নড়াইলকণ্ঠ ডেস্ক : নড়াইল-২ (সদরের একাংশ ও লোহাগড়া) আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান (বাচ্চু)–এর ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদান তালিকায় তাঁর মেয়ের নাম থাকার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ সচিবালয় থেকে অনুমোদিত একটি অনুদান তালিকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।
ভাইরাল হওয়া ওই নথিতে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে মোট ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা ২১ জন উপকারভোগীর মধ্যে বিতরণের অনুমোদনের তথ্য রয়েছে। তালিকায় একই নামে দুটি এন্ট্রি—‘ফাইজা’—থাকায় এবং বাবার নামের স্থানে ‘মো. বাচ্চু’ ও ‘মো. আতাউর’ উল্লেখ থাকায় অভিযোগ ওঠে, সেখানে সংসদ সদস্যের মেয়ের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দুই ক্ষেত্রেই অনুদানের পরিমাণ ১০ হাজার টাকা করে উল্লেখ রয়েছে।
এ ছাড়া তালিকার অধিকাংশ উপকারভোগী সংসদ সদস্যের নিজ ইউনিয়ন হবখালী এবং শ্বশুরবাড়ির এলাকা লাহুড়িয়ার বাসিন্দা—এমন অভিযোগও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উঠে আসে।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বলেন, সচিবালয়ে জমা দেওয়া তালিকাটি তাঁর ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) প্রস্তুত করেছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি তখন এলাকায় ছিলেন না। পিএসকে সব ইউনিয়ন থেকে নাম সংগ্রহের নির্দেশ দিলেও সচিবালয়ে দ্রুত তালিকা পাঠানোর প্রয়োজন হওয়ায় পরিচিত ব্যক্তিদের নাম দিয়ে একটি প্রাথমিক তালিকা জমা দেওয়া হয়। সেই তালিকায় তাঁর পরিবারের সদস্য ও পরিচিত এলাকার মানুষের নাম বেশি চলে এসেছে বলে তিনি দাবি করেন।
সংসদ সদস্য আরও বলেন, অনুদানের অর্থ অনুমোদিত হয়ে এসেছে—এ বিষয়েও তিনি আগে অবগত ছিলেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি জানতে পারেন অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি। তাঁর দাবি, তিনি প্রকৃত উপকারভোগীদের নতুন তালিকা দিতে চেয়েছিলেন।
তবে নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) টি এম রাহসিন কবির জানান, সচিবালয় থেকে যেসব ব্যক্তির নামে অনুদান অনুমোদিত হয়েছে, নীতিমালা অনুযায়ী কেবল তাঁদের কাছেই অর্থ বিতরণ করা যাবে। নতুন করে অন্য কোনো তালিকার ভিত্তিতে অনুদান দেওয়ার সুযোগ নেই। যদি তালিকা সংশোধনের প্রয়োজন হয়, সেটি সচিবালয়ের মাধ্যমেই সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় তালিকাভুক্ত কোনো ব্যক্তি অনুদান গ্রহণ না করলে সংশ্লিষ্ট অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত যাবে।