• 25 Apr, 2024

ইমরানকে পিটিআইয়ের প্রতীক বাতিলের হুমকি ইসিপির

ইমরানকে পিটিআইয়ের প্রতীক বাতিলের হুমকি ইসিপির

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশটির রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফের চেয়ারম্যান ইমরান খানকে জরুরি তলব করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন (ইসিপি)। ইমরান যদি এই তলবে সাড়া দিতে ব্যর্থ হন, সেক্ষেত্রে তার দলের নির্বাচনী প্রতীক ক্রিকেট ব্যাট বাতিল করা হবে বলে সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার এ বিষয়ক একটি নোটিশ জারি করেছে ইসিপির প্রধান কার্যালয়। সেখানে বলা হয়েছে, ‘দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্র চর্চা বিষয়ক তথ্য দিয়ে ইসিপিকে সহযোগিতা করতে পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান ইমরান খানকে তলব করা হয়েছে। আগামী শুক্রবার ৪ আগস্ট সকাল ১০টার মধ্যে তাকে কমিশন কার্যালয়ে হাজির হতে হবে।’

‘যদি তিনি উপস্থিত হতে ব্যর্থ হন, সেক্ষেত্রে পাকিস্তানের নির্বাচন আইন, ২০১৭’র ২১৫ নম্বর ধারার ৫ নম্বর উপধারা অনুসারে তার দলের নির্বাচনীয় প্রতীক বাতিল হতে পারে।’

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে পাকিস্তানের নির্বাচন সংক্রান্ত যে আইন পাস হয়েছে— তার ২০৮, ২০৯ এবং ২০১৫ নম্বর ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক চর্চা বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য অবশ্যই নির্বাচন কমিশনকে লিখিতভাবে জানাতে হবে।

কোনো রাজনৈতিক দল তার গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে কিনা, দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভিন্ন পদ বন্টণে গণতান্ত্রিকতা অনুসরণ করা হচ্ছে কিনা— সরকারিভাবে সেসব তথ্য নথিবদ্ধ রাখার উদ্দেশ্যেই প্রণয়ন করা হয়েছিল এই আইন।

পাকিস্তান নির্বাচন কমিশনের একজন কমিশনার দেশটির সংবাদমাধ্যম জিও নিউজকে জানান, কয়েক দফা নোটিশের পর গত বছর ১৩ জুন দলের অভ্যন্তরীন গণতান্ত্রিকতার বিবরণ চেয়ে পিটিআইকে চুড়ান্ত নোটিশ দিয়েছিল ইসিপি।

সেই নোটিশের পর পিটিআই প্রতিবেদন জমাও দিয়েছিল। কিন্তু প্রতিবেদন অসম্পূর্ণ ও অস্পষ্ট বলে প্রতীয়মান হওয়ায় ইমরান খানকে তলব করা হয়েছে জানিয়েছেন ওই কমিশনার।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয় ও পাকিস্তানের ক্ষমতা কাঠামোর শীর্ষে অবস্থান করা সেনাবাহিনীর আশীর্বাদ নিয়ে প্রথমবারের মতো দেশটির প্রধানমন্ত্রী হন ইমরান খান। কিন্তু বিরোধী এমপিদের অনাস্থা ভোটে ২০২১ সালের ১০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর পদ হারিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা হন তিনি।

পাকিস্তানের সাংবিধানিক সময়সূচি অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবরের শেষ কিংবা নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচনকালীণ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে পারে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন। দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন—আগামী ১৪ আগস্ট, পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসের আগেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে তার নেতৃত্বাধীন সরকার।