• 22 Apr, 2024

বিদেশিদের পরিস্থিতি জানাল সরকার

বিদেশিদের পরিস্থিতি জানাল সরকার

মহাসমাবেশ ঘিরে বিএনপি-পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর উদ্ভূত পরিস্থিতি ঢাকার বিদেশি কূটনীতিকদের জানিয়েছে সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেনসহ তিন মন্ত্রী ও এক উপদেষ্টা লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

 কূটনীতিকদের সঙ্গে প্রায় ১ ঘণ্টা বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সহানুভূতি পেতে বিদেশি বন্ধুদের বিভ্রান্ত করছে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন বিষয়টি কূটনীতিকদের কাছে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, ২৮ অক্টোবর বিএনপির তাণ্ডবের ভিডিও দেখে স্তব্ধ হয়ে যান কূটনীতিকরা। তবে বৈঠকে বা বৈঠক শেষে কোনো কূটনীতিক কোনো বক্তব্য রাখেননি। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত কূটনীতিক ব্রিফিংয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীন, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান, দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্ক, স্পেন, সিঙ্গাপুর, কানাডা, জার্মান, ইতালি, ফ্রান্স, রাশিয়া, জাপান, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, ইইউ, জাতিসংঘ, ওআইসি, বিমসটেকসহ ঢাকায় বিদেশি কূটনৈতিক মিশনসহ জাতিসংঘের সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সরকারের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের সঙ্গে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। কূটনীতিকদের সঙ্গে প্রায় ১ ঘণ্টা বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

কূটনীতিকদের ব্রিফিংয়ের সূচনায় লিখিত বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০১৩ সালে সাধারণ নির্বাচনের আগে বিএনপি ও তাদের সহযোগীরা কয়েক হাজার গাড়ি ভাঙচুর করেছিল। অনেক গাড়িতে আগুন দিয়েছিল। গাড়ির ভিতরে আটকে থাকা যাত্রীদের জীবিত পুড়িয়ে মেরেছিল। আহতদের মধ্যে কেউ কেউ এখনো ভয়ানক ক্ষত এবং ট্রমা নিয়ে বেঁচে আছেন। ২০১৩-১৪-১৫ এবং এখনকার দৃশ্যের মধ্যে সম্পূর্ণ মিল লক্ষ্য করেছেন বলেও জানানো হয় ব্রিফিংয়ে। কূটনীতিকদের উদ্দেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সহানুভূতি পাওয়ার জন্য বিএনপি প্রায়ই কূটনৈতিক মিশন এবং আমাদের বিদেশি বন্ধুদের বিভ্রান্ত করে। এবার হঠাৎ করেই আমরা দেখলাম বিএনপির কার্যালয়ে সিনিয়র নেতাদের পাশে বসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের তথাকথিত এক উপদেষ্টা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন। পরে জানা যায় তিনি একজন প্রতারক এবং স্বীকার করেছেন বিএনপি নেতারা তাকে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে প্ররোচিত করেছেন। সংবিধানের আলোকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সময়মতো অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারের দৃঢ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন মন্ত্রী। মোমেন কূটনীতিকদের আরও বলেন, তিন দিন দেশব্যাপী অবরোধের ডাক দিয়েছে বিএনপি। আমরা কেবল নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিকের জীবন ও সম্পত্তির ওপর আক্রমণ আশা করি না। তবে, আইনশৃঙ্খলার দিকটি ছাড়াও হরতাল এবং অবরোধের একটি অর্থনৈতিক ক্ষতির দিকও রয়েছে। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি সূত্র উল্লেখ করে বলেন, বিএনপির হরতাল-অবরোধে সারা দেশে ১ হাজার ৬০০ কোটি (ইউএসডি ১৯২.৩ মিলিয়ন) টাকার ক্ষয়ক্ষতি, যা জিডিপির ০.২ শতাংশ।

প্রায় ১ ঘণ্টা বৈঠকের পর সাংবাদিকদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপির সমাবেশ ঘিরে ওইদিন ঢাকায় যে রাজনৈতিক সহিংসতা সংঘটিত হয়েছে, তা বিদেশি কূটনীতিকদের সরকারের পক্ষ থেকে জানিয়েছি। শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রার নাম নিয়ে বিরোধী দল বিএনপি যেসব সংঘাত-সহিংসতা করেছে আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাই এবং তাদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনা দরকার। তারা গত কয়েক দিনে যা করেছে, তার মূল উদ্দেশ্য হলো নির্বাচন যেন অবাধ ও সুষ্ঠু না হয়। নির্বাচন বানচাল করার জন্য তারা এ ধরনের অপকর্ম করেছে। সহিংসতার ঘটনার পাশাপাশি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বাইডেনের মিথ্যা উপদেষ্টা হিসেবে একজনকে নিয়ে কী কী করা হয়েছে, সেটাও তুলে ধরেছি। বিএনপিকে নির্বাচনে আসার অনুরোধ জানিয়ে ড. মোমেন বলেন, আমরা তাদের অনুরোধ করব, আপনারা নির্বাচনে আসেন। নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন হয়। আমরা আমাদের শাসনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন করব। রাজনৈতিক সহিংসতা করে সরকার পতনের যে চেষ্টা, এটা অলীক।
ব্রিফিংয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিষয়ে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সে ব্যাপারে আমরা কূটনীতিকদের পুনর্ব্যক্ত করেছি। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। কূটনীতিকদের কোনো প্রশ্ন আছে কি না জানতে চাওয়া হয়েছে। তবে তারা ব্রিফিংয়ে কোনো প্রশ্ন করেননি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা ২৮ তারিখে যেসব ঘটনা ঘটেছে, ওইদিন তাৎক্ষণিক যেসব ফুটেজ পাওয়া গেছে; সেগুলো বিদেশি মিশনগুলোতে পাঠিয়েছি। আজকের আবার বিএনপির সহিংসতার ভিডিও ফুটেজ ছবিসহ তাদের নানা ডকুমেন্ট দেখানো হয়েছে। বিদেশি কূটনীতিকদের বক্তব্য কী ছিল জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সহিংসতা, জ্বালাও-পোড়াও, প্রধান বিচারপতির বাসায় হামলা এবং পুলিশ সদস্য হত্যাসহ তাণ্ডবের দৃশ্য বিদেশি কূটনীতিকদের দেখানো হয়েছে। এগুলো দেখে স্তব্ধ হয়ে গেছেন কূটনীতিকরা। এই ভিডিও ফুটেজগুলো গণমাধ্যম থেকেই পাওয়া, গণমাধ্যমকর্মীরাও যে আক্রান্ত হয়েছেন; সেটাও দেখানো হয়েছে তাদের। তাদের কোনো প্রশ্ন ছিল না, তারা শুধু শুনে গেছেন। লিখিতভাবে ও ভিডিও ফুটেজের লিঙ্কও কূটনীতিকদের দেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথাকথিত উপদেষ্টার বিষয়ে শাহরিয়ার আলম বলেন, কথিত মার্কিন উপদেষ্টার জন্য কনসুলার অ্যাক্সেস চেয়েছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস।