• 22 May, 2024

ঠাকুরগাঁও থেকে যেভাবে এশিয়া সেরার মঞ্চে রাফি-রিজওয়ান

ঠাকুরগাঁও থেকে যেভাবে এশিয়া সেরার মঞ্চে রাফি-রিজওয়ান

তিনবার এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ। হাত-ছোঁয়া দূরত্বে গিয়ে একবারও শিরোপা ছুঁয়ে দেখা হয়নি টাইগারদের। সিনিয়ররা যা করতে পারেনি, সেটাই এবার করে দেখিয়েছে জুনিয়ররা। অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পড়েছে বাংলাদেশের যুবারা।

এশিয়া সেরা হওয়ার এই লড়াইয়ে বাংলাদেশকে যারা প্রতিনিধিত্ব করেছেন তাদের একজন পঞ্চগড় জেলার সন্তান চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান। বাংলাদেশেকে ব্যাটিংয়ে ভালো ভিত গড়ে দেওয়ার দায়িত্ব ছিল তার ওপর। সেখানে সফল এই টপ অর্ডার ব্যাটার।

ফাইনালে আরব আমিরাতের বিপক্ষে ৬০ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলেছেন রিজওয়ান। তিন নম্বরের মতো গুরুত্বপূর্ণ পজিশনে খেলতে নেমে আসর জুড়েই দলকে বড় সংগ্রহের পথে রেখেছেন পঞ্চগড়ের এই ব্যাটার। ৫ ম্যাচে প্রায় ৩২ গড়ে করেছেন ১২৭ রান। দেশের হয়ে আসরে সেরা তিন রান সংগ্রাহকের তালিকায় ছিলেন এই টপ অর্ডার ব্যাটার।

পঞ্চগড়ের পাশের জেলা ঠাকুগাঁও। সেখান থেকে ওঠে এসে এবারের যুব এশিয়া কাপে বাংলাদেশের হয়ে খেলেছেন মোহাম্মদ রাফিউজ্জামান রাফি। বাঁহাতি এই অফ স্পিনার অবশ্য খুব বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। আসরে নিজদের প্রথম ম্যাচে একাদশে ছিলেন তিনি। যা ছিল আসরে তার একমাত্র ম্যাচ। আরব আমিরাতের বিপক্ষে বল হাতে ৩৭ রান দিয়ে ছিলেন উইকেট শুন্য। আর ব্যাট হাতে করেছিলেন ১২ রান।

 

রিজওয়ান ও রাফির বাড়ি ভিন্ন ভিন্ন জেলায় হলেও তাদের শুরুটা একই জায়গা থেকে। মূলত ঠাকুরগাঁও জেলা স্টেডিয়াম থেকেই শুরু তাদের। ২০১৬ সালে এখান থেকেই তাদের স্বপ্নযাত্রা শুরু হয়েছিল। ছোট থেকে ক্রিকেটের প্রতি তাদের নিবেদন আর মেধা নজর কেড়েছিল সেখানকার কোচ মোঃ রাহাদের। তিনি বলেন, 'এখান থেকেই রাফি ও অর্নবদের (রিজওয়ান) শুরুটা হয়। আমি তখনই বুঝতে পেরেছিলেম ছিলাম, তারা ভালো কিছু করবে।'

ঠাকুরগাঁও থেকে ২০১৭ সালে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) সুযোগ পান রাফি ও রিজওয়ান। এরপর অনূর্ধ্ব-১৯ দলে জায়গা করেন নেন তারা। আর এবারতো পুরো দেশকেই আনন্দের উপলক্ষ্য এনে দিয়েছেন রিজওয়ানরা। তাদের এই লম্বা যাত্রা প্রসঙ্গে রাহাদ বলেন, 'এরপর (পঞ্চগড় জেলা স্টেডিয়াম) ২০১৭ সালে বিকেএসপিতে পেতে সুযোগ পায় তারা। সেখান থেকে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে এবার এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।'

শিষ্যদের সাফল্যে বেশ উচ্ছ্বসিত গুরু রাহাদ। নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, 'এই দুজন খেলোয়াড় আমার হাতে গড়া। এটাতে আমি খুব আনন্দিত এবং আমি আশা করি তারা একদিন আরো ভালো কিছু করবে। আমি যতটা কাছ থেকে তাদের দেখেছি, তারা পরিশ্রমে বিশ্বাসী, যা একজন ক্রিকেটারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই বপড় মঞ্চে চাপ নিতে পেরেছে। এভাবে চালিয়ে যেতে পারল তারা দুইজনেই একদিন একদিন নিশ্চয়ই জাতীয় দলকে প্রতিনিধিত্ব করবে।'

পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার পামুলী ইউনিয়নের কালুরহাট গ্রামে বেড়ে ওঠা রিজওয়ানের। তার বাবা চৌধুরী মোহাম্মদ তানভীর যোবায়ের ছিলেন সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান। ছেলের এমন সাফল্যে গর্বিত বাবা। তিনি বলেন, 'রিজওয়ানের সাফল্যে আমরা আনন্দিত। রিজওয়ানকে আমি বেশি সময় দিতে পারিনি, তার সাফল্যের পেছনে সব থেকে বেশি অবদান তার মায়ের। তাছাড়া ক্রিকেট একাডেমির শিক্ষকদের সহযোগিতা এবং দিকনির্দেশনায় আজ সে বাংলাদেশের হয়ে খেলতে পেরেছে।জানুয়ারিতে যুব বিশ্বকাপ আছে। সে যেন সফলতার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বাংলাদেশের সম্মান অক্ষুন্ন রাখতে পারে, সকলের কাছে তার জন্য দোয়া চাই।'

এদিকে রাফি ঠাকুরগাঁও পৌরসভার আশ্রমপাড়ার মোঃ সাইদুল হক-রওশন আরা বেগম দম্পতির সন্তান। ছেলের এশিয়া জয়ের সাফল্যে রাফির মা বলেন, 'আমার ছেলে অনেক কষ্ট করে খেলা-ধূলা করেছে। স্কুল থেকে এসে অনেক সময় খাওয়া-দাওয়া ঠিকমতো করেনি, মাঠে খেলতে চলে গেছে। আমি দোয়া করি, সে যেন আরো সফলতা অর্জন করতে পারে। তার এই সাফল্যে আমরা খুবই আনন্দিত। এই এলাকার মানুষ যারা রয়েছে তারাও সবাই আনন্দিত। অনেকেই ফোন দিচ্ছে, ফোনে অভিনন্দন জানাচ্ছে। এতে আমাদের রাফি শুধু আমার আমাদের না, পুরো ঠাকুরগাঁ জেলার সবারই গর্ব।'