স্টাফ রিপোর্টার : নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চরদিঘলিয়া গ্রামে সুমনা রওশনা আক্তার (৩৭) নামে এক গৃহবধূকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী লিমন মল্লিকের (২৭) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত লিমন মল্লিককে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন তিনি।
সোমবার (১৫ জুন) সকালে উপজেলার দিঘলিয়া ইউনিয়নের চরদিঘলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে একই দিন রাতে অভিযুক্ত লিমন মল্লিককে আটক করা হয়।
নিহত সুমনা রওশনা আক্তার লোহাগড়া উপজেলার চরদিঘলিয়া গ্রামের ইদ্রিস মল্লিকের ছেলে লিমন মল্লিকের দ্বিতীয় স্ত্রী। সুমনার বাবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলার দৌলতদী গ্রামে। তার বাবার নাম বাবর আলী ফকির।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করার সময় লিমন ও সুমনার পরিচয় হয়। পরে ২০২১ সালে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এটি ছিল লিমনের দ্বিতীয় এবং সুমনার চতুর্থ বিয়ে। বিয়ের পর সুমনাকে নিয়ে নিজ বাড়িতে চলে আসেন লিমন। তবে প্রথম স্ত্রী ও সন্তান থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় স্ত্রীকে বাড়িতে নিয়ে আসায় পরিবারে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে লিমনের প্রথম স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে রংপুরে চলে যান।
এরপর চায়ের দোকান পরিচালনা, কাঠ কাটার শ্রমিকের কাজ এবং পরে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে একটি ইজিবাইক কিনে চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন লিমন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, লিমনের অনুপস্থিতিতে সুমনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে বিভিন্ন ভিডিও প্রকাশ করতেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল।
সোমবার সকালে টিকটক ব্যবহার ও অনলাইনে যোগাযোগ নিয়ে তাদের মধ্যে আবারও বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে লিমনের মারধরে সুমনা আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর জন্য ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয় বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার পর লিমন স্বাভাবিকভাবে কাজে চলে যান। বিকেলে বাড়িতে ফিরে নিজেই চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রাত প্রায় ১টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন ও প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ এটিকে আত্মহত্যা নয়, বরং হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে।
নিহতের মা রোশেদা বেগম বলেন, “সোমবার দুপুরের পর জামাই লিমন আমাকে ফোন করে বলে, ‘আপনার মেয়েকে মেরে ফেলেছি।’ প্রথমে আমি বিষয়টি বিশ্বাস করিনি। পরে সন্ধ্যায় এক মেম্বার ফোন করে মেয়ের মৃত্যুর খবর জানান। এরপর লোহাগড়া থানা পুলিশও আমাকে বিষয়টি নিশ্চিত করে।”
লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “আটক লিমন মল্লিক প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর জন্য মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
টিকটক নিয়ে কলহ, স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামী আটক
- নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চরদিঘলিয়া গ্রামে টিকটক ব্যবহার নিয়ে দাম্পত্য কলহের জেরে সুমনা রওশনা আক্তারকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী লিমন মল্লিকের বিরুদ্ধে।
- ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
- নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চরদিঘলিয়া গ্রামে টিকটক ব্যবহার নিয়ে দাম্পত্য কলহের জেরে সুমনা রওশনা আক্তারকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী লিমন মল্লিকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।