বিজ্ঞাপন

খুলনা আর্ট একাডেমিতে সংগীতশিল্পী পারিজাত সরকারকে ফুলেল শুভেচ্ছা, নতুন গান প্রকাশের পরিকল্পনার কথা জানালেন

  • ঢাকা থেকে আগত বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী পারিজাত সরকার খুলনা আর্ট একাডেমি পরিদর্শন করেছেন।
  • এ সময় তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানায় একাডেমি কর্তৃপক্ষ।
  • পরিদর্শনকালে তিনি সংগীতজীবনের অভিজ্ঞতা, গুরুর প্রতি কৃতজ্ঞতা, নতুন গান প্রকাশের পরিকল্পনা এবং শিল্প-সংস্কৃতি বিকাশে খুলনা আর্ট একাডেমির ভূমিকার প্রশংসা করেন।
খুলনা আর্ট একাডেমিতে সংগীতশিল্পী পারিজাত সরকারকে ফুলেল শুভেচ্ছা, নতুন গান প্রকাশের পরিকল্পনার কথা জানালেন
ছবি: নড়াইল কণ্ঠ

নড়াইলকণ্ঠ: ঢাকা থেকে আগত বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী পারিজাত সরকার খুলনা নগরীর ইকবাল নগরের ৩৬ নম্বর আয়েশা কটেজে অবস্থিত সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান খুলনা আর্ট একাডেমি পরিদর্শন করেছেন। শনিবার (১১ জুলাই) একাডেমিতে পৌঁছালে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান খুলনা আর্ট একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন একাডেমির সহকারী পরিচালক শিলা বিশ্বাস, সহকারী শিক্ষিকা শর্মি দেবনাথ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে জান্নাতি ইসলাম, রোজা ইসলাম, অয়ন মুখার্জি, নুহাশ মন্ডল যশ, আনশারাহ, ঈশানসহ আরও অনেকে।

পরিদর্শন শেষে এক সৌহার্দ্যপূর্ণ মতবিনিময় অনুষ্ঠানে পারিজাত সরকার তাঁর সংগীতজীবনের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত ১৭ বছর ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে সংগীতচর্চা করে আসছেন। নিজের সুর ও সংগীতে প্রকাশিত ‘নিয়ম ভাঙা’ এবং ‘দেখে বহুদূর’ গান দুটি তাঁর বিশেষ প্রিয়। পাশাপাশি তাঁর প্রকাশিত একাধিক কভার গানও শ্রোতাদের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। বর্তমানে তিনি নতুন নতুন কম্পোজিশন নিয়ে কাজ করছেন এবং শিগগিরই নিজের সুর ও সংগীতে আরও কয়েকটি নতুন গান প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান।

বিজ্ঞাপন

সংগীতজীবনের সূচনায় যাঁর কাছ থেকে তিনি হাতেখড়ি নিয়েছেন, সেই গুরুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে পারিজাত সরকার বলেন, তাঁর গুরুর দিকনির্দেশনা, অনুপ্রেরণা ও শিক্ষাই তাঁকে আজকের অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে। জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে তিনি গুরুর অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবেন বলেও উল্লেখ করেন।

খুলনা আর্ট একাডেমি সম্পর্কে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, “এই প্রতিষ্ঠান আমার কাছে শুধু একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান নয়, বরং আরেকটি পরিবারের মতো। চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস একজন নিবেদিতপ্রাণ শিল্পী, শিক্ষক ও সংস্কৃতিসেবক। নতুন প্রজন্মের শিল্পী গড়ে তুলতে তাঁর নিরলস অবদান সত্যিই প্রশংসনীয়।

তিনি আরও বলেন, “খুলনা আর্ট একাডেমির মাধ্যমে অসংখ্য শিল্পী তৈরি হয়েছে। আমার ভাই জয়দুতি সরকারও চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাসের হাত ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় অধ্যয়নের সুযোগ পেয়েছে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠান দেশের শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।”

দীর্ঘদিন পর একাডেমিতে এসে সংগ্রহশালা পরিদর্শন, শিল্প-সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মতবিনিময়ের সুযোগ পেয়ে তিনি আনন্দ প্রকাশ করেন। তাঁর ভাষায়, এমন সৃজনশীল পরিবেশ একজন শিল্পীকে নতুনভাবে ভাবতে, শিখতে এবং সৃষ্টিশীল কাজে আরও অনুপ্রাণিত করে।

পরিদর্শন শেষে শিশু শিল্পীদের উপস্থিতিতে খুলনা আর্ট একাডেমির পক্ষ থেকে পারিজাত সরকারকে আবারও ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের শিল্প-ঐতিহ্য সংরক্ষণ কার্যক্রম, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আশা প্রকাশ করেন, শিল্পী পারিজাত সরকারের এই সফর খুলনা আর্ট একাডেমির শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে এবং ভবিষ্যতে শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশে এমন পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।

বিজ্ঞাপন