নড়াইলকণ্ঠ : নড়াইলের কালিয়া উপজেলার চাঁচুড়ি নাঙ্গুলিয়া গ্রামে গৃহবধূ লাজিনার (২০) মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মানবাধিকার লঙ্ঘন, নারীর প্রতি সহিংসতা এবং যৌতুক নির্যাতনের অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের স্বজনরা দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের একপর্যায়ে লাজিনাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।
নিহতের মামা জার্জিস শেখ জানান, পারিবারিকভাবে প্রায় পাঁচ বছর আগে একই উপজেলার চাঁচুড়ি নাঙ্গুলিয়া গ্রামের আব্দুর রহমানের সঙ্গে লাজিনার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, লাজিনার ইচ্ছা ছিল সন্তানকে মাদ্রাসায় পড়িয়ে কোরআনের হাফেজ হিসেবে গড়ে তোলা। কিন্তু তার অকাল মৃত্যু সেই স্বপ্ন অসমাপ্ত রেখে গেল।
স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে লাজিনার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চলতে থাকে। প্রথমে বিদেশে যাওয়ার জন্য স্বামীর দাবিতে লাজিনার পরিবার দুই লাখ টাকা দেয়। পরে বিদেশ থেকে ফিরে ইজিবাইক কেনার জন্য আরও এক লাখ টাকা দাবি করা হলে, আর্থিক অসচ্ছলতা সত্ত্বেও ধারদেনা করে সেই অর্থও দেওয়া হয়। এরপরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি বলে পরিবারের অভিযোগ।
নিহতের স্বজনদের দাবি, গত ২ জুলাই দুপুরে লাজিনাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় এবং ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর উদ্দেশ্যে মরদেহ রান্নাঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানাবে।
খবর পেয়ে কালিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। শুক্রবার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইদ্রিস আলী জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বজনরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। মানবাধিকারকর্মীদের মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি শুধু একটি পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা নয়, বরং নারীর জীবন, নিরাপত্তা ও মর্যাদার অধিকারের গুরুতর লঙ্ঘনের উদাহরণ হিসেবেও বিবেচিত হবে।