সাথে চালিয়েছে লুটপাট। লুট করা হয়েছে আসবাবপত্রসহ গরু, সোনা গহনা। গত বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ও শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এই দুইদিন তাণ্ডব চালিয়ে ঘর ভাঙলেও সাহায্যে এগিয়ে আসেনি কেউ।

এ ঘটনায় পুলিশের জরুরি সেবায় ফোন করেও কোন প্রতিকার পাননি বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তারাপুর গ্রামের নয়ন শেখের পরিবারের সাথে একই গ্রামের জুবায়ের শেখ পরিবারের জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিলো। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গত ৪ ফেব্রুয়ারি প্রতিপক্ষ জুবায়েরকে আক্রমণ করে নয়ন শেখের পক্ষে জুরাইল শেখের লোকজন। জুবায়ের শেখ আহত হয়ে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়।

এ ঘটনার জের ধরে জুবায়ের শেখ পক্ষে আসাদ শেখের নেতৃত্বে গত ৭ ফেব্রুয়ারি রাতে দেশিয় অস্ত্র নিয়ে নয়ন শেখের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা ৪ গরু লুট করে ও ঘরের মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘরে অবস্থানকারী নয়ন শেখের বাবা ও মাকে তাড়িয়ে দিয়ে চলে যায়। এরপর গতকাল (শুক্রবার) রাত ১২ টা থেকে ৩ ঘণ্টা ধরে ভাঙচুর চালিয়ে দুটি টিনশেড দালান মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়। অপর নির্মাণাধীন বাড়ির ছাদ ভেঙ্গে ফেলে।

ঘটনার সময় নয়ন শেখের ৪ ভাই এলাকার বাইরে থাকায় থানায় অভিযোগ করতে পারেনি। 
নড়াইলে জমি নিয়ে বিরোধে একটি পরিবারের ৩ বাড়ি মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে প্রতিপক্ষ। চালিয়েছে লুটপাট । ছবি: সময়ের আলো
 

নয়ন শেখ বলেন, তারা ৩ ঘণ্টা ধরে আমাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করছিলো। আমি খুলনার দৌলতপুর থেকে পুলিশের ৯৯৯ এ ফোন করলে তারা আমাকে মির্জাপুর ফাঁড়িতে যোগাযোগ করতে বলে। আমি ফাঁড়িতে যোগাযোগ করতে না পারায় আমার ঘরগুলো ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে।

খড়রিয়া গ্রামের প্রতিবেশী মুজাহিদ সিকদার, দ্বীন মোহাম্মদ ও জাহিদ হাসান বলেন, আমরা শুনে এসেছি। ভেবেছিলাম অল্প ভেঙ্গেছে এখন দেখছি অমানবিক কাণ্ড। একটি মানুষের আশ্রয়স্থল ভেঙ্গে গুড়িয়ে ফেলা এটা চরম অন্যায়।

এদিকে ভাঙচুরের নেতৃত্বে থাকা পাশের বাড়ির আসাদ শেখের বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তার স্ত্রী রত্না বেগম বলেন, রাতে কারা ঘর ভেঙ্গেছে তা আমরা জানিনা। জমি নিয়ে বিরোধ জুবায়ের এর সাথে আমার স্বামী এ ঘটনায় জড়িত নয়। আসাদ শেখের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

নড়াইল সদর থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, মারামারির ঘটনাটি আমাদের নজরে আছে। সেটার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে বাড়ি ভাঙচুরের কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এটা ৯৯৯ এর সমাধান যোগ্য বিষয় নয় বলে জানান তিনি।