• 21 May, 2024

পদক পাচ্ছেন পাঁচজন বিশিষ্ট নারী

পদক পাচ্ছেন পাঁচজন বিশিষ্ট নারী

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মদিন উপলক্ষে সারাদেশে অসচ্ছল ও অসহায় পাঁচ হাজার নারীকে সেলাই মেশিন এবং নগদ ৬০ লাখ টাকা সহায়তা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা।

শুধু তাই নয় বঙ্গমাতার অবদানকে চিরস্মরণীয় করার লক্ষ্যে প্রতি বছর আটটি ক্ষেত্রে নারীদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সর্বোচ্চ পাঁচজনকে জাতীয় পদক ‘বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব’ পদক দেওয়া হয়। এ বছর রাজনীতিতে একজন, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে দুজন এবং গবেষণায় একজনসহ চার বিশিষ্ট নারী এবং প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলকে এ পদক দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সোমবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯৩তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন ও ফজিলাতুন্নেছা মুজিব পদক’ প্রদান বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

এসময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গমাতা নিজেকে শুধু স্বামী, সন্তান, সংসার ও আত্মীয়-স্বজনের প্রতি নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি। তিনি বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক, সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে সর্বক্ষণের সহযোগী ও অনুপ্রেরণাদায়ী হয়ে নিভৃতে কাজ করে গেছেন। মহান স্বাধীনতা অর্জনে এ মহীয়সী নারীর রয়েছে  গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা। লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী দেশ পুনর্গঠনে অনন্য ভূমিকা রেখে গেছেন।

তিনি বলেন, বেগম মুজিব যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করেন এবং স্বাধীন বাংলাদেশে নারীদের কর্মসংস্থানসহ নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে প্রকৃত পথপ্রদর্শক ছিলেন। তিনি নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে দক্ষতা এবং সক্ষমতা বাড়ানো ও কুটির শিল্পসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেন। 
ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেন, দেশপ্রেম, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, সাহসিকতা, ত্যাগ ও অনুপ্রেরণার উৎস বঙ্গমাতা। তার জন্মদিন ৮ আগস্টকে সরকার ‘ক’ শ্রেণির জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে।


এসময় জানানো হয় পদকপ্রাপ্তরা হলেন, রাজনীতিতে অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন (মরণোত্তর), শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে অণিমা মুক্তি গমেজ ও মোছা. নাছিমা জামান ববি, গবেষণায় ড. সেঁজুতি সাহা এবং বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলকে এ পদকের জন্য চূড়ান্তভাবে মনোনীত করা হয়েছে। আগামীকাল ৮ আগস্ট সকাল ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ পদক দেওয়া হবে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘সংগ্রাম-স্বাধীনতা, প্রেরণায় বঙ্গমাতা’। অনুষ্ঠানে বঙ্গমাতার জীবনভিত্তিক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. তানিয়া হক। ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরার সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল ১০টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিব এর ৯৩ তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন  ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব পদক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পদক বিতরণ ও এবং আর্থিক অনুদান ও সেলাই মেশিন বিতরণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমা মোবারেক, অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিবুজ্জামান ও প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মো. শাহেনুর মিয়াসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, অনুষ্ঠানে বঙ্গমাতার গৌরবময় কর্মজীবনের ওপর প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ ও স্মরণিকা প্রকাশ করা হবে। অনুষ্ঠানটি সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।