বিজ্ঞাপন

নড়াইলে জাতীয় নারী নৌকাবাইচ, স্বাস্থ্য ক্যাম্প ও সাংস্কৃতিক উৎসবের উদ্বোধন

  • নড়াইলের সমৃদ্ধ ইতিহাস, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও পর্যটন সম্ভাবনাকে…
  • য় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার প্রত্যয়ে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যা…
  • পী ‘জাতীয় নারী নৌকাবাইচ, সাংস্কৃতিক উৎসব ও ফ্রি হেলথ ক্যাম্প ২০২৬’।
নড়াইলে জাতীয় নারী নৌকাবাইচ, স্বাস্থ্য ক্যাম্প ও সাংস্কৃতিক উৎসবের উদ্বোধন
১৬টি মতুয়া নারী দলের অংশগ্রহণে নৌকাবাইচ; প্রথম দিনেই স্বাস্থ্য ক্যাম্পে সেবা পেলেন পাঁচ শতাধিক মানুষ, নড়াইলের পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগানোর আহ্বান

নড়াইলকণ্ঠ : শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় নড়াইল সদর উপজেলার শেখহাটি ইউনিয়নের এগারোখান অঞ্চলের গুয়াখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে উৎসবের উদ্বোধন করেন নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম। উৎসবে ১৬টি মতুয়া নারী দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। পাশাপাশি বিনামূল্যে স্বাস্থ্য ক্যাম্পে প্রথম দিনেই পাঁচ শতাধিক মানুষ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা পেয়েছেন।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসব বাস্তবায়ন করছে অলকাপুরী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও স্পেলবাউন্ড কমিউনিকেশনস লিমিটেড। নদীমাতৃক বাংলাদেশের লোকজ ঐতিহ্য ও গ্রামীণ পর্যটনকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে তুলে ধরা, পর্যটন কর্মকাণ্ডে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নড়াইল সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও অসংখ্য গুণী ব্যক্তিত্বের অবদানে দেশের মধ্যে বিশেষ মর্যাদা অর্জন করেছে। বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের সৃষ্টিকর্ম, জারি সম্রাট মোসলেম উদ্দীনের লোকসংগীত এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নৃত্যশিল্পী উদয় শংকর ও সেতারবাদক পণ্ডিত রবিশংকরের পৈতৃক শিকড় নড়াইলের সঙ্গে যুক্ত। এসব গুণী মানুষের অবদান নড়াইলকে শিল্প-সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ জনপদে পরিণত করেছে। তিনি জেলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও পর্যটনসম্পদকে জাতীয় পর্যায়ে আরও তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মোঃ সামীমুজ্জামান বলেন, নড়াইলের সমৃদ্ধ ইতিহাস, সংস্কৃতি ও গুণীজনদের ঐতিহ্যকে কাজে লাগিয়ে জেলাটিতে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করা সম্ভব। বিশেষ করে বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের চিত্রকর্ম ও স্মৃতিবিজড়িত বাড়িকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র বা পর্যটন হাব গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করতে চায়। এর মাধ্যমে দেশের শিল্প-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিশ্বদরবারে তুলে ধরার পাশাপাশি স্থানীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। মতুয়া সম্প্রদায়ের নারী নৌকাবাইচের মতো আয়োজন নারীর ক্ষমতায়ন এবং তাঁদের মূলধারার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উপসচিব) লিংকন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের পরিচালক মোঃ গনী উল আজম, নড়াইলের সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রশিদ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর-ই-আলম সিদ্দিকী।

এ সময় সাপ্তাহিক নড়াইলকণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক কাজী হাফিজুর রহমান নড়াইলের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গুণীজনদের অবদান তুলে ধরে জেলাটিকে পর্যটন জেলা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান। তিনি নড়াইলের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে লেখা এবং স্থিরচিত্রসম্বলিত একটি অ্যালবাম ও পর্যটনের শর্ত পূরণে প্রয়োজনীয় দাবিনামা সংবলিত পত্র প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মোঃ সামীমুজ্জামানের হাতে তুলে দেন।

উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ১৬টি মতুয়া নারী দলের অংশগ্রহণে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। গ্রামবাংলার দীর্ঘদিনের লোকজ ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা এবং নারীদের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। নৌকাবাইচের পাশাপাশি রয়েছে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টিও উৎসবে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। দুই দিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিনামূল্যে স্বাস্থ্য ক্যাম্প পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা এবং বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দিনেই পাঁচ শতাধিক মানুষ এ ক্যাম্প থেকে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেছেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অলকাপুরী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সভাপতি বনানী বিশ্বাস। তিনি তৃণমূল পর্যায়ের নারীদের এগিয়ে নিতে এ আয়োজনকে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি দুই দিনব্যাপী উৎসবের বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরেন।

উৎসবের পাওয়ার্ড বাই পার্টনার গ্লোবাল মেডিক্লাউড (বিডি) লিমিটেড এবং স্পন্সর টি. কে. গ্রুপ। সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (UNFPA), হাইপারটেনশন অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, রংপুর, ইউনিকো হসপিটালস, এটুআই (a2i), মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP)।

এর আগে উৎসবের উদ্দেশ্য, কর্মসূচি ও প্রস্তুতি তুলে ধরতে ৩ নভেম্বর নড়াইল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের পরিচালক (বাণিজ্যিক) মোঃ গনী উল আজম, মহাব্যবস্থাপক (বিক্রয় উন্নয়ন ও জনসংযোগ) মোহাম্মদ এহসানুল কবীর, স্পেলবাউন্ড কমিউনিকেশনস লিমিটেডের অ্যাকাউন্ট ডিরেক্টর শাহ হাসিবুর রহমান এবং অলকাপুরী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সভাপতি বনানী বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, নারী নৌকাবাইচ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও বিনামূল্যের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে নড়াইলের লোকজ ঐতিহ্য ও পর্যটন সম্ভাবনা নতুনভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে নারীর ক্ষমতায়ন, স্থানীয় সংস্কৃতির সংরক্ষণ এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কল্যাণে এ উৎসব ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

বিজ্ঞাপন