বিজ্ঞাপন

আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় ফের ৪ দিনের রিমান্ডে এমপি নজরুল

  • দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় সংসদ সদস্য জি এম নজরুল ইসলামের ফের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
  • বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
  • প্রথম দফার চার দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল।
আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় ফের ৪ দিনের রিমান্ডে এমপি নজরুল
প্রথম দফার রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হলে তদন্ত কর্মকর্তার সাত দিনের আবেদনের পর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

নড়াইলকণ্ঠ ডেস্ক :    দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় সংসদ সদস্য জি এম নজরুল ইসলামের ফের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে প্রথম দফার চার দিনের রিমান্ড শেষে এমপি নজরুল ইসলামকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ সালাউদ্দিন তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার অন্য দুই আসামি নিহত মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমান এবং নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে এরই মধ্যে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মাকছুদাকে এক দিনের রিমান্ড শেষে ২২ সেপ্টেম্বর কারাগারে পাঠানো হয়। আর ওবায়দুর রহমানকে ঢাকার বাইরে থেকে গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে রাতে সংসদ সদস্য জি এম নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

ওই রাতেই মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এজাহারে মরিয়মের বাবা অভিযোগ করেন, গত জুনে তার মেয়ে মরিয়মের সঙ্গে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলামের বিয়ে হয়। বিয়ের পর সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি বাসায় নজরুল, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ও মরিয়ম একসঙ্গে থাকতেন। এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, বিয়ের পর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

মামলার এজাহারে কয়েকটি চিরকুটের কথাও উল্লেখ করেছেন মরিয়মের বাবা। সেখানে সম্পর্ক, বিশ্বাসভঙ্গ ও দাম্পত্য পরিস্থিতি নিয়ে মরিয়মের লেখা বিভিন্ন বক্তব্য থাকার কথা বলা হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে এসব চিরকুটসহ অন্যান্য আলামত যাচাই করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এর আগে গত ২০ জুলাই ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেলে মরিয়মের সঙ্গে এমপি নজরুলের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বলে দাবি করেছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের কেউ কেউ। পরে নজরুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ওই তরুণীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন।

এরপর সাংগঠনিক তদন্তের পর নৈতিক স্খলনের অভিযোগে ২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াতে ইসলামী। পরে বিরোধী দল এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেয়।

বর্তমানে মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়ায় পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে।

বিজ্ঞাপন