• 21 Jul, 2024

নড়াইল জেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা

নড়াইল জেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নড়াইল জেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নড়াইল জেলার ভূমিহীন ও গৃহহীন ২১৩টি পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার হিসেবে ২১৩টি বাড়ি ও জমির দলিল হস্তান্তর করা হয়েছে।

এর মধ্যে নড়াইল সদর উপজেলায় ১১৬টি ও লোহাগড়া উপজেলায় রয়েছে ৯৭টি বাড়ি। এছাড়া ইতোপূর্বে কালিয়া উপজেলায় ৬২৩টি পরিবারকে বাড়ি হস্তান্তর করা হয়েছে। গত বছরের আগস্টে কালিয়া উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করা হয়। সকলের জন্য আবাসন নিশ্চিত করতে সরকারের আবাসন কর্মসূচি আশ্রয়ন-২ প্রকল্প এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) প্রকল্পের আওতায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদেরকে এ বাড়িগুলো দেওয়া হয়।

এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১১ জুন) বেলা ১১টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি হলরুমে এক অনুষ্ঠানে নড়াইল সদরের ১১৬টি গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারকে বাড়ি হস্তান্তর করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার হেলাল মাহমুদ শরীফ।  

04-10.jpgএ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশফাকুল হক চৌধুরী, পুলিশ সুপার মো: মেহেদী হাসান, সিভিল সার্জন ডা: সাজেদা বেগম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জুবায়ের হোসেন চেীধুরী, সদরের ইউএনও শারমিন আক্তার, নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন খান নিলু, নবনির্বাচিত সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান ভূঁইয়া, বীরমুক্তিযোদ্ধা তবিবর রহমান, বীরমুক্তিযোদ্ধা খন্দকার মাসুদ হাসানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাগণ।  

একই সময়ে লোহাগড়াতে উপজেলার ৯৭ জন গৃহহীন ও ভূমিহীন মানুষের মাঝে বাড়ি হস্তান্তর করেন লোহাগড়ার ইউএনও মো: জহিরুল ইসলাম। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাগণ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।  

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকালে তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ, কক্সবাজারের ঈদগাঁও ও ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার সুবিধাভোগীদের কাছে জমির মালিকানা দলিলসহ বাড়ি হন্তান্তর কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন।

সকলের জন্য আবাসন নিশ্চিত করতে সরকারের আবাসন কর্মসূচি আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের পঞ্চম পর্বের দ্বিতীয় ধাপে এদিন ১৮ হাজার ৫৬৬টি গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারকে বাড়ি হস্তান্তরের পাশাপাশি তিনি ২৬ জেলার সব উপজেলাসহ আরও ৭০টি উপজেলাকে ভূমি-গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করেন। নতুন ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত জেলা ও উপজেলা নিয়ে সারাদেশে জেলার মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮টি এবং উপজেলা ৪৬৪টি।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের প্রথম ধাপে ৬৩ হাজার ৯৯৯টি, দ্বিতীয় ধাপে ৫৩ হাজার ৩৩০টি, তৃতীয় ধাপে ৫৯ হাজার ১৩৩টি ও চতুর্থ ধাপে ৩৯ হাজার ৩৬৫টি বাড়ি হস্তান্তর করেন। প্রকল্পের আওতায় ভূমিহীন ও গৃহহীন প্রতিটি পরিবারকে দুই দশমিক পাঁচ শতাংশ জমির মালিকানা দিয়ে একটি আধা-পাকা বাড়ি দেওয়া হচ্ছে, যা স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই হবে। প্রতিটি বাড়িতে দুটি বেডরুম, একটি রান্নাঘর, একটি টয়লেট ও বারান্দা রয়েছে।

প্রকল্পের বিবরণ অনুযায়ী, আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম পর্যায়ের প্রথম ধাপে মোট দুই লাখ ৬৬ হাজার ১২টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে গৃহহীনদের পুনর্বাসন কর্মসূচি চালু করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর পদাঙ্ক অনুসরণ করে তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৭ সালে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে গৃহহীন ও ভূমিহীনদের ঘর ও জমির মালিকানা দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় ১৯৯৭ সাল থেকে এই পর্যন্ত মোট সাত লাখ ৭১ হাজার ৩০১টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। পুনর্বাসিত মানুষের সংখ্যা ৩৮ লাখ ৫৬ হাজার ৫০৫ জন (একটি পরিবারে পাঁচজন করে)।