বিজ্ঞাপন

ফুটবল বিরোধে নড়াইলে বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যা

  • নড়াইল সদর উপজেলার ভদ্রবিলা গ্রামে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে কয়েকদিনের বিরোধের জেরে ৭০ বছর বয়সী কৃষিজীবী মোস্তফা কাজীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
  • সালিশ বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়ার পথে হামলার শিকার হন তিনি।
  • এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ফুটবল বিরোধে নড়াইলে বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যা
ছবি: নড়াইল কণ্ঠ

নড়াইলকণ্ঠ :  নড়াইল সদর উপজেলার ভদ্রবিলা গ্রামে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে ৭০ বছর বয়সী কৃষিজীবী মোস্তফা কাজীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ভদ্রবিলা বাজারের অদূরে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (২৯ জুন) ভদ্রবিলা মাঠে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ভদ্রবিলা ও পাশের পলাইডাঙ্গা গ্রামের কিশোর-তরুণদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে সেই বিরোধ মারামারিতে রূপ নেয়। একপর্যায়ে দুই গ্রামের বয়স্করাও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি শান্ত করতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সালিশ বৈঠকের উদ্যোগ নেন।

শুক্রবার বিকেলে ভদ্রবিলা বাজারে উভয় পক্ষকে নিয়ে সালিশ হওয়ার কথা ছিল। সেই সালিশে অংশ নিতে পলাইডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা মোস্তফা কাজী ভদ্রবিলার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। অভিযোগ রয়েছে, পথে ভদ্রবিলা বাজারের কাছাকাছি পৌঁছালে আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা প্রতিপক্ষের কয়েকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

বিজ্ঞাপন

হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে এবং তার পায়ের রগ কেটে দেয় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা যায়। তবে তিনি তখনও জীবিত আছেন—এমন আশা নিয়ে স্বজনরা দ্রুত নড়াইল সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মোস্তফা কাজীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই নড়াইল সদর হাসপাতালে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে হাসপাতালজুড়ে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। নিহতের পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে নড়াইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন