• 01 Mar, 2024

সহিংসতা করলে ছেঁকে ছেঁকে ধরা হবে : প্রধানমন্ত্রী

সহিংসতা করলে ছেঁকে ছেঁকে ধরা হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার বিএনপি-জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেবে না। তবে আন্দোলনের নামে সহিংসতা করলে ছেঁকে ছেঁকে ধরা হবে। মানুষের কোনো ক্ষতি করলে ছাড় দেওয়া হবে না। গতকাল ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থেকে কুমিল্লার লাকসাম পর্যন্ত ৭২ কিলোমিটার ডুয়েল গেজ (ডাবল লাইন) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে তিনি ডাবল লাইন ট্রেন চলাচলের উদ্বোধন করেন। ২০১৩-২০১৫ সময়কালে বিএনপি-জামায়াত চক্র সহিংসতা চালিয়েছিল উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, আমরা তাদের রাজনীতি করতে বাধা দেব না এবং দিচ্ছিও না। কিন্তু তারা আবার রেলে আগুন দিলে বা জনগণের কোনো ক্ষতি করলে রেহাই পাবে না। তিনি বলেন, সর্বত্র ক্যামেরা থাকবে এবং কোনো ধ্বংসাত্মক কর্মকা- করলে দোষীদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বিএনপি একটি সন্ত্রাসী দল। বিএনপি সন্ত্রাস ছাড়া কিছুই বোঝে না। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যার পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধা অফিসার ও সাধারণ মানুষ হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। জিয়ার স্ত্রী (বেগম খালেদা জিয়া) যখন ক্ষমতায় আসেন, তিনিও মানুষ হত্যা ছাড়া কিছুই বোঝেননি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার বিএনপি-জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেবে না। তবে আন্দোলনের নামে সহিংসতা করলে ছেঁকে ছেঁকে ধরা হবে। মানুষের কোনো ক্ষতি করলে ছাড় দেওয়া হবে না। গতকাল ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থেকে কুমিল্লার লাকসাম পর্যন্ত ৭২ কিলোমিটার ডুয়েল গেজ (ডাবল লাইন) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে তিনি ডাবল লাইন ট্রেন চলাচলের উদ্বোধন করেন। ২০১৩-২০১৫ সময়কালে বিএনপি-জামায়াত চক্র সহিংসতা চালিয়েছিল উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, আমরা তাদের রাজনীতি করতে বাধা দেব না এবং দিচ্ছিও না। কিন্তু তারা আবার রেলে আগুন দিলে বা জনগণের কোনো ক্ষতি করলে রেহাই পাবে না। তিনি বলেন, সর্বত্র ক্যামেরা থাকবে এবং কোনো ধ্বংসাত্মক কর্মকা- করলে দোষীদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বিএনপি একটি সন্ত্রাসী দল। বিএনপি সন্ত্রাস ছাড়া কিছুই বোঝে না। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যার পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধা অফিসার ও সাধারণ মানুষ হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। জিয়ার স্ত্রী (বেগম খালেদা জিয়া) যখন ক্ষমতায় আসেন, তিনিও মানুষ হত্যা ছাড়া কিছুই বোঝেননি।
আওয়ামী লীগের ২১ হাজারেরও বেশি নেতা-কর্মীকে তারা (বিএনপি) হত্যা করেছিল। তার (খালেদা জিয়া) শাসনামলে বিপুল সংখ্যক মানুষের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন ও নির্যাতন চালানো হয়েছিল। এ সন্ত্রাসী দলের (বিএনপি) একমাত্র কাজ ধ্বংস করা। সরকারপ্রধান বলেন, জাতির পিতাকে হত্যার পর সংবিধান লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে যারা ক্ষমতায় এসেছে তারা দেশের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করেছে। কারণ, তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল স্বাধীনতাবিরোধীরা, যুদ্ধাপরাধীরা।

