সত্তরের দশকে সাহিত্যাঙ্গনে উত্থান ঘটে কবি মহসনি হোসাইন-এর। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৯৫৪ সালের ৪ মে (বাংলা ১৩৬১ সালের ২১শে বৈশাখ) নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার কলাবাড়িয়া গ্রামে। পেশায় সাংবাদিক হলেও নেশায় ছিলেন লেখক—এবং সেই নেশাকেই তিনি জীবনব্যাপী সাধনায় রূপ দিয়েছিলেন।
তিনি একাধারে কবি, গীতিকার, ছড়াকার, গল্পকার, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ফোকলোরবিদ, গবেষক, যাত্রাপালা রচয়িতা, যাত্রাভিনেতা এবং লোকসংস্কৃতি সংগ্রাহক ছিলেন। তাঁর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা একশোরও বেশি। বাংলা একাডেমি তাঁর পাঁচটি গ্রন্থ প্রকাশ করেছে—যা তাঁর সাহিত্যিক মর্যাদার এক গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।
মহসনি হোসাইন তালিকাভুক্ত গীতিকার হিসেবে বাংলাদেশ বেতারে যুক্ত ছিলেন এবং খুলনা বেতার ও বাংলাদেশ বেতারে রেডিও ব্রডকাস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে শিল্পের আরেকটি মাধ্যমেও তিনি তাঁর উপস্থিতি জানান দেন।
সাহিত্য ও সাংবাদিকতার পাশাপাশি সংগঠনেও ছিলেন সক্রিয়। তিনি ছিলেন বাংলা একাডেমি, জাতীয় প্রেস ক্লাব, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিলসহ বিভিন্ন সংগঠনের সদস্য।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। ভারতে গিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং অন্তত তিনটি সম্মুখসমরে অংশ নেন। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁর অবদান জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
২০২৪ সালের ৫ মে (বাংলা ২২শে বৈশাখ ১৪৩১) তিনি পরলোকগমন করেন। নিজ জন্মভূমি নড়াইলের কালিয়া উপজেলার কলাবাড়িয়া গ্রামে নিজ ভিটায় তাঁকে দাফন করা হয়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সব্যসাচী কবি মহসনি হোসাইনের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা তাঁকে পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করি। তাঁর সমাপ্ত ও অসমাপ্ত সৃষ্টিকর্মের মধ্য দিয়ে তিনি আমাদের মাঝে চিরজাগরূক হয়ে থাকবেন। অনন্তলোকে উজ্জ্বল জ্যোতিষ্কের ন্যায় তিনি বিরাজ করুন—এই প্রার্থনা।