সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠক রোববার:
সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে বিভিন্ন অংশীজনের মতামত জানতে ধারাবাহিকভাবে মতবিনিময় সভার আয়োজন করছে সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ সংসদীয় কমিটি। এর অংশ হিসেবে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর দুপুর আড়াইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
সভায় প্রিন্ট মিডিয়ার প্রতিনিধি, বিশিষ্ট সাংবাদিক, সম্পাদক এবং প্রেসক্লাব, সাংবাদিক সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। সংবিধান সংশোধনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মতামত ও পরামর্শ শুনবে কমিটি।
মতামত নেওয়া হবে বিভিন্ন মহলের:
শুধু গণমাধ্যম নয়, জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, শহীদ পরিবারের সদস্য, শিক্ষক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকেও মতামত নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কমিটির।
এসব মতামত পর্যালোচনা করে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।
দ্রুত কাজ শেষ করার লক্ষ্য:
সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ সংসদীয় কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
তিনি জানান, আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত সংগঠনের প্রতিনিধি, শহীদ পরিবারের সদস্য, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের মতামত সংগ্রহ করবে কমিটি। এসব বক্তব্যের ভিত্তিতেই জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদের ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই জাতীয় সনদের বাইরে যদি কোনো পরিপূরক প্রস্তাব আসে এবং তা জাতীয় জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়, সেসব বিষয়ও পরামর্শ হিসেবে গ্রহণ করবে কমিটি।
প্রতি সপ্তাহে বৈঠকের পরিকল্পনা
কমিটির সভাপতি জানান, কাজটি দ্রুত শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে তাদের। এজন্য প্রয়োজনে প্রতি সপ্তাহে একটি করে বৈঠক করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে সংগৃহীত মতামত ও প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। পরে সেই প্রতিবেদন জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে।
ডিসেম্বরের মধ্যে রিপোর্ট
গত ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বিশেষ সংসদীয় কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে কাজের সময়সীমা নিয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেখানে রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করে জাতীয় সংসদে প্রতিবেদন উপস্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ফলে আগামী কয়েক মাসে গণমাধ্যম, রাজনৈতিক দল, জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংগঠন, শহীদ পরিবার, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়ার প্রক্রিয়া জোরদার হবে।
কমিটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব মতামত ও পরামর্শ বিবেচনায় নিয়ে সংবিধান সংশোধনের সুপারিশ চূড়ান্ত করা হবে। এরপর জাতীয় সংসদে প্রতিবেদন উপস্থাপনের মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।