• 17 Feb, 2026

অনুমোদিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তরের দাবিতে তেজগাঁও কলেজে সিগনেচার ক্যাম্পেইন

অনুমোদিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তরের দাবিতে তেজগাঁও কলেজে সিগনেচার ক্যাম্পেইন

নিজস্ব প্রতিবেদক: অনুমোদিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তরের দাবি জানিয়েছে তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) কলেজ প্রাঙ্গণে নারী মৈত্রী ও তেজগাঁও কলেজ শিক্ষার্থীদের যৌথ উদ্যোগে ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তরের দাবি’ শীর্ষক দিনব্যাপী সিগনেচার ক্যাম্পেইনে শিক্ষার্থীরা স্বাক্ষর দিয়ে এই দাবি জানায়।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই স্বাক্ষরসমূহ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে জমা দেওয়া হবে, যাতে অধ্যাদেশটি দ্রুত আইনে রূপান্তরের জন্য নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়।

ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন তেজগাঁও কলেজ হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর এ.কে.এম. খুরশীদ আলম।

ক্যাম্পেইনে জানানো হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার টোব্যাকো এটলাস ২০২৫ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রায় ২ কোটি ১৩ লাখ মানুষ তামাক ব্যবহার করে। প্রতিবছর তামাকজনিত রোগে মৃত্যু হয় প্রায় ২ লাখ মানুষের, যা দৈনিক গড়ে ৫৪৫ জনেরও বেশি। তামাক ব্যবহারের ফলে বছরে প্রায় ৩৯.২ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে কার্যত একটি ‘তামাক মহামারী’তে রূপ দিয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে (২৪ ডিসেম্বর ২০২৫) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুমোদিত হয়। অনুমোদিত অধ্যাদেশে  ‘তামাকজাত দ্রব্য’-এর সংজ্ঞার আওতায় নিকোটিন পাউচ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে; পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহণে ধূমপানের পাশাপাশি সকল প্রকার তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে; ইমার্জিং টোব্যাকো প্রডাক্টস—এর ব্যবহার, উৎপাদন ও বিপণন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান রাখার বিধান সরকারের নির্দেশনার শর্তাধীন করা হয়েছে; ‘পাবলিক প্লেস’ ও ‘পাবলিক পরিবহণ’-এর সংজ্ঞা ও অধিক্ষেত্র সম্প্রসারণ করা হয়েছে; বিক্রয়স্থলে তামাকজাত দ্রব্যের প্রদর্শনসহ ইন্টারনেট বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে তামাকজাত দ্রব্যের সকল প্রকার বিজ্ঞাপন, প্রচার ও প্রসার নিষিদ্ধ করা হয়েছে; এবং তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটের গায়ে বিদ্যমান ৫০ শতাংশের পরিবর্তে ৭৫ শতাংশ এলাকা জুড়ে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সতর্কবাণী মুদ্রণের বিধান সংযোজন করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, "অন্তর্বতীকালীন সরকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রস্তাবিত তামাক নিয়ন্ত্রণের এই অধ্যাদেশটি অনুমোদন করেছে। এখন নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব হলো অধ্যাদেশটিকে আইনে রূপান্তর করে একটি তামাকমুক্ত দেশ গড়ার প্রত্যয়ে এগিয়ে যাওয়া। তাই আসন্ন সংসদের প্রথম অধিবেশনেই অধ্যাদেশটি পাস করে আইনে রূপান্তর করার দাবিতে আমাদের এই সিগনেচার ক্যাম্পেইন।"

দিনব্যাপী আয়োজিত এই ক্যাম্পেইনে কলেজের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।