জাতির পিতার খুনিদের পুরস্কৃত করা হয়েছিল এবং তাদের বিচারের পথ বন্ধ করা হয়েছিল। কাজেই বাংলাদেশের যাত্রা উল্টো দিকে শুরু হয়। ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। আমরা ক্ষমতায় এসেই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিই। দেশ এগিয়ে যাচ্ছিল। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এমনকি স্বাক্ষরতার হার বৃদ্ধি, যোগাযোগব্যবস্থায় উন্নতি, নতুন রেললাইন স্থাপন থেকে শুরু করে আমরা অনেক কাজ শুরু করি। সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি রেল ব্যবহার করে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, একই সঙ্গে অল্প খরচে অনেক বেশি পণ্য পরিবহন করা যায়। আর যাত্রীও পরিবহন করা যায়। আমাদের দুর্ভাগ্য হলো, বিএনপি ক্ষমতায় এসে রেললাইন বন্ধ করার পদক্ষেপ নিয়েছিল। তারা রেল বন্ধ করবে কেন? রেল লাভজনক না, রেল লোকসান। কাজেই ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের পরামর্শে তারা রেল বন্ধ করে দেওয়ার পদক্ষেপ নেয়। রেলের কর্মচারীদের গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে বিদায় দেয়। কিন্তু তাদের পাওনা টাকাও সম্পূর্ণ বুঝিয়ে দেইনি। আর বিভিন্ন এলাকায় রেললাইন বন্ধ করে দেয়। শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৯ সালে সরকারে আসার পর আমি সিদ্ধান্ত নিই রেলের আলাদা মন্ত্রণালয় না করে দিলে বাজেটে তাদের জন্য টাকা থাকবে না। রেল উন্নত করতে পারব না। কারণ, যে যত পরামর্শই দিক দেশটা আমাদের। দেশের মাটি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন আমাদেরই করতে হবে। সে চিন্তাচেতনা থেকে আমি দেশ চালাই। কবে কে কী পরামর্শ দিল আর তা শুনে আমাদের চলতে হবে সেটা নয়। দেশের মানুষের কল্যাণে কী হবে সেটাই বিবেচ্য বিষয় আমাদের কাছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৮ সালে যখন যমুনা নদীর ওপরে সেতু নির্মাণ করি এ সেতুর মূল ডিজাইনে রেললাইন ছিল না। তখন আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম এর সঙ্গে রেললাইন থাকতে হবে। সেখানেও কিন্তু এই ওয়ার্ল্ড ব্যাংক বাধা দিয়েছিল। আমরা আমাদের মন্ত্রণালয় করে রেলের উন্নতি শুরু করলাম। অনেক কিছু আমরা কিনতে শুরু করলাম। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য হলো ২০১৪ সালে নির্বাচন, বিএনপি নির্বাচন হতে দেবে না। তার কারণ হচ্ছে ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি মাত্র ২৯টা সিট পেয়েছিল। কারণ, ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তাদের যে দুঃশাসন, দুর্নীতি, লুটপাট, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি, বোমা হামলা, গ্রেনেড হামলা, মানি লন্ডারিং এবং এসব অপকর্মের ফলে মানুষ তাদের ভোট দেয়নি। তাদের প্রত্যাখ্যান করেছিল। উদ্বোধন হওয়া ডাবল লাইনের সুফল তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থেকে কুমিল্লার লাকসাম পর্যন্ত ডুয়েল গেজ (ডাবল লাইন) উদ্বোধনের পর এ লাইনে ট্রেনের গতি হবে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার। এ লাইনে রেলের গতি এনে দিয়েছি। চালকদের সতর্ক থাকতে হবে যেন একটু সাবধানে চালায়। কোন জায়গায় কতটুকু দ্রুত গতিতে চলবে সেটা ভাবতে হবে। এটি আধুনিক ডুয়েল গেজ (ডাবল লাইন)। এর মাধ্যমে ঢাকা-চট্টগ্রাম সবটুকু লাইনই ডাবল লাইনে উন্নীত হলো। সরকারপ্রধান বলেন, এতে করে যাত্রীরা আরাম-আয়েশে চলতে পারবে। পরিবহন কষ্টও কমে যাবে। আগের চেয়ে এক ঘণ্টা সময় কম লাগবে। কক্সবাজার পর্যন্ত কাজ প্রায় শেষের দিকে। ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজার যেতে পারবে। বিএনপি-জামায়াত যেন রেললাইন ক্ষতি করতে না পারে সেদিকে দেশের জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে মন্তব্য করে ক্ষমতাসীন দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছেন বলেই এ কাজগুলো করা সম্ভব হয়েছে। এটা জাতীয় সম্পদ, এটা জনগণকে রক্ষা করতে হবে। লাকসাম প্রান্ত থেকে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজনের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে এলজিআরডি ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক এমপি এবং বাংলাদেশে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিন্টিং বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এবং রেলওয়ে সচিব ড. হুমায়ুন কবির স্বাগত বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ রেলওয়ের উন্নয়নের ওপর একটি অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। নবনির্মিত ৭২ কিমি. ডুয়েল গেজ ডাবল ট্র্যাকের সঙ্গে পুরো ৩২১ কিলোমিটার ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরটি একটি ডাবল লাইনে পরিণত হয়েছে। এর পরিচালন ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ভ্রমণের সময় ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা সাশ্রয় হবে।