বিজ্ঞাপন

নড়াইলের গ্রন্থাগারে হাজারো বই, পাঠকের উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কম

  • নড়াইল জেলার সরকারি ও বেসরকারি গ্রন্থাগারগুলোতে হাজার হাজার মূল্যবান বই সংরক্ষিত থাকলেও দিন দিন কমে যাচ্ছে পাঠকের সংখ্যা।
  • আধুনিক প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবে নতুন প্রজন্ম বই থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় একসময় পাঠকের কোলাহলে মুখর থাকা লাইব্রেরিগুলো এখন অনেকটাই নীরব হয়ে পড়েছে।
  • নড়াইল জেলার সরকারি ও বেসরকারি গ্রন্থাগারগুলোতে হাজার হাজার মূল্যবান বই সংরক্ষিত থাকলেও দিন দিন কমে যাচ্ছে পাঠকের সংখ্যা। আধুনিক প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবে নতুন প্রজন্ম বই থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় একসময় পাঠকের কোলাহলে মুখর থাকা লাইব্রেরিগুলো এখন অনেকটাই নীরব হয়ে পড়েছে।
নড়াইলের গ্রন্থাগারে হাজারো বই, পাঠকের উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কম
ছবি: নড়াইল কণ্ঠ

নড়াইলে গ্রন্থাগারে হাজারো বই, নেই পাঠকের ভিড়
স্টাফ রিপোর্টার : নড়াইল জেলার সরকারি-বেসরকারি গ্রন্থাগারগুলোতে থরে থরে সাজানো রয়েছে হাজার হাজার মূল্যবান বই। সাহিত্য, ইতিহাস, বিজ্ঞান, রাজনীতি, শিশুতোষ কিংবা জীবনী—জ্ঞানচর্চার প্রায় সব শাখার বই রয়েছে এসব লাইব্রেরিতে। বছরের পর বছর ধরে সংরক্ষিত অনেক দুর্লভ ও মূল্যবান বই থাকলেও যাদের জন্য এই বিশাল আয়োজন, সেই পাঠকদের উপস্থিতিই এখন সবচেয়ে কম।
নড়াইল জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারে একসঙ্গে দুই শতাধিক পাঠকের বসে বই পড়ার সুযোগ রয়েছে। পাঠকদের জন্য রয়েছে পৃথক পুরুষ, নারী, জব ও পত্রিকা কর্নার। প্রায় ৪০ হাজার বইয়ের সমৃদ্ধ সংগ্রহ থাকা সত্ত্বেও প্রতিদিন গড়ে মাত্র ৩৫ থেকে ৪০ জন পাঠক সেখানে আসেন। 

শিশু কর্নারে এখনও কিছু শিক্ষার্থীর আনাগোনা থাকলেও মূল পাঠকক্ষ অধিকাংশ সময় ফাঁকাই পড়ে থাকে। জেলার প্রায় ২০ থেকে ২২টি সরকারি ও বেসরকারি গ্রন্থাগারেই একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মোবাইল ফোন, ট্যাব, কম্পিউটার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে নতুন প্রজন্ম বই পড়ার অভ্যাস থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। একসময় যেখানে পাঠকদের বসার জায়গার সংকট ছিল, সেখানে এখন আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও পাঠকের দেখা মিলছে না। 

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তরুণ প্রজন্মকে আবারও বইমুখী করতে নিয়মিত সেমিনার, পাঠচক্র, বই পড়া উৎসব এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরি ব্যবহারে উৎসাহ বৃদ্ধি ও যুগোপযোগী বই সংগ্রহ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া দরকার। 

আব্দুল হাই ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান মল্লিক বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার নতুন প্রজন্মকে বইয়ের পাতা থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। লাইব্রেরিগুলোকে সচল রাখতে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে। 

স্কুল-কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও উৎসবের মাধ্যমে আবার বইমুখী করার পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের। 

নড়াইলের সচেতন মহলের প্রত্যাশা, অমূল্য বইগুলো আবারও পাঠকের হাতে পৌঁছাবে এবং সমাজে জ্ঞানচর্চার পরিবেশ ফিরে আসবে। 

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন