স্টাফ রিপোর্টার : দরিদ্র, অসহায় ও দুস্থ রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে রোগী কল্যাণ সমিতি ও হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যক্রমের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ লক্ষ্যে রোগী কল্যাণ সমিতি, হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যালয়, আধুনিক সদর হাসপাতালের কার্যকরী পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) সকাল ১০টায় সদর হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সুব্রত কুমার। সভায় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিতে আসা অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত রোগীদের সেবায় আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত অনুদান এবং বিভিন্ন উৎস থেকে সংগৃহীত সহায়তা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের নিবিড় তদারকি ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সভায় উপস্থিত সকল সদস্যকে রোগীদের কল্যাণে পরিচালিত কার্যক্রমের ওপর ক্লোজ অবজারভেশন রাখার আহ্বান জানানো হয়, যাতে অনুদান ও সহায়তা কার্যক্রম স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে পরিচালিত হয় এবং প্রকৃত অসহায় রোগীরা এর সুফল পায়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন রোগী কল্যাণ সমিতির কার্যকরী পরিষদের সহ-সভাপতি সৈয়দ তাকিউর রহমান, সহ-সভাপতি শহিদুল রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুস সবুর খান, কোষাধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট মুন্সি শাহীন উল্লাহ মোহন, নির্বাহী সদস্য কাজী হাফিজুর রহমান, নির্বাহী সদস্য মো. মহিদুল ইসলাম জমাদ্দার, হুমায়ুন কবীর রিন্টুসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
উল্লেখ্য, রোগী কল্যাণ সমিতি এবং হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দরিদ্র, অসহায় ও দুস্থ রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং তাদের মানসিক ও আর্থ-সামাজিক পুনর্বাসনে সহায়তা করা।
হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যক্রমের আওতায় দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা যাচাই করে তালিকাভুক্ত করা হয়। পাশাপাশি বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে ওষুধ, রক্ত, বস্ত্র, ক্রাচ, হুইলচেয়ার এবং প্রয়োজনীয় কৃত্রিম অঙ্গ সরবরাহ করা হয়। এছাড়া ব্যক্তিগত দান, জাকাত ও সরকারি অনুদানের মাধ্যমে গঠিত তহবিল থেকে রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, থ্যালাসেমিয়াসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের সরকারি অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রে আবেদন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে রোগীদের মানসিক সাহস জোগানো, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক কাউন্সেলিং কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়।
এছাড়া পরিচয়হীন বা দুর্ঘটনায় আহত অজ্ঞাত রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করতেও হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রোগী ও চিকিৎসকের মধ্যে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা কার্যক্রম সহজ করাও এ কার্যক্রমের অন্যতম উদ্দেশ্য।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যক্রম ও রোগী কল্যাণ সমিতির কার্যক্রম সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে আরও বেশি দরিদ্র ও অসহায় রোগী সরকারি সহায়তা ও চিকিৎসাসেবার আওতায় আসতে পারবেন।