• 19 May, 2024

ব্যতিক্রমি আয়োজনে নড়াইলে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ৫১তম শাহাদতবার্ষিকী পালন

ব্যতিক্রমি আয়োজনে নড়াইলে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ৫১তম শাহাদতবার্ষিকী পালন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি হিসেবে সাতজন বীরকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মরণোত্তর ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধি দেয়া হয়। সেই সাতবীরের একজন হলেন বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ। আজ তাঁর ৫১তম শাহাদতবার্ষিকী পালিত হলো।

উল্লেখ্যঅন্য যে কোন বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তথা কথিত নামী-দামি পোষাকি লোকেদের উপচ্ছেপড়া ভিড় দেখা গেলেও নড়াইলে এই বীরশ্রেষ্ঠের জন্ম  মৃত্যু দিবসে গতানুগতিক দায়িত্বপালনে বাধ্য মানুষগুলো ছাড়া চোখে পড়েনি নামী-দামি পোষাকি লোকেদের উপস্থিতি।এতেই প্রমান মেলে বীবের প্রতি সম্মান  শ্রদ্ধার মাত্রা কতটুকুতে গিয়ে ঠেকেছে।তারপরও বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ ট্রাস্ট এবছর ভিন্ন মাত্রায় পালন করেছে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ৫১তম শাহদতবার্ষিকী।

এবার প্রথম চোখে পড়লো অনুষ্ঠানের আস-পাস দিয়ে ঘুরে বেড়ানো শিশুদের ডেকে তাদের হাতে ফুলের মালা দিয়ে বীবের স্মৃতিস্তম্ভে সম্মান প্রদর্শন করলেন নড়াইলের নবাগত পুলিশ সুপার সাদিরা খাতুন।

এবছর মাধ্যমিক  কলেজ পর্যায় বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের জীবনী  কর্মের ওপর মাধ্যমিক  কলেজ পর্যায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে কুইজ প্রতিযোগিতাজেলা পর্যায় সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা  দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।এর আগে জেলা শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে একই থীমের ওপর কলেজ পর্যায় কবিতারচনা  সংগীত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।বহুদিন পর হলেও পুনরায়  প্রজন্মের সন্তানদের সামনে নিয়ে আসা হলো বীরের ব্যবহৃত সেই বাইসাইকেলটি।

প্রতিবারের ন্যায় এবছরও বীরশ্রেষ্ঠ নুর মোহাম্মদ ট্রাস্ট  জেলা প্রশাসনের আয়োজনে স্মৃতিস্তম্ভে জেলা প্রশাসনবীরশ্রেষ্ঠ নুর মোহাম্মদ ট্রাস্টপুলিশ প্রশাসনমুক্তিযোদ্ধা সংসদজেলা আওয়ামীলীগজেলা পরিষদবীরশ্রেষ্ঠ নুর মোহাম্মদ মহাবিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলের শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হয়।জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এই বীর যোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় সন্মান গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

এসময় বীরশ্রেষ্ঠ নুর মোহাম্মদ ট্রাষ্টের সভাপতি  জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানপুলিশ সুপার মোসাঃ সাদিরা খাতুনবীরশ্রেষ্ঠ নুর মোহাম্মদ ট্রাস্টের সদস্য সচিব মোআজিজুর রহমান ভূঁইয়াঅতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিকফকরুল হাসানঅতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্বশ্বাশতী শীলঅতিরিক্ত জেলা ম্যাজিট্রেট জুবায়ের হোসেন চৌধুরীনড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহি অফিসারসাদিয়া ইসলামবীরমুক্তিযোদ্ধা সাইফুর রহমান হিলুবীরমুক্তিযোদ্ধা এ্যাডভোকেট এস  মতিনবীরশেষ্ঠ নুর মোহাম্মদের ছেলে মোস্তফা কামালবীরশ্রেষ্ঠ নুর মোহাম্মদ মহাবিদ্যালয়মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষাথীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশরা মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

পরে বীরশ্রেষ্ঠ নুর মোহাম্মদ স্মৃতি যাদুঘরে আলোচনাসভামরহুমের আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়াকুইজ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ এবং ২৫০জন হতদরিদ্রদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ খাদ্য ১০ কেজি করে চাউল বিতরণ করা হয়।

উল্লেখ্যবীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের জন্ম ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারিতেনড়াইল জেলার মহিষখোলা গ্রামে।বাবা মোহাম্মদ আমানত শেখমা জেন্নাতুন্নেসা। ছেলেবেলায় বাবা-মাকে হারানোয় বেশিদূর লেখাপড়া করতে পারেননি৷ ১৯৫৯ সালে যোগ দেন পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর)-এ। ১৯৭০ সালে ল্যান্স নায়েক পদে উন্নীত হয়ে আসেন যশোর সেক্টর সদর দপ্তরে।

১৯৭১ সালের মার্চ মাসে গ্রামের বাড়িতে ছুটি কাটাতে আসেন নূর মোহাম্মদ৷ জাতির সে ক্রান্তিলগ্নে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারেননি তিনি৷ যোগ দেন মুক্তিবাহিনীতে৷ ১৯৭১-এর  সেপ্টেম্বর নূর মোহাম্মদকে অধিনায়ক করে একটি স্ট্যান্ডিং পেট্রোল পাঠানো হয় যশোর জেলার গোয়ালহাটি গ্রামে৷ টের পেয়ে পাক সেনারা চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে তাঁদের৷ শুরু হয় গুলিবর্ষণ৷ সহযোদ্ধাদের বাঁচাতে জীবনবাজি রেখে আক্রমনের মোকাবেলা করতে থাকেন নূর মোহাম্মদ শেখ৷ এক পর্যায়ে কামানের গোলার আঘাতে লুটিয়ে পড়েন সেখানেই৷ পরে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করেন সহযোদ্ধারা৷

যশোরের কাশিপুর গ্রামে সমাহিত আছেন এই বীর যোদ্ধা৷ সেখানে এখন তাঁর নামে রয়েছে একটি স্মৃতি জাদুঘর  পাঠাগার৷ তাঁর সম্মানে জন্মস্থান মহিষখোলা গ্রামের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে নূর মোহাম্মদ নগর