• 22 May, 2024

সেপ্টেম্বরের শুরুতে ট্রায়াল রান, শেষ সপ্তাহে উদ্বোধন

সেপ্টেম্বরের শুরুতে ট্রায়াল রান, শেষ সপ্তাহে উদ্বোধন

ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে যশোর পর্যন্ত নতুন রেলপথ তৈরি করা হচ্ছে ‘পদ্মা সেতু রেল সংযোগ’ প্রকল্পের মাধ্যমে। রেলপথটির ঢাকা-ভাঙ্গা অংশের কাজ শেষ পর্যায়ে। এর মধ্যে গেন্ডারিয়া ও কেরানীগঞ্জ স্টেশনে কিছু ‘টার্ন আউট’-এর (এক রেলপথ থেকে আরেক রেলপথে ট্রেন যাওয়ার পথ) কাজ বাকি রয়েছে।

২৫ আগস্টের মধ্যে এসব কাজ শেষ হয়ে রেলপথটির ঢাকা-ভাঙ্গা অংশ ট্রেন চলাচলের উপযোগী হয়ে যাবে। প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে রেলপথটিতে পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন চালানো হবে। আর এ মাসের শেষ সপ্তাহে উদ্বোধনের জন্য সময় চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রকল্পটির সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়েছে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আফজাল হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘প্রকল্পটি উদ্বোধনের জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীর সময় চেয়েছি। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে আমরা সময় চেয়েছি। তবে বিষয়টা পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওপর নির্ভর করছে।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকা-ভাঙ্গা অংশে রেললাইন বসানোর কাজ আগামী সপ্তাহে অর্থাৎ ২৫ তারিখের মধ্যে শেষ হবে। কেরানীগঞ্জ ও গেন্ডারিয়া স্টেশনে “‍টার্ন আউট” বসানোর কিছু কাজ বাকি আছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে ট্রায়াল রান হবে। ট্রায়াল রানের সময় রেলপথমন্ত্রীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। তবে এর আগেই আমরা ট্রলি বা ইন্সপেকশন কারের মাধ্যমে পুরো রেলপথটি পরিদর্শন করব।’

তিন অংশে ভাগ করে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। প্রথম অংশ ঢাকা-মাওয়ার দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৮ কিলোমিটার। এ অংশে কেরানীগঞ্জে একটি নতুন স্টেশন তৈরি হচ্ছে। দ্বিতীয় অংশ মাওয়া-ভাঙ্গা অংশের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৩ কিলোমিটার। এ অংশে নতুন স্টেশন ভবন রয়েছে পাঁচটি। প্রকল্পের শেষ অংশ ভাঙ্গা থেকে যশোর পর্যন্ত। এ অংশের দৈর্ঘ্য প্রায় ৮৩ কিলোমিটার। পদ্মা সেতু যেদিন চালু হয় সেদিন থেকেই সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেন চলাচলের মাওয়া-ভাঙ্গা অংশটির কাজে বাড়তি গুরুত্ব দেয় রেলওয়ে। তার পরও অংশটি সম্পন্ন না হওয়ায় পরিকল্পনা বদলে ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় সংস্থাটি।

ঢাকা-ভাঙ্গা অংশে ট্রেন চলাচল উদ্বোধনের দিন রেলপথটির তিনটি স্টেশনে সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করা হবে। স্টেশনগুলো হলো— মাওয়া, পদ্মা (জাজিরা) ও শিবচর। এর বাইরে নিমতলা স্টেশনটিও চালুর চেষ্টা করছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। উদ্বোধনের এক সপ্তাহ পর থেকে বাণিজ্যিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরুর কথা জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক আফজাল হোসেন।

তিনি বলেন, ‘শুরুতে একটি ট্রেন পরিচালনা করা হবে। প্রকল্প কার্যালয় থেকে ঢাকা-পদ্মা সেতু-রাজবাড়ী রুটে ট্রেন চালানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে রাজশাহী থেকে ঢাকা পর্যন্ত একটি ট্রেন চালানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনটি ভাঙ্গা পর্যন্ত আসে। এ ট্রেনটি ঢাকা পর্যন্ত আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। উদ্বোধনের তিন মাসের মধ্যে প্রধান স্টেশনগুলো চালু হয়ে যাবে। ট্রেনের সংখ্যাও বাড়ানো হবে।’

ডিফেক্ট লায়াবিলিটি পিরিয়ডসহ প্রকল্পের মেয়াদ আরো দেড় বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। প্রকল্প কার্যালয় থেকে এ সম্পর্কিত একটি প্রস্তাব এরই মধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়েতে পাঠানো হয়েছে। তবে মেয়াদ বাড়লেও প্রকল্পটির ব্যয় বাড়বে না বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক।

প্রকল্প কার্যালয়ের তথ্যে জানা যায়, গত জুলাই পর্যন্ত ঢাকা-মাওয়া অংশের নির্মাণকাজের অগ্রগতি হয়েছে ৭৯ শতাংশ। একইভাবে মাওয়া-ভাঙ্গা অংশের ৯৬ শতাংশ ও ভাঙ্গা-যশোর অংশের নির্মাণকাজের অগ্রগতি ৭৬ শতাংশ। জুলাই পর্যন্ত প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৮১ শতাংশ। তবে প্রকল্প পরিচালক আফজাল হোসেন জানিয়েছেন, গত ১৭ জুলাই পর্যন্ত সার্বিক অগ্রগতি ৮৩ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।

প্রকল্পের মেয়াদ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত পুরো রেলপথটি চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন পদ্মা সেতু সংযোগ রেলপথটিতে কী পরিমাণ যাত্রী ও মালপত্র পরিবহন হতে পারে, তার একটি বিশ্লেষণ এরই মধ্যে তৈরি করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিআরইসি।

স্বল্পমেয়াদি বিশ্লেষণে বলা হয়, ২০৩০ সাল নাগাদ রেলপথটির ঢাকা-ভাঙ্গা অংশে প্রতিদিন ১৩ জোড়া ট্রেন চলবে। একইভাবে ভাঙ্গা-কাশিয়ানী অংশে প্রতিদিন সাত জোড়া ও কাশিয়ানী-যশোর অংশে প্রতিদিন চলবে পাঁচ জোড়া ট্রেন। এ সময়ের মধ্যে ঢাকা-ভাঙ্গা অংশে বছরে ৪০ লাখ, ভাঙ্গা-কাশিয়ানী অংশে বছরে ১৭ লাখ ও কাশিয়ানী-যশোর অংশে বছরে সাড়ে ১৩ লাখ যাত্রী পরিবহন করা হবে। ‘ওয়ান ডিরেকশন’ বা একমুখী চলাচলের ওপর ভিত্তি করে এ প্রাক্কলনটি তৈরি করেছে সিআরইসি।