নড়াইলকণ্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট: ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে খুলনা বিভাগীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন।
সভায় বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে কার্যকর করতে হলে প্রথমেই নিজেদের আওতাধীন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরগুলোকে ধূমপানমুক্ত করতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রতিটি দপ্তরের প্রবেশমুখে দৃশ্যমান স্থানে ‘নো স্মোকিং’ পোস্টার স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে এসব কার্যক্রম নিয়মিতভাবে মনিটরিং করা হবে বলেও তিনি জানান।
তিনি বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনসমাগমস্থলে ধূমপান এবং তামাকজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন অবহিতকরণ কর্মসূচি গ্রহণের নির্দেশ দেন।
বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, ধূমপান ও তামাকবিরোধী প্রচারণায় মসজিদের ইমামগণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলার স্থান ও শিশু পার্কের সীমানার ১০০ মিটারের মধ্যে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি দণ্ডনীয় অপরাধ—এ বিষয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। তিনি প্রতি তিন মাস অন্তর ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করে বৃহত্তর উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
সভায় উপস্থিত অতিথিরা ই-সিগারেট আমদানি বন্ধ করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তামাকবিরোধী প্রচারণা জোরদার করা, নিউমার্কেট, বিএল কলেজসহ বিভিন্ন জনসমাগমস্থলকে ধূমপানমুক্ত রাখা এবং নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার বিষয়ে একমত পোষণ করেন।
সভায় অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আবু সায়েদ মো. মনজুর আলম, খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন, রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং তামাকবিরোধী জোটের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় বক্তারা বলেন, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার কমাতে আইনের যথাযথ প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই।