ঢাকায় সরকারি ব্রজলাল কলেজের (বিএল কলেজ) সাবেক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে বিএল কলেজ অ্যালামনাই ঢাকা শাখার আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানকে ঘিরে সকাল থেকেই মিলনায়তনে সাবেক শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন পর একে অপরের সঙ্গে মিলিত হন। তাঁদের অনেককে পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণ, সহপাঠীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় এবং কলেজজীবনের নানা ঘটনা নিয়ে আনন্দঘন সময় কাটাতে দেখা যায়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএল কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জহির উদ্দিন স্বপন, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের হুইপ রফিকুল ইসলাম বকুল, সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আসগর লবি, এস কে আজিজুল বারী হেলাল, মো. মনোয়ার হোসেন, মো. মোক্তার আলী এবং শেখ জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলাল উপস্থিত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম মঞ্জু, বিএল কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ জাফর ইমাম এবং মহাসচিব রেজাউল হক মানিক।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএল কলেজ অ্যালামনাই ঢাকা শাখার আহ্বায়ক মো. আবু আবদুল্লাহ। প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ঢাকা শাখার সদস্যসচিব মোল্যা এনায়েত হোসেন ইনু।
শতবর্ষের ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ বিএল কলেজ
খুলনার দৌলতপুরে অবস্থিত সরকারি ব্রজলাল কলেজ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উচ্চশিক্ষার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। শিক্ষানুরাগী ব্রজলাল চক্রবর্তী (শাস্ত্রী) ১৯০২ সালের জুলাই মাসে ‘হিন্দু একাডেমি’ নামে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে দুটি টিনশেড ঘরে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটি ব্রজলাল হিন্দু একাডেমি এবং পরে ব্রজলাল কলেজ বা বিএল কলেজ নামে পরিচিতি লাভ করে। ১৯৬৭ সালের ১ জুলাই কলেজটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়।
দীর্ঘ পথপরিক্রমায় প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। এর সঙ্গে যুক্ত অসংখ্য সাবেক শিক্ষার্থী দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন। সেই শিক্ষার্থী ও তাঁদের স্মৃতিকে একই বন্ধনে যুক্ত করার লক্ষ্যেই অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের এ ধরনের আয়োজন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
পুনর্মিলনীতে সাবেক শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, কলেজের ঐতিহ্য ও স্মৃতি সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঙ্গে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
দীর্ঘদিন পর সহপাঠীদের একসঙ্গে কাছে পাওয়ার আনন্দ, পুরোনো দিনের গল্প আর প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি ভালোবাসায় দিনটি অংশগ্রহণকারীদের কাছে স্মরণীয় হয়ে ওঠে।