• 17 Jun, 2024

দেশের বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তি হবে পায়রা বন্দর

দেশের বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তি হবে পায়রা বন্দর

দেশের অর্থনীতি গতিশীল করতে নানা উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহন করেছে বর্তাম শেখ হাসিনার।

‘পায়রা সমুদ্র বন্দর’ এসব উন্নয়ন কর্মকান্ডের অন্যতম একটি প্রকল্প। বাংলাদেশের তৃতীয় এই সমুদ্র বন্দর এখন দেশের অর্থনীতির একটি গেটওয়ে হিসেবেও কাজ করছে। বিকাশমান অর্থনীতি দেশ এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে পায়রা সমুদ্র বন্দর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এটি দেশের উন্নয়ন যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক- যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির উন্নয়ন ঘটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পায়রা সমুদ্র বন্দর প্রকল্পটি শেখ হাসিনা সরকারের একটি ‘ফার্স্ট ট্র্যাক প্রকল্প’। সরকার এই বন্দরের অর্থনৈতিক গুরুত্ব অনুধাবন করে বিশেষ এলাকায় পরিণত করার কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। শেখ হাসিনা তার দূরদর্শী চিন্তা ও সুষম উন্ন্য়ন পরিকল্পনা নিয়ে অবহেলিত সাগর পাড়ের পায়রা বন্দরকে ঘিরে হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প প্রকল্প নেন। ২০৩৫ সাল নাগাদ পায়রাকে এক বৃহত্তর আর্থিক শক্তি হিসেবে গড়ে তোলার কাজ চলছে।

পায়রা সমুদ্র বন্দর প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিনাঞ্চলের ব্যাপক পরিবর্তন হবে। শেখ হাসিনার সরকার বরিশাল থেকে পটুয়াখালী হয়ে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত পর্যন্ত ছয় লেনের সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে। এরফলে পায়রা বন্দরের সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো সহজ হবে। রেলপথ নির্মানের কাজও এগিয়ে চলছে। রেলপথ নির্মাণ হলে ঢাকা ও অন্যান্য জেলার সঙ্গে পায়রা বন্দর

সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করবে। একটি বিমানবন্দর গড়ে তোলার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। অথচ শেখ হাসিনা সরকারের আগে অন্য কোনো সরকার এই উন্নয়নের রূপরেখা প্রনয়ন করতে পারেনি।
পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে পায়রা বন্দর অর্ডিন্যান্স অনুমোদন হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নে রাবনাবাদ চ্যানেলের পশ্চিম তীরে অবস্থিত পায়রা বন্দরের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করেন। এরপর পায়রা বন্দর আর পেছনে ফিরে তাকায়নি। অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত হওয়ার পর ২০১৬ সালের ১৩ আগষ্ট সমুদ্র বন্দরটিতে প্রথমবারের মতো কন্টেইনার জাহাজ খালাসের মাধ্যমে অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু হয়। তখন সীমিত পরিসরে ৭-৮ মিটার গভীরতায় বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজে পণ্য খালাস কার্যক্রম চলে। সমুদ্রবন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেল সচল করতে সরকার ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ নেয়। ৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ১০০ থেকে ১২৫ মিটার প্রস্থের চ্যানেলটির ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের কাজ দেয়া হয় বেলজিয়ামের বিখ্যাত জান ডি নুল ড্রেজিং কোম্পানিকে। ড্রেজিংয়ে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়। ২০২২ সালে ক্যাপিটাল ড্রেজিং শেষ হওয়ার পর পায়রা সমুদ্র বন্দরের গভীরতা সাড়ে ১০ মিটারে পরিণত হয়। চট্টগ্রাম বন্দরের সর্বোচ্চ গভীরতা ৯ দশমিক ২ মিটার। অপর দিকে ৩০০ মিটার দৈর্ঘ্যর জাহাজ পায়রা বন্দরে অনায়াসে প্রবেশ করতে পারছে। চট্টগ্রাম বন্দরে সর্বোচ্চ ১৮৬ মিটার দৈর্ঘের জাহাজ প্রবেশ করতে পারে। পায়রা বন্দর এখন দেশের গভীরতম সমুদ্র বন্দরে পরিনত হয়েছে। পায়রায় ২২৫ মিটার দৈর্ঘ্য এং ৩২ মিটার প্রস্থের প্যানামেক্স আকৃতির বড় জাহাজ ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার মেট্রিকটন পণ্য নিয়ে সরাসরি বন্দরে ভিড়তে পারছে। পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ে ৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বন্দর চ্যানেলের নাব্যতা সাড়ে ১০ মিটার ঘোষণার পরপরই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজ পায়রা বন্দরে পণ্য নিয়ে আসতে শুরু করেছে। এসব জাহাজে আসছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), পেট্রোলিয়াম পণ্য এবং কয়লা।

দিন দিন বন্দরের রাজস্ব আয় বেড়েই চলছে। গত ২ বছরে ৫১৬ কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব আয় হয়েছে। এই সময়ে ১৮৫টি বিদেশি জাহাজ পায়রা বন্দরে ভিড়ে পণ্য খালাশ করেছে। ইপিজেড, এসইজেড, জাহাজ নির্মাণ এবং মেরামত কাজে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

পায়রা সমুদ্রবন্দরের নিরাপত্তা ও তদারকির জন্য ২০৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকায় ২টি পাইলট ভেসেল, ২টি হেভি ডিউটি স্পিডবোট, ১টি বয়া লেইং ভেসেল, ১টি সার্ভে বোট এবং ২টি টাগবোটসহ ৮টি জাহাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। এগুলোর মাধ্যমে বিদেশি জাহাজের আগমন ও প্রস্থান পর্যবেক্ষণ এবং চ্যানেল রক্ষণাবেক্ষণে কাজ করবে। ৪ হাজার ৫১৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রথম টার্মিনালের নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে। ৬ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ছয় লেনের সংযোগ সড়ক নির্মাণ করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)।

পায়রা সমুদ্র বন্দর ঘিরে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। পায়রা বন্দর নির্মাণে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার পাশাপাশি আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন বাসস্থান নির্মাণ করে পুনর্বাসন করা হয়েছে। ৪৮৪ একর ভূমিতে ১৪টি প্যাকেজে মোট ৭টি কেন্দ্রে ৩ হাজার ৪২৩টি বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি বাড়িতে রয়েছে ৩টি বেডরুম, ২টি বাথরুম, ১টি কিচেন ও ১টি বারান্দা।